Ajker Patrika

কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়ন, নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়ন, নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়নের অভিযোগে সংগঠনটির প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিআইডি।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, মো. গোলাম আজম, সাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জামালুল ইসলাম, মো. তৌহিদুল ইসলাম ও মো. মতিউর রহমান।

সিআইডি জানিয়েছে, অনুসন্ধানে কেএনএফের ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্মের ফ্যাব্রিক ও সেলাই বাবদ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, গত বছরের ১৮ মে রাতে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের একটি বিশেষ দল। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি গুদাম ও একটি পোশাক কারখানা থেকে কেএনএফের ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়।

ইউনিফর্ম তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পরে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ প্রদান, ক্রয়াদেশ, ব্যবসায়িক পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে অর্থের উৎস ও প্রবাহের তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে মংহলাসিন মারমা ওরফে মং প্রথমে নিয়াজ হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে নিয়াজ হায়দারের মাধ্যমে মো. গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাঁরা ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেএনএফের ইউনিফর্মের ক্যামোফ্লেজ প্রিন্টের ফ্যাব্রিক তৈরির ব্যবস্থা করেন বলে সিআইডির দাবি।

মংহলাসিন নিজেকে এমআই এন্টারপ্রাইজের সহকারী বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ও ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুটি ক্রয়াদেশ দাখিল করেন। এসব কাজের বিপরীতে ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্মের শার্ট ও প্যান্ট সেলাইয়ের জন্য মংহলাসিনের নির্দেশনায় নিয়াজ হায়দার ও গোলাম আজম তাঁদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেলাই বাবদ প্রতিষ্ঠান তিনটিকে মোট ৭২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

সিআইডির দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাংক হিসাব, চেক ও নগদ অর্থের মাধ্যমে ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যাব্রিক তৈরিতে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইউনিফর্ম সেলাইয়ে ৭২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনায় সংস্থাটি বলেছে, কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নাথান বমের নির্দেশনায় মংহলাসিন মারমাসহ অন্যরা সংগঠনটির জন্য বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম তৈরির উদ্যোগ ও অর্থায়ন করেছেন বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থের হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সিআইডি।

ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা করা হয়। মামলায় সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলাটির তদন্তে কেএনএফের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য অর্থের উৎস ও প্রবাহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, অন্যান্য আর্থিক লেনদেন এবং অর্থ প্রদানের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। একই সঙ্গে আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত