Ajker Patrika

দেশের স্বার্থ বিক্রি করে ক্ষমতায় থাকার প্রবণতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন: অর্থমন্ত্রী

ঢাবি প্রতিনিধি
দেশের স্বার্থ বিক্রি করে ক্ষমতায় থাকার প্রবণতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে রোববার আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশের স্বার্থ বিক্রি করে ক্ষমতায় টিকে থাকার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা একপর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই; দেশের সবকিছুর আগে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ ও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই—এই চিন্তা থেকেই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান।

আজ রোববার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান-২০২৬ ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের কারাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘৫ তারিখে (৫ আগস্ট ২০২৪) আমি তখন জেলখানায়। এর আগে বহুবার জেলে গিয়েছি, জেল থেকে বের হয়েছি। কিন্তু এবার (জুলাইয়ে) যখন জেলে নিয়ে গেল, আমার কাছে মনে হয়েছে আমার আর বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

অর্থমন্ত্রী জানান, সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যা ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কেন্দ্রের আগুন দেওয়ার মতো মামলা দেওয়া হয়েছিল। জেলে থাকা অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকা, চিকিৎসার অভাব এবং বন্দীদের ওপর কঠোরতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জুলাইয়ের শেষ পর্যায়ের পরিস্থিতি বর্ণনা করে আমীর খসরু বলেন, জেলখানায় থাকা অবস্থায় বাইরে কী ঘটছে, সে বিষয়ে তাঁরা কোনো তথ্য পাচ্ছিলেন না। হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন—এমন খবর পাওয়ার পর কারাগারে থাকা হাজারো বন্দীর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘পুরো জেলখানায় ৮-১০ হাজার লোকের স্লোগান। মনে হয় সব বিল্ডিং উড়ে যাবে ওদের স্লোগানে।’

এ সময় বন্দীদের শান্ত করার জন্য কারাগার কর্তৃপক্ষ তাঁকে অনুরোধ করেন জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, তিনি হ্যান্ডমাইক নিয়ে বিভিন্ন ভবনের সামনে গিয়ে বন্দীদের শান্ত করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘জেল ব্রেক করার প্রয়োজন নেই। ইনশাআল্লাহ ফ্যাসিস্ট চলে যাচ্ছে, আমরা সবাই একসঙ্গে জেল থেকে বের হব।’

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষের ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন আমাদের লক্ষ্য।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। এত মানুষের এত স্যাক্রিফাইসের পর আমরা যেখানে এসেছি, প্রত্যাশা খুব স্বাভাবিক।’

অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়; অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘রাজনৈতিক গণতন্ত্র সফল হতে হলে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও করতে হবে।’

আমীর খসরু বলেন, দেশের কামার, কুমার, তাঁতি, কুটিরশিল্পী, শিল্পী, অভিনেতা, গায়ক ও ক্রীড়াবিদদের অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিক্রির প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বক্তব্যে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ ও ‘স্পোর্টস ইকোনমি’র ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, অর্থনীতির বাইরে থাকা মানুষদের নতুন সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ‘জুলাই কোনো ব্যক্তির নাম নয়, কোনো দলের নাম নয়। এই জুলাই আমাদের বাংলাদেশের সবার অর্জন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে একটি রাজনৈতিক দল, দুই-একটি রাজনৈতিক দল কথায় কথায় শুধু জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা এই ব্যবসা থেকে দূরে সরে আসতে চাই।’

আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চায়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি একটি সহনশীল, ধৈর্যশীল ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে।’

অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত