
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। চিঠিতে তিনি ড. ইউনূসের আসন্ন লন্ডন সফর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি হাউস অব কমন্সে মধ্যাহ্নভোজ বা বিকেলের চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ উল্লেখ করে তা নিরসনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
চিঠির ভাষা থেকে স্পষ্ট, টিউলিপ সিদ্দিক এই সাক্ষাৎকে কেবল শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, বরং একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগকে ‘কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করছেন। একইসঙ্গে ড. ইউনূসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি এই ভুল বোঝাবুঝি দূর করার একটি কূটনৈতিক পথ খুঁজছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
চিঠিটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি রাজনীতিতে। এখন দেখার বিষয়, ড. ইউনূস এই আমন্ত্রণে সাড়া দেন কিনা এবং দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির এই সাক্ষাৎ আদৌ হয় কি না। নিম্নে টিউলিপ সিদ্দিকের ৪ জুন ২০২৫ তারিখে লেখা চিঠির হুবহু বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো—
প্রিয় প্রফেসর ইউনূস,
আমি জানতে পেরেছি, আপনি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি সফরে লন্ডন আসতে পারেন। এ উপলক্ষে আমি আপনাকে আন্তরিক স্বাগত জানাচ্ছি। যুক্তরাজ্যের একজন সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী হিসেবে আমি সবসময় আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি সুদৃঢ় ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি—বিশেষ করে লন্ডনের বিশাল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের কারণে, যার অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। আপনার সফরের সফলতা কামনা করছি।
এখানে অবস্থানকালে আমি আপনাকে হাউস অব কমন্সে মধ্যাহ্নভোজ অথবা বিকেলের চায়ের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। জনসেবার প্রতি আমাদের দুজনেরই আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতি আছে এবং বর্তমান সময়টি আইনের শাসন, সুশাসন ও যথাযথ প্রক্রিয়া রক্ষাকারীদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এবিষয়ে আপনার অভিমত জানতে আমার আগ্রহ আছে। আমি যখন ট্রেজারি বিভাগের ইকোনমিক সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম, তখন থেকেই আপনার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ড আমার আগ্রহের বিষয় ছিল।
এই সাক্ষাৎ হয়তো সেই ভুল বোঝাবুঝি দূর করতেও সহায়ক হতে পারে, যা ঢাকার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে যে, আমার খালা (বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কাছ থেকে কিছু প্রশ্নের জবাব দরকার। আমি যুক্তরাজ্যের নাগরিক, লন্ডনে জন্মেছি এবং গত এক দশক ধরে হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে আসছি। বাংলাদেশে আমার কোনো সম্পত্তি বা ব্যবসায়িক স্বার্থ নেই। বাংলাদেশ আমার হৃদয়ের কাছে প্রিয়, তবে সেটি আমার জন্মস্থান নয়, আমি সেখানে থাকি না এবং আমার পেশাগত জীবনও সেখানে গড়ে ওঠেনি।
আমি এ বিষয়ে দুদককে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা লন্ডনে আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগে আগ্রহ দেখায়নি। বরং, নির্বিচারে ঢাকার একটি ঠিকানায় চিঠিপত্র পাঠাচ্ছে। এই কাল্পনিক তদন্তের প্রতিটি পদক্ষেপ গণমাধ্যমে ফাঁস করা হচ্ছে, অথচ আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। আমি নিশ্চিত, আপনি বুঝতে পারবেন— এইসব প্রতিবেদন যেন আমার নির্বাচনী এলাকা ও দেশের জন্য আমার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পথে বিঘ্ন না ঘটায়, তা নিশ্চিত করাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিভ্রান্তি দূর করতে আপনার সহায়তা পেলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব। আমাদের সাক্ষাতের আগে আমি চাইলে দুদককে দেওয়া আমার আইনজীবীদের বিস্তারিত জবাব আপনাকে শেয়ার করতে পারি।
চাইলে আপনাকে আমি আপনাকে পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার–এর প্রতিবেদনটিও পাঠাতে পারি, যেখানে গত বছর আমাকে সব অভিযোগ থেকে খালাস ঘোষণা করা হয়েছিল।
আপনার ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যে ওয়েসমিন্সটারে কখন আমাদের সাক্ষাৎ সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে, তা দয়া করে জানান। আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রইলাম।
শুভকামনায়,
টিউলিপ সিদ্দিক এমপি
হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট আসনের সংসদ সদস্য
আরো পড়ুন—

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। চিঠিতে তিনি ড. ইউনূসের আসন্ন লন্ডন সফর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি হাউস অব কমন্সে মধ্যাহ্নভোজ বা বিকেলের চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ উল্লেখ করে তা নিরসনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
চিঠির ভাষা থেকে স্পষ্ট, টিউলিপ সিদ্দিক এই সাক্ষাৎকে কেবল শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, বরং একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগকে ‘কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করছেন। একইসঙ্গে ড. ইউনূসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি এই ভুল বোঝাবুঝি দূর করার একটি কূটনৈতিক পথ খুঁজছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
চিঠিটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি রাজনীতিতে। এখন দেখার বিষয়, ড. ইউনূস এই আমন্ত্রণে সাড়া দেন কিনা এবং দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির এই সাক্ষাৎ আদৌ হয় কি না। নিম্নে টিউলিপ সিদ্দিকের ৪ জুন ২০২৫ তারিখে লেখা চিঠির হুবহু বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো—
প্রিয় প্রফেসর ইউনূস,
আমি জানতে পেরেছি, আপনি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি সফরে লন্ডন আসতে পারেন। এ উপলক্ষে আমি আপনাকে আন্তরিক স্বাগত জানাচ্ছি। যুক্তরাজ্যের একজন সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী হিসেবে আমি সবসময় আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি সুদৃঢ় ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি—বিশেষ করে লন্ডনের বিশাল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের কারণে, যার অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। আপনার সফরের সফলতা কামনা করছি।
এখানে অবস্থানকালে আমি আপনাকে হাউস অব কমন্সে মধ্যাহ্নভোজ অথবা বিকেলের চায়ের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। জনসেবার প্রতি আমাদের দুজনেরই আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতি আছে এবং বর্তমান সময়টি আইনের শাসন, সুশাসন ও যথাযথ প্রক্রিয়া রক্ষাকারীদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এবিষয়ে আপনার অভিমত জানতে আমার আগ্রহ আছে। আমি যখন ট্রেজারি বিভাগের ইকোনমিক সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম, তখন থেকেই আপনার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ড আমার আগ্রহের বিষয় ছিল।
এই সাক্ষাৎ হয়তো সেই ভুল বোঝাবুঝি দূর করতেও সহায়ক হতে পারে, যা ঢাকার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে যে, আমার খালা (বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কাছ থেকে কিছু প্রশ্নের জবাব দরকার। আমি যুক্তরাজ্যের নাগরিক, লন্ডনে জন্মেছি এবং গত এক দশক ধরে হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে আসছি। বাংলাদেশে আমার কোনো সম্পত্তি বা ব্যবসায়িক স্বার্থ নেই। বাংলাদেশ আমার হৃদয়ের কাছে প্রিয়, তবে সেটি আমার জন্মস্থান নয়, আমি সেখানে থাকি না এবং আমার পেশাগত জীবনও সেখানে গড়ে ওঠেনি।
আমি এ বিষয়ে দুদককে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা লন্ডনে আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগে আগ্রহ দেখায়নি। বরং, নির্বিচারে ঢাকার একটি ঠিকানায় চিঠিপত্র পাঠাচ্ছে। এই কাল্পনিক তদন্তের প্রতিটি পদক্ষেপ গণমাধ্যমে ফাঁস করা হচ্ছে, অথচ আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। আমি নিশ্চিত, আপনি বুঝতে পারবেন— এইসব প্রতিবেদন যেন আমার নির্বাচনী এলাকা ও দেশের জন্য আমার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পথে বিঘ্ন না ঘটায়, তা নিশ্চিত করাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিভ্রান্তি দূর করতে আপনার সহায়তা পেলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব। আমাদের সাক্ষাতের আগে আমি চাইলে দুদককে দেওয়া আমার আইনজীবীদের বিস্তারিত জবাব আপনাকে শেয়ার করতে পারি।
চাইলে আপনাকে আমি আপনাকে পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার–এর প্রতিবেদনটিও পাঠাতে পারি, যেখানে গত বছর আমাকে সব অভিযোগ থেকে খালাস ঘোষণা করা হয়েছিল।
আপনার ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যে ওয়েসমিন্সটারে কখন আমাদের সাক্ষাৎ সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে, তা দয়া করে জানান। আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রইলাম।
শুভকামনায়,
টিউলিপ সিদ্দিক এমপি
হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট আসনের সংসদ সদস্য
আরো পড়ুন—

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখে অতীতের বিতর্কিত ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠতে চায় পুলিশ। কিন্তু ভোটের দিন স্বাধীন ও চাপমুক্তভাবে দায়িত্ব পালন করা যাবে কি না, তা নিয়ে বাহিনীর ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের ভীতি-শঙ্কা।
৭ ঘণ্টা আগে
নির্বাচন ডাকাতি যাতে আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল সোমবার জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এমন মন্তব্য করেন তিনি।
৮ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সময়, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থিত যেকোনো পেশাজীবী সংগঠন বা অন্য কোনো সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
৯ ঘণ্টা আগে
ফিলিস্তিনের গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি কয়েকটি শর্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ সোমবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
১০ ঘণ্টা আগে