Ajker Patrika

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা: রাজধানীতে কঠোরতা দেখিয়ে সারা দেশে বার্তা দিতে চায় পুলিশ

আমানুর রহমান রনি, ঢাকা
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা: রাজধানীতে কঠোরতা দেখিয়ে সারা দেশে বার্তা দিতে চায় পুলিশ
ফাইল ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় আর কোনো ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা দেখতে চায় না সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢাকার কঠোরতা দিয়ে সারা দেশে বার্তা দিতে চায় যে, নির্বাচনে কোনো সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। এ জন্য পুলিশের সব কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক মাঠে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নির্বাচন-পূর্ব সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, সংঘর্ষ কিংবা নাশকতার আশঙ্কা মাথায় রেখে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকাকে ঘিরে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয় ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি।

পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকার চায় নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলুক। তবে কোনো পক্ষ যদি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে কিংবা সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে রাজধানীতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং অতীতে সংঘর্ষ হয়েছে—এমন স্পটগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শাহবাগ, কাকরাইল, প্রেসক্লাব, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড় এবং বাংলামোটর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার বাইরে কোনো সভা সমাবেশ, আন্দোলন করতে দেবে না পুলিশ। গতকাল রোববার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এক বার্তায় সব থানাকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনায় বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অরডিন্যান্সের ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন, বিচারপতি ভবন, জাজেস কমপ্লেক্স, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট, জামে মসজিদ গেট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এর প্রবেশ গেট এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের সামনের এলাকা। এসব স্থানে সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও শোভাযাত্রাসহ সব ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা প্রতিবাদ কর্মসূচির নামে যখন-তখন সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

ঢাকার সব এলাকায় টহল জোরদার করেছে যৌথ বাহিনীসহ সব বাহিনীর সদস্যরা। রাজধানীর তেজগাঁও ও কারওয়ান বাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। ডিএমপির ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটে নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিএমপিতে মোট ২ হাজার ৩১টি কেন্দ্র। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র এবং ৫১৭টি কম ঝুঁকিপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব এলাকায় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সংযত আচরণ করতে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে পে স্কেলের দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারী এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশ আরও কঠোর হয়েছে। এরপর গতকাল রোববার দুপুরে শাহবাগে এক দল শিক্ষার্থী একটি বিক্ষোভ করতে চাইলে, তাদের শাহবাগ মোড়ে আটকে দেয় পুলিশ। মূল সড়কে আসতে দেয়নি তাদের। আগামী দুদিন এভাবেই কঠোর থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ‘যেকোনো অপচেষ্টা’ কঠোর হস্তে দমন করার জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত