ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগিয়ে চলেছে শরৎ। কাশফুলের যৌবনেও পড়ছে ভাটা। তারপরেও শরৎ মানেই নীল আকাশের বুকে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের নিচে খানিক ধূসর কাশফুলের জন্য মন উড়ু উড়ু করবেই।
সেই উড়ু উড়ু ভাব কাটাতে এক পড়ন্ত দুপুরে মোটরসাইকেলে সওয়ার হয়ে ছুটে চললাম ধামরাই উপজেলার কাইজ্জার চর—ঢাকার একেবারে পাশে। সাভারের নামাবাজার ব্রিজ পার হয়ে রূপনগর পৌঁছাতেই শরতের আকাশ ভেঙে বর্ষার মতো ঝুম বৃষ্টি নেমে এল। মানুষের মতো হয়তো প্রকৃতিও তার চরিত্র হারাতে বসেছে! যাহোক, টংদোকানে বাইক থামিয়ে চা-বিস্কুট চলল। বৃষ্টি থামলে রূপনগরের পিচ ঢালা আর বৃক্ষরাজির ছায়াঘেরা সড়কে চলতে চলতে চৌঠাইল মৌজার পুরোনো কড়ইগাছে ঘেরা সরু সড়ক ধরে এগোতে এগোতে একেবারে বিশাল কাশবনের প্রান্তরে!
প্রথম দেখাতেই চুপসে যাওয়া মন হয়ে উঠল প্রাণবন্ত। ছোট্টবেলা দুষ্টুমির কারণে একচোট ধুমসে মার দিয়ে বাবা যখন হাতে ধরিয়ে দিতেন বাটারবান, তখন যেমন অনুভূতি হতো, শরৎ শেষের কাশবন দেখেও একই অনুভূতি হলো। বন্ধুরা একের পর এক ছবি ও ভিডিও তুলেই চলল। এদিকে আকাশের পশ্চিম কোলে সূর্যটা হেলান দিতে শুরু করল। এই বেলা এক দারুণ আলোর খেলা দেখা গেল কাশবনের মাথায়। মনে হলো, পুরো কাশবনে ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। সোনারোদে কাশফুলের নরম ছোঁয়া দেহ-মনে ঝিলিক মেরে গেল।
এই আগুন ঝরানো গোধূলি, শুভ্র কাশফুলের বন, পরিষ্কার আকাশ—সবকিছু মিলিয়ে এখন এক অপার্থিব পরিবেশ এখানে। পাশেই বয়ে চলা ধলেশ্বরী নদী। বাংলা আশ্বিন মাস। শহরগুলোর বাইরে আবহাওয়া খানিকটা অন্য রকম। হেমন্তের টান ধরেছে। খানিক হিমের ছোঁয়া আছে সন্ধ্যার বাতাসে। বাকি কয়েকটা দিন পুরোটাই থাকবে কাশফুলের সমাহার। তবে তার রোঁয়া হয়ে যাবে আরও ধূসর। তারপর বাতাসে সেগুলো উড়তে শুরু করলে শরৎই হয়ে যাবে শেষ। আসবে হেমন্ত। ধানের দিন।
কাশফুলের আরেকটা প্রজাতির নাম কুশ। কাশফুলের আদি নিবাস আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশ। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানেও কাশফুল দেখা যায়। এ শুধু দেখার বিষয়ই নয়, এর আছে ঔষধি গুণ। শরীরের দুর্গন্ধ, পিত্তথলির পাথরসহ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে এর মূল। সব মিলিয়ে কাশফুল প্রকৃতির অপরূপ এক উপহার। তাই শরৎ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই কাছাকাছি থাকা কাশফুলের রাজ্য থেকে ঘুরে আসুন। ঢাকার পাশে ধামরাই ছাড়াও কেরানীগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় কাশফুলের সাম্রাজ্য রয়েছে, থাকবে শরৎজুড়ে।

পথে আসতে-যেতে পেয়ারা চোখে পড়ছে এখন। প্রায়ই হয়তো ফেরার পথে কিনে নিয়ে আসেন বাড়িতে। এবার তৈরি করে ফেলুন পেয়ারার টক-মিষ্টি চাটনি। আপনাদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন আলিফ’স ডেলিকেট ডিশেজের শেফ আলিফ রিফাত...
৩ ঘণ্টা আগে
চৈত্রের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন এর বড় প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকের ওপর। প্রচণ্ড গরম, অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালু আর কড়া রোদ—সব মিলিয়ে ত্বক হয়ে পড়ে নির্জীব ও কালচে। তৈলাক্ত ত্বকে বাড়ে ব্রণের উপদ্রব, আর শুষ্ক ত্বক হয়ে যায় অনেক বেশি রুক্ষ। এ সময় আপনার ত্বকই আপনার সঙ্গে কথা বলবে, যদি আপনি...
৫ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকবে, কিন্তু দয়া করে সেটা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় দেখাবেন না, ধপাস করে পড়ার সম্ভাবনা আছে। অফিসে বস আপনার কাজে মুগ্ধ হতে পারেন, তবে সেটা স্রেফ তাঁর চশমা পরিষ্কার না থাকার ফলও হতে পারে।
৬ ঘণ্টা আগে
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে আমাদের সবারই ইচ্ছে হয় যতটা সম্ভব হালকা পোশাক পরতে। কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। বাইরের গরম থেকে যখন আমরা বাসা বা অফিসে এসির ভেতর যাই, তখন সেখানে খাপ খাইয়ে নিতে দরকার হয় লেয়ারিং বা স্তরে স্তরে পরিধেয় পোশাকের। অনেকে ভাবেন, গরমের মধ্যে স্তরে স্তরে পোশাক পরলে অস্বস্তি বাড়বে...
৭ ঘণ্টা আগে