
জাতীয় সংসদে দেখে দেখে বক্তব্য দেওয়া অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদ সদস্যদের না দেখে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস করার অনুরোধ করেন।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ বিন সাঈদী ও ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য অলি উল্লাহকে উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দুজন সংসদ সদস্য কাগজ দেখে পুরো বক্তব্য দেন।
মাসুদ বিন সাঈদীকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিনয়ের সঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সংসদে দেখে দেখে পড়া অ্যালাউড না। আপনি নোট রাখবেন। একবার তাকিয়ে হাউসের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন। এটাই আশা করি, এটাই সংসদের রেওয়াজ।’
অলি উল্লাহকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, ‘আপনিও আপনার পূর্ববর্তী বক্তার মতো দেখে দেখে পড়েছেন। সংসদে এটা অ্যালাউড না। সংসদে না দেখে বলার অভ্যাস করেন। এটা সংসদের রেওয়াজ। সকলের মান্য করা উচিত।’
সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী লিখিত বক্তব্য পাঠ করার আগে স্পিকারের পূর্বানুমতি নিতে হয়।
এর আগে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, পিরোজপুরের মানুষ শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে তাকে নির্বাচিত করে যে আমানত দিয়েছেন, তার সর্বোচ্চ মর্যাদা তিনি আজীবন রক্ষা করবেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁর পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আদর্শকে সমুন্নত রেখে এলাকায় উন্নয়ন ও দেশে ইনসাফ কায়েমের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
মাসুদ সাঈদী ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ সব শহীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘তথাকথিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালে মিথ্যাচারের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া আমার সম্মানিত পিতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ ইসলামি আন্দোলনের অসংখ্য নেতা-কর্মীর রক্তস্নাত ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এই সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।’
শিক্ষা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, দেশে ইনসাফ কায়েম করতে হলে দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। গত ১৫ বছরে কেবল সড়ক ও জনপথ বিভাগেই ৫২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লুটপাট হয়েছে বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও শুল্কমুক্ত গাড়ি বর্জনের সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় জনমনে বিভ্রান্ত তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন জামায়াতের এমপি মাসুদ বিন সাঈদী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জুলাই সনদে বিশ্বাসী কি না, গণ-অভ্যুত্থানের গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না, জনগণের প্রত্যাশামতো সংবিধান সংস্কার করে নতুন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে কি না জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমরা আশা করি, গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন।’
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন জুলাই আবেগ নয়, আবেগ দিয়ে রাষ্ট্র চলে না। এ বক্তব্যের সমালোচনা করে মাসুদ বিন সাঈদী বলেন, জুলাই আবেগ নয়, কথাটি সত্য। কিন্তু জুলাই আবেগ, একই সঙ্গে বাস্তবতা। আবেগ বলে জুলাইকে খাটো করে রাখার সুযোগ নেই।
মাসুদ বিন সাঈদী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই আইনও না, অধ্যাদেশও না। কিন্তু সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সব অধ্যাদেশই আইন। এ মন্তব্যটি দায়িত্বশীল হয়নি। ভবিষ্যতে তিনি দায়িত্বশীল হবেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে চাইলে বিনয়ের সঙ্গে তা গ্রহণ না করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান নবনিযুক্ত মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আযম খান। আজ রোববার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই দৃশ্যের অবতারণা হয়।
২ ঘণ্টা আগে
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাজীপুরের ৪৫ থেকে ৫০ লাখ তৈরি পোশাক ও অন্যান্য খাতের শ্রমিক এবার ভয়াবহ পরিবহন সংকটে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
২ ঘণ্টা আগে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬-এ অংশ নিতে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দুই দিনব্যাপী (১৬-১৭ মার্চ) এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ কার্যালয় (ইউএনওডিসি) এবং পুলিশের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারপোল।
৩ ঘণ্টা আগে