Ajker Patrika

একই অপরাধে দুই আইনে ট্রায়াল করা যায় না: মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৩৩
একই অপরাধে দুই আইনে ট্রায়াল করা যায় না: মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সোমবার রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনেই হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই অপরাধে কোনো ব্যক্তিকে দুই আইনে আলাদাভাবে ট্রায়াল বা দুইবার বিচার করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ সোমবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে ব্রিফিং ও দরবার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিজিবি সদর দপ্তরে এটিই মন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় পুলিশ একটি ফৌজদারি মামলা করে। মামলাটির তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেছিল। কিন্তু সেই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া কখনোই সিভিল কোর্ট বা বেসামরিক আদালতে সম্পন্ন হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই তৎকালীন সেনাপ্রধান কর্তৃক গঠিত সামরিক আদালতে (জেনারেল কোর্ট মার্শাল) অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার ও সাজা কার্যকর করা হয়েছিল।

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার দশক পর চলতি জুলাই মাসে মামলার পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর, চট্টগ্রামের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এই মামলাটির নথিপত্র উদ্ধার ও পুনঃতদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে আবেদনও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেনা সদস্যদের বিষয়ে মিলিটারি অ্যাক্ট (সামরিক আইন) প্রযোজ্য এবং কো-একিউজডদের (সহযোগী) বিষয়ে যেটা ট্রায়াল (বিচার) হয়েছে, সেটা সেনা আইনে হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শাল হয়েছে সম্ভবত। সে একই ব্যক্তি, একই কো-একিউজড। তিনি পলাতক ছিলেন। এখন তাঁকে ধরা হয়েছে এবং আমরা সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছি। তাঁরা তাঁদের বিধিমোতাবেক জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠন করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। যদি সিভিল কোর্টের কোনো বিষয় থাকে আইনানুগভাবে, সেটা তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা বলবে।

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সিআইডির তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একই ব্যক্তিকে দুই আইনে আলাদা আলাদাভাবে ট্রায়াল করা যায় না। দুই ভিন্ন আইনে একই অপরাধের জন্য দুইবার ট্রায়াল করা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব বিধিমোতাবেক জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। তবে সিভিল কোর্টের যদি কোনো বিষয় আইনানুগভাবে থেকে থাকে, তবে সেটি পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।’

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে কারা কারা জড়িত এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য ফৌজদারি কোনো মামলা করার সুযোগ আছে কি-না বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অধিকতর তদন্তের কোনো চিন্তাভাবনা আছে কিনা—সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মেজর অবসরপ্রাপ্ত মোজাফফর নামে যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁর অন্য সহযোগীদের যে বিচার সেটা সামরিক আদালতে হয়েছে। তখনকার সময়ে। সেখানে কিছু ফাইন্ডিংস আছে।

তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন ভিন্ন নাম ধারণ করে পার্শ্ববর্তী দেশে পলাতক ছিলেন। এখানে আসার পরে আমরা যখন জানতে পেরেছি আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার ইনফরমেশনের ভিত্তিতে, তাঁকে আমরা গ্রেপ্তার করে সেনা আইনেই বিচার করার জন্য আমরা সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছি। জেনারেল কোর্ট মার্শাল করে সম্ভবত তাঁর বিচারটা নিষ্পন্ন হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগে যারা একই মামলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যা মামলায় কনভিক্টেড হয়েছে বা এক্সিকিউটেড হয়েছে, সেই রায় অনুসারে তার মধ্যে তাঁর বিষয়ে কোনো ফাইন্ডিংস আসে কিনা সেটা সেই জেনারেল কোর্ট মার্শাল দেখবে সেই আইনে। এখানে আমাদের সিভিল ল-তে তাঁকে এখন আবার মামলায় অন্তর্ভুক্ত করাটা কতটা আইনসম্মত হবে সেটা তখন দেখা যাবে। এখন না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত