নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১৫৩ জন প্রার্থীর কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তাঁদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও লাইসেন্সের বিপরীতে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
বিএনপির ছয়জন ও জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। সর্বোচ্চ পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও তাঁর স্ত্রীর নামে।
লাইসেন্স করা এসব আগ্নেয়াস্ত্র নির্বাচনের আগেই প্রার্থীদের জমা দিতে হবে। প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচনের আগেই জমা দেওয়া হবে বলে এসব আগ্নেয়াস্ত্র ভোটে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেছে, লাইসেন্স থাকা আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই হলফনামায় প্রার্থীরা আয়, সম্পদ, মামলা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি নিজের ও স্বামী/স্ত্রীর নামে লাইসেন্স থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা ও ধরন উল্লেখ করেছেন। আজকের পত্রিকা শুধু মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে। এই বিশ্লেষণে মাইক্রোসফট এক্সেল সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনে মোট ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন আগ্রহীরা। তবে জমা পড়েছে ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৯০ জন এবং স্বতন্ত্র ৪৭৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চার দিনে মোট ৪৬৯ জন প্রার্থী আপিল করেছেন। আজ শুক্রবার আপিলের শেষ দিন। আগামীকাল শনিবার থেকে আপিলের ওপর শুনানি শুরু হবে।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাঁদের ১৫৩ জন লাইসেন্সের বিপরীতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য দিয়েছেন। দলভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বিএনপির প্রার্থীদের, ৯২ জনের। এরপর জাতীয় পার্টির ১২ জনের, জামায়াতে ইসলামীর চারজনের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচজনের, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের দুজনের, গণঅধিকার পরিষদের দুজনের এবং স্বতন্ত্র ২৮ জন প্রার্থীর কাছে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকা অপর আট প্রার্থী অন্যান্য দলের। লাইসেন্সধারীদের মধ্যে ১১ জনের বয়স ৫০ বছরের কম। সর্বকনিষ্ঠ হলেন গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম। তাঁর বয়স ২৮ বছর।
জেলাওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫২ জেলার প্রার্থীদের কাছে লাইসেন্সের বিপরীতে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কুমিল্লা জেলার প্রার্থীদের কাছে। এই জেলার ১২ জন প্রার্থীর কাছে বৈধ অস্ত্র রয়েছে। ঢাকার ১০ জনের, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের আটজন করে, চাঁদপুরের সাতজন, বরিশালের ছয়জন এবং বগুড়া, নরসিংদী, চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রামে পাঁচজন করে প্রার্থীর কাছে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী ১৫৩ জন প্রার্থীর মধ্যে পেশায় ব্যবসায়ী ১০৫ জন। আইনজীবী পাঁচজন, সাবেক সরকারি কর্মচারী তিনজন, রাজনীতিবিদ দুজন, ব্যবসা ও আইনজীবী একজন, কৃষি ও অন্যান্য পেশার একজন, ব্যবসা ও কৃষিতে যুক্ত ১১ জন, ব্যবসা ও সাবেক সরকারি কর্মচারী একজন, রাজনীতি ও ব্যবসায় যুক্ত দুজন, ব্যবসা ও চিকিৎসা পেশার একজন, রাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষকতা ও আইনজীবী—এই চার পেশায় যুক্ত একজন, রাজনীতি ও অন্যান্য পেশার একজন, শিক্ষকতা পেশার দুজন, চিকিৎসক দুজন এবং অন্যান্য পেশার আটজন প্রার্থী রয়েছেন।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা দিতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।
লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র আছে যাঁদের
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও তাঁর স্ত্রীর নামে পাঁচটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। একই দলের কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে রয়েছে লাইসেন্স করা তিনটি অস্ত্র। কুমিল্লা অঞ্চলের বিএনপির প্রায় সব আসনের প্রার্থীর কাছেই লাইসেন্স করা অস্ত্র রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আছে একটি রিভলবার ও একটি শটগান। চাঁদপুর-১ আসনের আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও তাঁর স্ত্রীর রয়েছে চারটি অস্ত্র। নরসিংদী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খানের রয়েছে দুটি দোনলা বন্দুক। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-৪ আসনের প্রার্থী মো. লুৎফুজ্জামান বাবরের রয়েছে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র।
জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। প্রয়োজন হলে নিরাপত্তার জন্য কাছে রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। সরকার ভোটের আগে অস্ত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিলে জমা দেব। এ নিয়ে নির্বাচনে প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।’
জামায়াতে ইসলামীর চারজন প্রার্থীর অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। তাঁরা হলেন টাঙ্গাইল-৬ আসনের এ কে এম আব্দুল হামিদ, ঢাকা-৭ আসনের মো. এনায়াত উল্লা, পিরোজপুর-১ আসনের মাসুদ সাঈদী এবং যশোর-৩ আসনের মো. আব্দুল কাদের। তাঁদের মধ্যে মো. এনায়াত উল্লার রয়েছে একটি শটগান, একটি রিভলবার ও একটি রাইফেল।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী, টাঙ্গাইল-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রুমিন ফারহানা, ভোলা-১ আসনের আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরসহ (জি এম কাদের) আরও কয়েকজন প্রার্থীর লাইসেন্স করা অস্ত্র রয়েছে।
জানতে চাইলে টাঙ্গাইল-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম আব্দুল হামিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, তিনি নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যই আগ্নেয়াস্ত্র রেখেছেন। এর বাইরে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করবেন না। এই অস্ত্র নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলতে ব্যবহার হবে না। সরকারি নির্দেশনা পেলে অস্ত্রটি জমা দেবেন।
সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান। হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। নির্বাচনের আগে প্রার্থী, রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচনে তাঁদের নিরাপত্তার জন্য ‘গানম্যান’ ও ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলা হয়।
নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সরকার ইতিমধ্যে রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করেছে। অনেকেই গানম্যান কিংবা ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের জন্য গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, একজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইতে পারেন। তবে গানম্যান বা দেহরক্ষী দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাঁর মতে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। তবে যাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তাঁর প্রকৃত ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১৫৩ জন প্রার্থীর কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তাঁদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও লাইসেন্সের বিপরীতে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
বিএনপির ছয়জন ও জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। সর্বোচ্চ পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও তাঁর স্ত্রীর নামে।
লাইসেন্স করা এসব আগ্নেয়াস্ত্র নির্বাচনের আগেই প্রার্থীদের জমা দিতে হবে। প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচনের আগেই জমা দেওয়া হবে বলে এসব আগ্নেয়াস্ত্র ভোটে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেছে, লাইসেন্স থাকা আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই হলফনামায় প্রার্থীরা আয়, সম্পদ, মামলা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি নিজের ও স্বামী/স্ত্রীর নামে লাইসেন্স থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা ও ধরন উল্লেখ করেছেন। আজকের পত্রিকা শুধু মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে। এই বিশ্লেষণে মাইক্রোসফট এক্সেল সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনে মোট ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন আগ্রহীরা। তবে জমা পড়েছে ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৯০ জন এবং স্বতন্ত্র ৪৭৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চার দিনে মোট ৪৬৯ জন প্রার্থী আপিল করেছেন। আজ শুক্রবার আপিলের শেষ দিন। আগামীকাল শনিবার থেকে আপিলের ওপর শুনানি শুরু হবে।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাঁদের ১৫৩ জন লাইসেন্সের বিপরীতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য দিয়েছেন। দলভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বিএনপির প্রার্থীদের, ৯২ জনের। এরপর জাতীয় পার্টির ১২ জনের, জামায়াতে ইসলামীর চারজনের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচজনের, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের দুজনের, গণঅধিকার পরিষদের দুজনের এবং স্বতন্ত্র ২৮ জন প্রার্থীর কাছে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকা অপর আট প্রার্থী অন্যান্য দলের। লাইসেন্সধারীদের মধ্যে ১১ জনের বয়স ৫০ বছরের কম। সর্বকনিষ্ঠ হলেন গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম। তাঁর বয়স ২৮ বছর।
জেলাওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫২ জেলার প্রার্থীদের কাছে লাইসেন্সের বিপরীতে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কুমিল্লা জেলার প্রার্থীদের কাছে। এই জেলার ১২ জন প্রার্থীর কাছে বৈধ অস্ত্র রয়েছে। ঢাকার ১০ জনের, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের আটজন করে, চাঁদপুরের সাতজন, বরিশালের ছয়জন এবং বগুড়া, নরসিংদী, চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রামে পাঁচজন করে প্রার্থীর কাছে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী ১৫৩ জন প্রার্থীর মধ্যে পেশায় ব্যবসায়ী ১০৫ জন। আইনজীবী পাঁচজন, সাবেক সরকারি কর্মচারী তিনজন, রাজনীতিবিদ দুজন, ব্যবসা ও আইনজীবী একজন, কৃষি ও অন্যান্য পেশার একজন, ব্যবসা ও কৃষিতে যুক্ত ১১ জন, ব্যবসা ও সাবেক সরকারি কর্মচারী একজন, রাজনীতি ও ব্যবসায় যুক্ত দুজন, ব্যবসা ও চিকিৎসা পেশার একজন, রাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষকতা ও আইনজীবী—এই চার পেশায় যুক্ত একজন, রাজনীতি ও অন্যান্য পেশার একজন, শিক্ষকতা পেশার দুজন, চিকিৎসক দুজন এবং অন্যান্য পেশার আটজন প্রার্থী রয়েছেন।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা দিতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।
লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র আছে যাঁদের
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও তাঁর স্ত্রীর নামে পাঁচটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। একই দলের কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে রয়েছে লাইসেন্স করা তিনটি অস্ত্র। কুমিল্লা অঞ্চলের বিএনপির প্রায় সব আসনের প্রার্থীর কাছেই লাইসেন্স করা অস্ত্র রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আছে একটি রিভলবার ও একটি শটগান। চাঁদপুর-১ আসনের আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও তাঁর স্ত্রীর রয়েছে চারটি অস্ত্র। নরসিংদী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খানের রয়েছে দুটি দোনলা বন্দুক। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-৪ আসনের প্রার্থী মো. লুৎফুজ্জামান বাবরের রয়েছে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র।
জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। প্রয়োজন হলে নিরাপত্তার জন্য কাছে রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। সরকার ভোটের আগে অস্ত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিলে জমা দেব। এ নিয়ে নির্বাচনে প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।’
জামায়াতে ইসলামীর চারজন প্রার্থীর অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। তাঁরা হলেন টাঙ্গাইল-৬ আসনের এ কে এম আব্দুল হামিদ, ঢাকা-৭ আসনের মো. এনায়াত উল্লা, পিরোজপুর-১ আসনের মাসুদ সাঈদী এবং যশোর-৩ আসনের মো. আব্দুল কাদের। তাঁদের মধ্যে মো. এনায়াত উল্লার রয়েছে একটি শটগান, একটি রিভলবার ও একটি রাইফেল।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী, টাঙ্গাইল-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রুমিন ফারহানা, ভোলা-১ আসনের আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরসহ (জি এম কাদের) আরও কয়েকজন প্রার্থীর লাইসেন্স করা অস্ত্র রয়েছে।
জানতে চাইলে টাঙ্গাইল-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম আব্দুল হামিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, তিনি নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যই আগ্নেয়াস্ত্র রেখেছেন। এর বাইরে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করবেন না। এই অস্ত্র নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলতে ব্যবহার হবে না। সরকারি নির্দেশনা পেলে অস্ত্রটি জমা দেবেন।
সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান। হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। নির্বাচনের আগে প্রার্থী, রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচনে তাঁদের নিরাপত্তার জন্য ‘গানম্যান’ ও ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলা হয়।
নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সরকার ইতিমধ্যে রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করেছে। অনেকেই গানম্যান কিংবা ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের জন্য গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, একজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইতে পারেন। তবে গানম্যান বা দেহরক্ষী দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাঁর মতে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। তবে যাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তাঁর প্রকৃত ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন জকসুর ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের নবনির্বাচিতরা। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে জিয়া উদ্যানে কবর জিয়ারত করেন তাঁরা।
৩ মিনিট আগে
গাইবান্ধায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নকলের চেষ্টাকালে ডিভাইসসহ এক পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম পরিমল সরকার। আজ দুপুরে গাইবান্ধা শহরের দারুল হুদা আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে কর্তব্যরত কেন্দ্র পরিদর্শক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ হলে তাঁকে তল্লাশি
৪২ মিনিট আগে
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ পীর-আউলিয়ার দেশ, পীর-আউলিয়ার হাত ধরে ইসলাম এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন অজুহাতে মাজারে আঘাত হানছে, যা মোটেও কাম্য নয়। এসব হামলা নিন্দনীয়।’
৪ ঘণ্টা আগে
আইনি জটিলতায় পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন ‘আপাতত’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই দুই আসনে ভোট গ্রহণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে