Ajker Patrika

কড়াইল বস্তিসহ ৫৮ স্থানে নির্মাণ করা হবে ১ লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট: সংসদে মন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ১৫: ২৮
কড়াইল বস্তিসহ ৫৮ স্থানে নির্মাণ করা হবে ১ লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট: সংসদে মন্ত্রী
মঙ্গলবার কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে ঘরবাড়ি-দোকান পুড়ে এখন নিঃস্ব খাদিজা বেগম। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন-সংকট দূর করতে ঢাকার কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি স্থানে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বে ১ লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ফেরাতে ‘শুদ্ধি অভিযান’ এবং আগামী আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ বহুল প্রতীক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ-সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

১ লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট ও আবাসন পরিকল্পনা

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২-২০৩৫ অনুযায়ী ঢাকার কড়াইল বস্তিসহ ৫৮টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) ১ লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ৯৮ একর জমিতে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন পৌর এলাকার ৩৭টি বস্তির মানুষের উন্নত আবাসন নিশ্চিতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পদ্মা আবাসিক এলাকায় ১৬টি ফ্ল্যাট এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হরিণটানা মৌজায় ৮ একর জমিতে ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। চট্টগ্রামের সল্টগোলা এলাকায় চউকের জমিতে মাসিক ভাড়াভিত্তিক আবাসন প্রকল্পও বিবেচনাধীন।

‘শুদ্ধি অভিযান’

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, বিগত বছরগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা প্রদানে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃত দুস্থ, অসচ্ছল ও যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করতে এবং ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে দেশজুড়ে একটি “শুদ্ধি অভিযান” ও ডেটাবেইস যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ এ লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি পুনঃযাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতের প্রস্তাবিত নতুন ভাতা কাঠামোর (২০২৬-২৭ অর্থবছর) কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে,

বয়স্ক ভাতা: চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ৬১ লাখ উপকারভোগী প্রতি মাসে ৬৫০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, যার মোট বাজেট বরাদ্দ ৪ হাজার ৭৯১ কোটি ৩১ হাজার টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৬২ লাখ এবং মাসিক ভাতা ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় এই খাতের জন্য ৫ হাজার ২৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা: বর্তমানে ২৯ লাখ সুবিধাভোগীকে প্রতি মাসে ৬৫০ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এই সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ লাখ এবং ভাতার পরিমাণ মাসিক ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই খাতের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৫৩৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

প্রতিবন্ধী ভাতা: প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতার পরিমাণ মাসিক ৯০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৮ লাখ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য সর্বমোট বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এ ছাড়া দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারীপ্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ সংশোধন করে শাস্তি ও জরিমানার মেয়াদ পুনর্বিন্যাস করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত