
এবারের সংসদ নির্বাচনে খুলনা ও রংপুর বিভাগের অধিকাংশ আসন দখলে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের মাঠে না থাকা এবং জাতীয় পার্টির ভঙ্গুর অবস্থার কারণে তাদের জন্য এটি সহজ হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্য ছয়টি বিভাগের অধিকাংশ আসনে বিজয় পেলেও দলীয় কোন্দল এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে খুলনা ও রংপুর বিভাগে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ফল ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট, ৭৭টিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট এবং সাতটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জামায়াত জোট রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের মধ্যে ১৮টিতে, খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মধ্যে ২৫টিতে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ১১টিতে এবং ঢাকা বিভাগের ৭০ আসনের মধ্যে ১১টিতে জয় পেয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কয়েকটি আসন ছাড়া অধিকাংশ আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ জেলায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা বরাবরই ভালো। বিশেষ করে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও এসব জেলায় দলটির প্রার্থীরা ভালো ফল করেছিলেন। যেসব জেলায় তাদের অবস্থান দুর্বল, সেখানে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা আওয়ামী লীগ সমর্থকদেরও কিছু ভোট বিএনপির বাক্সে পড়েছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর জেলার নয়টি আসনের মধ্যে আটটিতেই বিএনপি জয় পেয়েছে। সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে যেগুলোয় বিএনপির ভরাডুবি হয়েছিল।
গত ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি নানাভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পড়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাদের অংশগ্রহণ ছিল। এ ছাড়া তারেক রহমানের কিছুটা ভিন্নধর্মী নির্বাচনী প্রচারণা এবং পরিবর্তনের অঙ্গীকারও অনেক মানুষকে আকৃষ্ট করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। বিএনপির ফলাফলের বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির পর দেশে ফিরে শক্ত হাতে হাল ধরে দলকে সুসংগঠিত করতে পেরেছেন তারেক রহমান। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারও অনেককে টেনেছে। এসবের বদৌলতে মোট ভোটের দুই-তৃতীয়াংশ বিএনপি লাভ করেছে, যা অভূতপূর্ব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক শারমীন আহমেদ মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পেছনে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে জামায়াত বড় ভূমিকা রাখলেও ১৭ বছরের টানা আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিও এদিকে পিছিয়ে নেই। তিনি বলেন, ‘বিএনপি বিগত সরকারের সময়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের জন্যও এ নির্বাচনে সুবিধা পেয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী “মব” ধরনের অরাজকতা, অন্তর্বর্তী সরকারে জামায়াতের অংশগ্রহণ, সামাজিক রীতিনীতিতে কট্টরপন্থার বিস্তার ইত্যাদি অনেক কিছুর সঙ্গে এ দেশের জনগণ একমত না। এ কারণে বেশির ভাগ মানুষ বিএনপিকে অপেক্ষাকৃত ভালো বিকল্প মনে করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার ওপর দাঁড়িয়েই বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে।’
দেশের ভোটের রাজনীতিতে চট্টগ্রাম বিভাগ বিএনপির শক্ত জায়গা বলেই পরিচিত। এ বিভাগের ৫৮টি আসনের মধ্যে মাত্র ৫টি আসনে জামায়াত জোট বিজয়ী হয়েছে। তিনটি আসনে জিতেছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বাকি ৫০টি আসনেই বিজয়ী হয় বিএনপি জোট।
বিশেষ করে খুলনা ও রংপুর বিভাগে জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম, দাতব্য উদ্যোগ এবং গ্রামভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলেছে। রাজনৈতিক দিকগুলোর পাশাপাশি এরও সুফল পেয়েছে দলটি। দুই বিভাগের অধিকাংশ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কারণে রংপুরে বিভাগে অনেক দিন জাতীয় পার্টির শক্তিশালী অবস্থান ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগে তাঁর মৃত্যু হওয়ার পর থেকে সেখানে দলটির অবস্থান ধীরে ধীরে দুর্বল হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকা গত তিন বিতর্কিত সংসদে ‘গৃহপালিত বিরোধী’ দলের তকমা পেয়েছিল তারা। বৃহত্তর রংপুর জেলায় এবার তাদের জায়গাটা নিয়েছে জামায়াত। খুলনা অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত হত্যাসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে সীমান্ত অঞ্চলে ভারতবিরোধী মনোভাব সাধারণত বেশি দেখা যায়। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এসব কারণে এসব অঞ্চলে সাম্প্রতিককালে জামায়াতের প্রতি সমর্থন আরও বেড়েছে। জিতে নেওয়া ৭৭ আসনের মধ্যে ৪৩টিই এ দুই বিভাগ থেকে পেয়েছে জামায়াতের জোট।
খুলনা ও রংপুর বিভাগের বেশির ভাগ আসনে জামায়াতের বিজয়কে আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানুজ্জামান। দলটির এককভাবে ৬৮ আসনে বিজয়কে খুবই উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকা ভোটের হিসাব-নিকাশ অন্য রকম হওয়ার বড় কারণ।
ড. আল মাসুদ হাসানুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, এসব আসনে জামায়াত সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে পেরেছে। পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত গুণ, গ্রহণযোগ্যতা ও অঙ্গীকার দেখেও অনেকে ভোট দিয়েছেন। কিছু আসনে আবার জামায়াত পরাজিত হয়েছে অল্প ব্যবধানে। এটা জামায়াতকে ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে।
জামায়াত আওয়ামী লীগের মতো বড় দল মাঠে না থাকার বড় সুফল পেয়েছে বলে মনে করেন ঢাবির সহকারী অধ্যাপক শারমীন আহমেদও। তিনি বলেন, ‘চিন্তাভাবনা বা সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কারণে সমাজে ধর্মের প্রভাব অনেক বেড়েছে। আবার আওয়ামী লীগের আমলে দলটির নেতারা যুদ্ধাপরাধের বিচারে সাজা পাওয়ায় এবং শেষ দিকে নিষিদ্ধ হওয়ায় “ভিকটিম কার্ড” তাদের হাতে আছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মাঠে না থাকা ও অতীতের ভিকটিম কার্ড দুটি মিলে কিছু অঞ্চলে জামায়াত ভালো করেছে। কিন্তু ওই জায়গাগুলো মূলত জামায়াত-সমর্থিত এলাকা। এর বাইরে বড় কোনো পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করি না।’
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন রিমন রহমান, রাজশাহী; খান রফিক, বরিশাল ও শিপুল ইসলাম, রংপুর]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশের আগামী সরকারের প্রধানমন্ত্রীও হচ্ছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা। এই মন্ত্রিসভায় চমক থাকবে বলে আভাস দিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
৭ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে বিএনপি জোট পেয়েছে ২১২ আসন। জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭ আসন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে একটি আসনে।
১২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পাওয়ার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু।
১২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন তাঁদের ফলাফলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে তাঁদের শপথ পড়াবেন কে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে