Ajker Patrika

আইডি হ্যাক, প্রতারণা, হয়রানি—সমাধান মিলবে এক প্ল্যাটফর্মেই

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ৫৮
আইডি হ্যাক, প্রতারণা, হয়রানি—সমাধান মিলবে এক প্ল্যাটফর্মেই
সিআইআরএস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাইবার প্রতারণা, আইডি হ্যাক, তথ্য ফাঁস ও অনলাইনে হয়রানির মতো ঘটনায় এখন থেকে একটি প্ল্যাটফর্মেই অভিযোগ জানাতে পারবেন নাগরিকেরা। সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম (সিআইআরএস) নামের এই প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠানো এবং নিষ্পত্তির অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিআইআরএস উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

একই অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল রেটিং সিস্টেম (এনআরএস) উদ্বোধন করা হয়। এটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় ৪টি প্রধান স্তম্ভ ও ১৩১টি মূল্যায়ন সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ থেকে ই পর্যন্ত গ্রেড দেওয়া হবে। এতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা ও ডিজিটাল সেবার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে।

যে পদ্ধতিতে সিআইআরএস সেবা মিলবে

report.ncsa.gov.bd ওয়েব ঠিকানায় গিয়ে ব্যবহারকারীরা সাইবার-সংক্রান্ত ঘটনার অভিযোগ জানাতে পারবেন। এই প্ল্যাটফর্মে হ্যাকিং বা অননুমোদিত প্রবেশ, সাইবার প্রতারণা, অনলাইন হয়রানি, গুজব বা অপ তথ্য, তথ্য ফাঁস, অনলাইন পরিচয় চুরি, ক্ষতিকর কনটেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার ঘটনার অভিযোগ করা যাবে।

অভিযোগ করার সময় কী ঘটেছে, কখন ঘটেছে, কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে—এসব তথ্যের পাশাপাশি স্ক্রিনশট, ছবি, নথি বা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংকও যুক্ত করা যাবে। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ইউনিক কমপ্লেইন্ট আইডি তৈরি করবে। ওই নম্বর ব্যবহার করে অভিযোগকারী পরবর্তী সময়ে নিজের অভিযোগের অগ্রগতি জানতে পারবেন।

সিস্টেমে রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রথমে উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেটি যাচাই করবেন। উপজেলা পর্যায়ে সমাধান সম্ভব না হলে অভিযোগটি জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে। আর জটিল বা জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন কোনো ঘটনা সরাসরি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সিতে পাঠানো হবে। সেখানে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি রিপোর্ট গ্রহণ, যাচাই, বিশ্লেষণ, এসকেলেশন, প্রতিক্রিয়া, পর্যবেক্ষণ এবং নিষ্পত্তি—এই ধাপগুলো অনুসরণ করে সম্পন্ন হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা নির্ধারিত মাত্রার অ্যাকসেসের মাধ্যমে সিস্টেমের সারসংক্ষেপ, পরিসংখ্যান ও প্রবণতা দেখতে পারবে। এর ফলে সমন্বিত ঝুঁকি মূল্যায়ন, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জাতীয় পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা তদারকি আরও সহজ হবে।

সিআইআরএস নিয়ে সরকার যা বলছে

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ই-কমার্স ও সরকারি সেবাসহ সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, র‍্যানসমওয়্যার, অনলাইন প্রতারণা ও পরিচয় চুরির ঝুঁকিও বেড়েছে। এ বাস্তবতায় সাইবার সিআইআরএস চালুর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান—সবাই সহজে ও দ্রুত সাইবার ঘটনার অভিযোগ জানাতে পারবেন।

মন্ত্রী আরও জানান, এটি শুধু অভিযোগ গ্রহণের একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থা তৈরির একটি উদ্যোগ। একই সঙ্গে ন্যাশনাল রেটিং সিস্টেম (এনআরএস) সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নের মাধ্যমে দুর্বলতা চিহ্নিত, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নিরাপদ ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত