Ajker Patrika

যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: প্রধানমন্ত্রী

বাসস, ঢাকা 
আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ১৯
যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আজ সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পয়লা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দিনটি আমাদের জীবনে প্রতিবছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে; নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।’

আগামীকাল মঙ্গলবার ‘পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পয়লা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এই অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তাঁর ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করেন। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পয়লা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদের ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোয় এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক সবার প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে তিনি আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত