Ajker Patrika

অর্থায়ন সংকটে পরিবেশের নতুন সরকারি প্রকল্প বন্ধ: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ০৯
অর্থায়ন সংকটে পরিবেশের নতুন সরকারি প্রকল্প বন্ধ: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার ‘বায়ু-শব্দ-দৃষ্টি-পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ: প্রতিকার কত দূর?’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

অর্থায়ন সংকটে পরিবেশ নিয়ে নতুন করে কোনো সরকারি প্রকল্প হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তবে আগের প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর কাজ ৫০ শতাংশের বেশি এগিয়েছে, সেগুলো চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর যেগুলোর কাজ ৩০ শতাংশের কম ছিল, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উদ্যোগে ‘বায়ু-শব্দ-দৃষ্টি-পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ: প্রতিকার কত দূর?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার চাচ্ছে, সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করার জন্য। কারণ, আমাদের ফান্ডিংয়ের সমস্যা আছে। আমাদের সক্ষমতার ক্ষেত্রেও মারাত্মক সমস্যা।’

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে অনেক ধরনের প্রকল্প ছিল। এখন নতুন করে কোনো প্রকল্প সরকারি টাকা দিয়ে হচ্ছে না। আগের প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর কাজ ৩০ শতাংশের কম ছিল, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর যেগুলোর কাজ ৫০ শতাংশের ওপরে হয়েছে, সেগুলো চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পরিবেশকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রকল্প চলছে। এ বছর ইতিমধ্যে ৩ কোটি ৫ লাখের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট।’

দ্রুত এটি মোকাবিলায় নিয়মিত ব্র্যান্ডিং করতে হবে। বর্জ্য নিয়ে কেউ বাণিজ্য করলে বা বিষয়টি চিহ্নিত করা গেলে সেটি সমাধান করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কোনো দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না জানিয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দূষণ কমানোর উৎসগুলো চিহ্নিত করে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিদিনের অভিযানগুলোর ছবি ও তালিকা তিনি পান এবং এসব কাজের নিয়মিত আপডেট নেন।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ নিয়ে আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গাছ কাটা, পাহাড় কাটা, নদীদূষণ, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, এমনকি দৃষ্টিদূষণ নিয়েও প্রধানমন্ত্রী তাঁকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও দৃষ্টিদূষণ কমাতে রাত ১২টার পর বিলবোর্ড বন্ধ করার প্রস্তাবও দেন তিনি। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দৃষ্টিদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং প্রাণ-প্রকৃতিও কিছু সময় নীরবতা পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পলিথিনের বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে। ফলের দোকান, গ্রোসারি, মুদিদোকান ও কাঁচাবাজারের বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব। তবে মাছের বাজার বা যেখানে রক্ত ঝরে, সেখানে স্বল্প পরিমাণে পচনশীল পলিথিন ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্তত যেন সলিড পলিথিন থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি।’

এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, মানুষ ৭০ শতাংশ পার্টিকেল বায়ুর মাধ্যমে শরীরে গ্রহণ করছে। এর ফলে দেখা যায়, প্রায় প্রত্যেক মানুষের কাশি লেগেই আছে কিছুদিন পরপর। যেটা অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েও যায় না। দৃষ্টিদূষণের কারণে অনেকে মানসিক রোগীতে পরিণত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মানসিক রোগীর ৭০ ভাগ রোগীর কোনো কারণ ধরা পড়ে না। তিনি পে-পলিউটার নীতি বাস্তবায়ন ও ট্রান্সবাউন্ডারি আইন কার্যকর করার জন্য রিজিওনাল কো-অপারেশনের জোর দাবি জানান।

সেমিনারে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহসভাপতি এম ফিরোজ আহমেদ ও নির্বাহী সদস্য আহসান রনি। বায়ু ও শব্দদূষণ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার।

বাপার সভাপতি ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির। এতে আরও আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং বাপার নির্বাহী সদস্য ও নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত