
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়াকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, খসড়া আইনে এমন কিছু বিধান রাখা হয়েছে, যা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে পুনরায় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অকার্যকর ও ‘ঠুটো জগন্নাথ’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে কমিশনকে সরকার বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল করার বিধানকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
আজ মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবি এসব কথা জানিয়েছে।
২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পরিবর্তন করে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে অধ্যাদেশ জারি করে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে। এরপর এখন নতুন আইনের একটি খসড়া তৈরি করেছে।
টিআইবি বিবৃতিতে জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে কমিশনকে গুম, খুনসহ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার এখতিয়ারও ছিল। কিন্তু নতুন খসড়ায় ২০০৯ সালের বিতর্কিত ১৮ ধারা প্রায় হুবহু ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়া আইনে কমিশনকে আবারও সরকার বা বাহিনী প্রধানের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কার্যকরভাবে তদন্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে। অতীতে গুম-খুনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু ঘটনায় বাহিনীর একাংশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। সেক্ষেত্রে এই ধরনের বিধান মূলত দায়ীদের সুরক্ষা দেবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ২০০৯ সালের আইনের দুর্বলতার কারণেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কখনো ‘এ’ ক্যাটাগরির মর্যাদা পায়নি। অথচ নতুন করে সেই একই ধরনের সীমাবদ্ধতা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
খসড়া আইনের ১৩ ধারা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, কমিশনকে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা বা সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য আটকস্থান, যেখানে গুম বা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের রাখা হতে পারে–সেসব স্থান পরিদর্শন, অনুসন্ধান ও তদন্তের সুযোগও বাতিল করা হয়েছে। টিআইবির ভাষ্য, এটি মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পশ্চাদপসরণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত কর্তৃত্ববাদী আমলে দেশবাসী এবং বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, সেই অভিজ্ঞতা থেকেও সরকার শিক্ষা নেয়নি। গত ১৭ মে মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশনের আইনের বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা সূত্রে পাওয়া খসড়ায় সেই প্রবণতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। খসড়ায় বাছাই কমিটিতে স্পিকার, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। টিআইবির মতে, এতে কমিশনের ওপর সরকারের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এ ছাড়া আগের অধ্যাদেশে কমিশনকে ‘সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন হইবে না’ বলে যে স্পষ্ট ভাষা ছিল, তা বাদ দেওয়ার সমালোচনা করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে ‘যোগ্য প্রার্থী’ পাওয়ার শর্ত যুক্ত করায় কমিশনকে ‘পুরুষতান্ত্রিক’ ও ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতান্ত্রিক’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
কমিশনের মোট জনবলের ৩০ শতাংশ প্রেষণে নিয়োগ এবং চাকরিরত সরকারি কর্মকর্তাকে ছুটিতে কমিশনার হিসেবে নিয়োগের সুযোগ রাখার সমালোচনাও করেছে সংস্থাটি। টিআইবির মতে, এতে কমিশন আবারও আমলাতান্ত্রিক ও সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
সংস্থাটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নির্বাচনী ইশতেহারে মানবাধিকার সুরক্ষার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিতর্কিত ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করে একটি কার্যকর, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে উদ্যোগ নিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। সেই সঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাবে মারা যাওয়া শিশুদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া...
২ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।
২ ঘণ্টা আগে
২০ জুলাই রাতে হাসপাতাল থেকে কিছু লোক তাঁকে জোর করে বের করে দেন। কারণ, সেদিন আওয়ামী লীগের লোকজন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হুমকি দিয়েছিলেন, ‘তাদের গুলি করা হয়েছে, মরেনি; ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।’ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও তাঁকে দেওয়া হয়নি...
২ ঘণ্টা আগে
পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাল-বিল ও নদীদূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য বাড়ির মালিকদের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। পরিবেশ ও জলবায়ুসংকট মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে