Ajker Patrika

বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারি হস্তক্ষেপে সতর্ক করল আয়াটা

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ২৫
বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারি হস্তক্ষেপে সতর্ক করল আয়াটা

বাংলাদেশে বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আয়াটা)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ভাড়ায় রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এতে যাত্রীদের খরচ বৃদ্ধি, আকাশপথের সংযোগ দুর্বল হওয়া এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

১৪ জানুয়ারি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে আয়াটা এই উদ্বেগের কথা জানায়। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চিঠিতে আয়াটা উল্লেখ করে, প্রস্তাবিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ ’-এর ৪৩এ ধারায় এয়ারলাইনগুলোর ভাড়া-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়ার যে বিধান রাখা হয়েছে, তা পরোক্ষভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণের পথ খুলে দিতে পারে। সংস্থাটি জানতে চেয়েছে, এই ভাড়া জমার ব্যবস্থা কেবল তথ্য সংগ্রহের জন্য, নাকি তা ব্যবহার করে ভাড়া নির্ধারণ বা সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হবে।

আয়াটা আরও বলেছে, যদি এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাড়ায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, তবে তা মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিপন্থী হবে এবং এয়ারলাইন-শিল্পের স্বাভাবিক বাজারের গতিশীলতা ব্যাহত করবে। এতে এয়ারলাইনগুলোর বাণিজ্যিক টেকসইতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ বিশ্বের প্রায় ৩৬০টি এয়ারলাইনের প্রতিনিধিত্বকারী আয়াটা জোর দিয়ে বলেছে, উচ্চ স্থায়ী ব্যয়, জ্বালানির অস্থির মূল্য এবং যাত্রীচাহিদার ওঠানামা সামাল দিতে এয়ারলাইনগুলোর ভাড়া নির্ধারণে স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি।

সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সত্তরের দশকের শেষ দিকে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে নিয়ন্ত্রণমুক্ত ব্যবস্থা (ডিরেগুলেশন) চালুর পর থেকে প্রকৃত অর্থমূল্যে গড় বিমানভাড়া অর্ধেকের বেশি কমেছে। বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণই দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

আয়াটা সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেয়, তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এতে এয়ারলাইনগুলোর বিনিয়োগে আগ্রহ কমবে, আসনসংখ্যা হ্রাস পাবে এবং শেষ পর্যন্ত আয় ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ন্যূনতম ভাড়া আরও বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি কম যাত্রীঘন বা প্রান্তিক রুটগুলো অলাভজনক হয়ে পড়ায় দ্বিতীয় সারির শহরগুলোর সঙ্গে বিমান যোগাযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আয়ের চাপ বাড়লে সেবার মান অবনতির ঝুঁকিও তৈরি হবে।

ভাড়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিমান খাতে বিভিন্ন চার্জ ও লেভি নির্ধারণে ‘অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আয়াটা। সংস্থাটি বলেছে, এসব চার্জ নির্ধারণ অবশ্যই আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নীতিমালা অনুযায়ী ব্যয়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন এবং শিল্প খাতের অংশীজনদের সঙ্গে অর্থবহ পরামর্শের মাধ্যমে হতে হবে।

চিঠির শেষাংশে আয়াটা সরকারকে প্রস্তাবিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক বিমান পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে বাংলাদেশে এয়ারলাইনগুলোর বাণিজ্যিক স্বাধীনতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত