Ajker Patrika

দেশে সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: জাহেদ উর রহমান

বাসস, ঢাকা  
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৫৩
দেশে সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: জাহেদ উর রহমান
প্রতীকী ছবি

দেশে সারের কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি আরও বলেন, ক্ষেত্রবিশেষে বিতরণপ্রক্রিয়ার কিছু সমস্যা আছে, এই সাময়িক সমস্যা দূর করতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কৃষকদের যেন কোনো ভোগান্তি না হয়, সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রচুর সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ ১৫ হাজার টন সার ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুতের তথ্য দিয়ে উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া ৪ দশমিক ৮২ লাখ টন, টিএসপি ৩ দশমিক ৬৯ লাখ টন, ডিএপি ৩ দশমিক ৬৮ লাখ টন, এমওপি ১ দশমিক ৪৬ লাখ টনসহ মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সারের মজুত সংরক্ষিত রয়েছে।

এর পাশাপাশি আরও বিপুল পরিমাণ সার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানির অপেক্ষায় ও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিতরণব্যবস্থার অসংগতি ও কিছু স্থানে সাময়িক সংকট নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার কৃষক ও জনগণের স্বার্থে বিতরণব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তন আনছে। কিছু ডিলার সময়মতো বরাদ্দ করা সার না তোলায় যে সাময়িক অস্থিরতা দেখা গেছে, তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বদলি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ সার পরিবহন সম্পন্ন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা ও এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তার ঝুঁকি সামনে রেখে সরকার দেশকে খাদ্যনিরাপত্তার বলয়ে রাখতে আগেভাগেই সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সুনিশ্চিত করছে।

ব্রিফিংয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের হালনাগাদ অগ্রগতিও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

উপদেষ্টা জানান, সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটালি ৪৬৪টি এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নামে ১৫৭টি অসত্য ও অপতথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্যানেল আইনজীবী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দ্রুতই অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, পিআইবির ‘বাংলা ফ্যাক্ট’ প্রকল্পকে ‘নিউ মিডিয়া প্রজেক্ট’-এর আওতায় আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ মাল্টিরোল কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও আধুনিক ইউএভি সিস্টেম ক্রয়ের আলোচনা চলছে।

উপদেষ্টা জানান, শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘ চার বছরের জমে থাকা অবসর কল্যাণ ভাতার ২০৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা সরাসরি ৬৪ জেলার শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে। পাশাপাশি ৪১ লাখ পরিবারের জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সর্বজনীন ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক বহুগুণ প্রভাব তৈরি করবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত