Ajker Patrika

নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ১২: ৪৪
নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউসের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা এগিয়ে নিতে জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন-এর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউসের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৈঠকে দুই পক্ষই লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি বিনির্মাণে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্জন ও নীতিগত অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কথা, যাঁর মেয়াদে দেশে প্রথম মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়েছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মেয়েদের শিক্ষাক্ষেত্রে নেওয়া নানামুখী উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

বাংলাদেশ সরকারের এই নীতিগত অবস্থানকে টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক মডেল হিসেবে বৈঠকে বর্ণনা করা হয়।

‘নারীর সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল সামাজিক অগ্রগতির সূচক নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সহনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।’
— শামা ওবায়েদ ইসলাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ।

বৈঠকে ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউস নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অভাবনীয় অগ্রগতির প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশ নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।

সিমা বাহাউস বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারী পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তাদের অসামান্য সাহসিকতা এবং অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনায় কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকটটি গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশেষ করে রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুদের মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে প্রত্যাবাসনে ইউএন উইমেনসহ জাতিসংঘের সব সংস্থাকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত