Ajker Patrika

নির্বাচিতদের থেকে সংরক্ষিত আসনের এমপিরা শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে: টিআইবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৩৮
নির্বাচিতদের থেকে সংরক্ষিত আসনের এমপিরা শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে: টিআইবি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের থেকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে রয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের মধ্যে ৬৫ শতাংশই কোটিপতি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ৪৯ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে আজ বৃহস্পতিবার গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে বিএনপির ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২, স্বতন্ত্র জোটের একজনসহ মোট ৪৯ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

টিআইবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ কোটিপতি এবং ৬৩ শতাংশের বেশি প্রার্থী স্নাতকোত্তর বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন।

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীরা শিক্ষাগত যোগ্যতায় সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে স্নাতকোত্তর ও তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী প্রার্থীর হার ৬৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে স্নাতকোত্তর ও তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী প্রার্থীর হার ৫০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

সার্বিকভাবে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনসহ সব সদস্যের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬৩ শতাংশ স্নাতকোত্তর ও তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ২৭ শতাংশ স্নাতক এবং ৪ দশমিক ১০ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক পাস, স্বশিক্ষিত ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পাস ২ দশমিক ১ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্যমান অনুযায়ী কোটিপতি। তাঁদের মধ্যে আলাদাভাবে অস্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতে কোটিপতি ২৫ জন এবং স্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতে কোটিপতি ১৪ জন।

দলীয় ভিত্তিতে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন কোটিপতি। এ ছাড়া জাগপার একমাত্র প্রার্থীও কোটিপতি। আর গড় বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার ওপরে, এমন প্রার্থীর হার ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সরাসরি ভোটে সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্যে এই হার ৬৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। তবে সার্বিকভাবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনসহ সব সদস্যের মধ্যে মোট কোটিপতির সংখ্যা ২৬৯ জন, যা ৭৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনের নারী প্রার্থীদের মধ্যে আইনজীবীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—২৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা নির্বাচিত সাধারণ আসনের সংসদ সদস্যদের (১১%) তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পেশা হিসেবে রয়েছে ব্যবসা (২২.৫%)। এ ছাড়া গৃহিণী ১২ দশমিক ২ শতাংশ, শিক্ষক ১০ দশমিক ২ এবং সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থী। চিকিৎসকদের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং অন্য পেশাজীবীদের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশ।

টিআইবি বলছে, তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সার্বিকভাবে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনসহ সকল সদস্যের মধ্যে ৫৫ দশমিক ১৭ শতাংশই ব্যবসায়ী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নারী আসনের প্রার্থীদের মধ্যে নিজ নামে কিংবা স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে ১০০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার আছে অন্তত তিনজন প্রার্থীর। যাঁদের একজনের নামে ৫০২ ভরি স্বর্ণালংকারের তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যক্তিগত বিপুল এই সম্পদের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের ঋণগ্রস্ততার চিত্রও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, যেখানে দেখা যায়, ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে দায় বা ঋণগ্রস্ত। দলীয়ভাবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে ঋণগ্রস্ততার হার সমান, ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের (২০.৪১%) তুলনায় সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (৫০.৮৪%) ঋণগ্রস্ততার পরিমাণ ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি।

সংরক্ষিত আসনে প্রার্থীদের গড় বয়স ৫২ দশমিক ১৭ বছর। বয়সসীমা হিসেবে ৪৫-৫৪ বছর বয়সের প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ (১৬ জন বা ৩২.৭৪%)। এরপর ৩৫-৪৪ বছর বয়সী ৯ জন এবং ৫৫-৬৫ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা ১২ জন।

দল হিসেবে বিএনপির ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের বয়সসীমা ৪৫-৫৪ বছর, ১০ জনের ৫৫-৬৫ বছর এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে আছেন পাঁচজন। অন্যদিকে জামায়াতের ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩৫-৪৪ বছরের বয়সসীমায় একজন, ৪৫-৫৪ বছরের তিনজন, ৫৫-৬৫ বছরের দুজন এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে তিনজন।

বিএনপির দুজন প্রার্থীর বয়সসীমা ২৫-৩৪-এর মধ্যে হলেও জামায়াতের একজনও এই বয়সসীমায় প্রার্থী হননি। তবে সার্বিকভাবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনসহ সব সদস্যের গড় বয়স ৫৮.৫ বছর।

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থীর স্বামীর তুলনায় নিজের দালান বা ফ্ল্যাটের সংখ্যা কম। একইভাবে জমির পরিমাণ কম আছে সাতজনের এবং ১৪ জনের অস্থাবর সম্পদ তাঁদের স্বামীর তুলনায় কম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংরক্ষিত আসনের নারী প্রার্থীদের অধিকাংশের সম্পদের পরিমাণ তাঁদের স্বামীদের তুলনায় বেশি থাকায় বাংলাদেশের জনমিতি ও সম্পদ অর্জনের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এতে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

টিআইবি মনে করে, সংরক্ষিত নারী আসনে উচ্চশিক্ষিত, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক হলেও সাধারণ আসনের মতো এখানেও সম্পদের প্রভাব এবং নির্দিষ্ট কিছু পেশার আধিপত্য লক্ষণীয়, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২১ এপ্রিল এবং যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ছিল ২২ ও ২৩ এপ্রিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এক দশক পর নির্মাণে ফিরছেন ওয়াহিদ আনাম

ফের ইরানে হামলা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: ট্রাম্পকে পুতিনের হুঁশিয়ারি

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন: থালাপতি বিজয়ের দলের চমকের পূর্বাভাস

ইরান এমন অস্ত্র বের করবে, যা দেখে ‘শত্রু হার্ট অ্যাটাক’ করতে পারে

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন না শোধরায়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত