
এ ঘটনাটি প্রায় গল্পের মতোই শোনায় যে, বাংলাদেশের এক তরুণ হেঁটে বিশ্বভ্রমণ করছেন! গল্প নয়, এটি সত্যি ঘটনা। ঢাকা থেকে ২০২৪ সালের ২২ মার্চ হেঁটে বিশ্বভ্রমণ শুরু করেন সাইফুল ইসলাম শান্ত। গতকাল ১১ নভেম্বর তাঁর এই যাত্রা পৌঁছাল ৬০০তম দিনে। বিভিন্ন দেশ ঘুরে তিনি এখন রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ায়। বাংলাদেশের বাইরে তিনি ইতিমধ্যে হেঁটে ভ্রমণ করেছেন ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর।
এ বিশেষ দিনটিতে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম শান্তর সঙ্গে। প্রথমেই তিনি বললেন, ‘কীভাবে এত দ্রুত সময় কেটে গেল, বুঝতেই পারিনি। অচেনা দেশ, অচেনা মানুষ এবং অজানা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে গিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ এসেছে। তবে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আমাকে নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে। আমি আরও পরিণত হয়েছি।’
হেঁটে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে যেসব দেশে স্থলসীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি, সেসব দেশে তিনি প্রবেশ করেছিলেন ফেরি বা ফ্লাইটে। এরপর নির্দিষ্ট দেশটির ভেতরে হেঁটে ভ্রমণ করেছেন। শান্তর এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ভিসা পাওয়া। এ ঘটনা তাঁর ভ্রমণের গতিকে অনেক সময় ধীর করে দিয়েছে।
প্রস্তুতিকে সহজ করেছে ম্যারাথন
শান্ত একজন প্রতিভাবান অ্যাথলেট। তিনি টাটা স্টিল ২৫ কিলোমিটার ম্যারাথন, দার্জিলিং হিল ম্যারাথন, ঢাকা হাফ ম্যারাথন, বিগ বাংলা হাফ ম্যারাথন, গিনেস বুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভার্চুয়াল রানসহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশগ্রহণ নিয়েছিলেন। ডেয়ার টু স্টেয়ার চ্যালঞ্জের মতো কঠিন সিঁড়ি দৌড়েও অংশ নিয়েছেন তিনি। তাঁর ধৈর্য, প্রস্তুতি ও মনোবল এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়। সমুদ্র ও নদীতে সাঁতার কাটার পাশাপাশি তিতাস নদীতে একটানা ৫ কিলোমিটার সাঁতারও কেটেছেন শান্ত।

ভ্রমণের মুহূর্ত রেকর্ড
শান্ত তাঁর হাঁটার মুহূর্ত স্ট্রাভা ও পোলার স্টেপ অ্যাপের মাধ্যমে রেকর্ড করছেন। এই অ্যাপগুলো তিনি দৈনিক কত কিলোমিটার হেঁটেছেন, কোন পথে হেঁটেছে—এসব ডেটা লাইভ রেকর্ড করে। যে কেউ চাইলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর ভ্রমণের ইতিহাস দেখে নিতে পারেন। এটি শুধু হিসাব রাখার জন্য নয়, এর মাধ্যমে শান্ত নিজের ভ্রমণের ছাপ রেখে যেতে চান।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণে চ্যালেঞ্জের কথা প্রায় সব পর্যটকের কাছ থেকেই শোনা যায়। দিন দিন বিষয়টি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ নিয়ে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে শান্তকে। ভিসা প্রসেসিং থেকে শুরু করে, সীমান্ত পার হওয়া পর্যন্ত নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁকে। ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে ওভারস্টে বা নির্দিষ্ট সময়ের বেশি থাকার কারণে দিন দিন বিদেশভ্রমণ আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শান্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করা খুবই কঠিন। পাসপোর্টের এমন দুর্নাম কিন্তু নিজে নিজে হয়নি, আমরাই করেছি। ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে অনেকে থেকে যান, সে কারণে এই অবস্থা।’
সবার প্রতি কৃতজ্ঞ
শান্তর এই যাত্রা একার পক্ষে সম্ভব হয়নি। অসংখ্য মানুষের সহায়তা, অতিথিপরায়ণতা এবং বন্ধুদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না বলে জানান তিনি। শান্ত বলেন, ‘আমার এ যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তে অসংখ্য মানুষের অবদান রয়েছে। বিভিন্ন সময় এমন মানুষের সহযোগিতা আমি পেয়েছি, যেটি আরও সাহস জুগিয়েছে। সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
দেশে প্রস্তুতি
বাংলাদেশ থেকে ভারত পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার হেঁটেছেন শান্ত। দেশের সব জেলা মিলিয়ে হেঁটেছেন ৩ হাজার কিলোমিটার। কুমিল্লা থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত হেঁটেছেন ১ হাজার কিলোমিটার। ১০০ কিলোমিটার ও ৭১ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন ২৪ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জে। বান্দরবান থেকে আলীকদম পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। এসব চ্যালেঞ্জ তাঁকে বিশ্বভ্রমণের জন্য ধীরে ধীরে প্রস্তুত করেছে।

ফুটবলের দেশ বললেই সবার আগে যে দুটি দেশের নাম আমাদের মনে আসে, তার একটি আর্জেন্টিনা, অন্যটি ব্রাজিল। মজার বিষয় হলো, ফুটবল জনপ্রিয় হলেও এই দুটি দেশের কোনোটিরই জাতীয় খেলা ফুটবল নয়। আর্জেন্টিনার সরকারি জাতীয় খেলার নাম পাতো (Pato)। ঘোড়ার পিঠে চড়ে এ খেলা খেলতে হয়। এটি এমনই এক রোমাঞ্চকর খেলা, যেখানে...
১ দিন আগে
কাগজের নোট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্স—কোনোটিই কমবে না। এদিকে শপিং ব্যাগ ভর্তি করার নিখাদ আনন্দটুকু ঠিকই পাওয়া যাবে। বিষয়টি শুনতে অবাস্তব মনে হলেও তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের কাছে এটিই এখন মানসিক শান্তি খোঁজার আধুনিক ট্রেন্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ...
১ দিন আগে
টান টান উত্তেজনা, গ্যালারিজুড়ে হাজারো দর্শকের গর্জন আর মাঠের সবুজ ঘাসে বল দখলের লড়াই। সাত সকালে ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ জমিয়ে তুলতে সঙ্গে রাখুন ঐতিহ্যবাহী ম্যাক্সিকান কফি। মেক্সিকোর শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই কফির নাম ক্যাফে দে ওল্লা। সব উপাদান ঘরে থাকলে তো ভালোই হলো, না থাকলে আপনার ঘরে থাকা...
১ দিন আগে
ফুটবল দল হিসেবে অনেকেরই প্রিয় মেক্সিকো। খুব কম হলেও মেক্সিকান খাবারের চল আছে আমাদের দেশে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে। সালসা মেক্সিকোর একটি সসজাতীয় খাবার। এটির সঙ্গে মিশিয়ে বিভিন্ন খাবার খাওয়া হয়। দুটি জনপ্রিয় মেক্সিকান খাবার সালসা অ্যান্ড চিপস এবং ম্যাঙ্গো সালসা। মেক্সিকান রান্নায় সালসার ব্যবহার বেশ...
১ দিন আগে