কখনো কি ভেবে দেখেছেন জাপানি নারীদের চুল কেন এত রেশমি ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল হয়? জাপানিদের চুল পরিচর্যার মধ্যে এমন এক জাদু রয়েছে যা শুধু চুল ধোয়া এবং কন্ডিশনিং করার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। চাল ধোয়া পানি দিয়ে চুল ধোয়া থেকে শুরু করে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করার রীতি পর্যন্ত, জাপানি চুল পরিচর্যার ঐতিহ্য তাদের চুলকে মূল্যবান রেশমের মতোই যত্ন করতে উৎসাহী করে। তবে সুন্দর ও সিল্ক চুল পেতে রোজই স্যালনে দৌঁড়োতে হবে এমন বাঁধাধরা কোনো নিয়ম নেই। জাপানিরা ঘরোয়া উপায়ে চুলের যত্ন নিতেই বেশি পছন্দ করে। জেনে নিন জাপানিরা সুন্দর চুল পেতে কী কী উপায়ে যত্ন নেন সে সম্পর্কে–
জাপানি কায়দায় চুল পরিচর্যা শুধু চটজলদি সমাধান বা ট্রেন্ডি পণ্য ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা চুলের সুস্বাস্থ্যকে সামগ্রিক সুস্থতার একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। ধারাবাহিক যত্ন, চুলের স্বাভাবিক অবস্থাকে মেনে নিয়ে রোজ যত্ন করার ওপরই তাঁরা জোর দেন। জাপানিরা মনে করেন স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে পারলেই চুলের অধিকাংশ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। যদি মাথার ত্বকই সুস্থ না থাকে তাহলে চুলের জেল্লাও থাকবে না, নতুন চুল গজাবেও না। তাই জাপানিরা স্ক্যাল্পের যত্নে বেশি মনোযোগ দেন। মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন, পরিচ্ছন্নতা এবং পুষ্টির ওপর জোর দেন তাঁরা। আর এ কারণেই জাপানি নারীদের চুল বেশি বয়সেও ঘন ও উজ্জ্বল থাকে।
জাপানিদের কাছে চুল ধোয়া একটি রোজকার রুটিনের চেয়েও বেশি। তাঁদের কাছে এটি একটি আচার। চুল ধোয়ার আগে তাঁরা চুলের জট ছাড়াতে মাথার ত্বক থেকে চুলের আগা পর্যন্ত খুব ভালোভাবে ব্রাশ করেন। চুল ধুতে তাঁরা হালকা গরম পানি ব্যবহার করেন। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করা থেকেও তাঁরা বিরত থাকেন। কারণ এতে চুল থেকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা চলে যায়। চুল ভেজানোর পর শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয়। শ্যাম্পু শুধুমাত্র স্ক্যাল্পে লাগিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করা হয়। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেন তাঁরা।

স্ক্যাল্প কেয়ার এবং ম্যাসাজ কৌশল
জাপানি চুল পরিচর্যার রুটিনে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আঙুলের ডগা ব্যবহার করে মাথার তালুতে ছোট বৃত্তাকার গতিতে ম্যাসাজ করেন তাঁরা। এই কৌশলটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং চুলের গোড়ায় আরও বেশি তেলের পুষ্টি পৌঁছাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের এই কাজটির জন্য অন্তত পাঁচ মিনিট সময় দিলেই চুল ঝলমলে হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন।
চাল ধোয়া পানি দিয়ে চুল ধোয়া বহু শতাব্দী ধরে জাপানি সৌন্দর্যের একটি গোপন রহস্য। চাল ধোয়া পানিতে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ থাকে যা চুলের গোড়া মজবুত করে। চাল ধোয়ার পানি একটি পাত্রে সংরক্ষণ কো হয়। এবার এটিকে ১২-২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা স্থানে রেখে দেওয়া হয়। শ্যাম্পু করার পর শেষবার চুল ধোয়ার জন্য এই পানি ব্যবহার করা হয়। এতে করে তাঁদের চুল আরও মসৃণ এবং উজ্জ্বল দেখায়।
চুলের জন্য ক্যামেলিয়া তেল সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় জাপানি হেয়ার ট্রিটমেন্ট অয়েল। এই হালকা তেলটি কোনো অবশিষ্টাংশ না রেখে চুলের গোড়ায় গভীরভাবে প্রবেশ করে। জাপানিরা ভেজা চুলে কয়েক ফোঁটা এই তেল লাগান, বিশেষ করে চুলের মাঝের অংশ এবং আগায়। জাপানি হেয়ার অয়েলগুলো ভারী, তৈলাক্ত অনুভূতি ছাড়াই চুলে উজ্জ্বলতা ও সুরক্ষা যোগ করে।

জাপানি ডিপ কন্ডিশনিং এমন প্রাকৃতিক উপাদানের সহযোগে করা হয়, যা চুলের গভীরে প্রবেশ করে। এই পুষ্টিকর মাস্ক তৈরির জন্য চাল ধোয়া পানির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ক্যামেলিয়া তেল এবং মধু মেশানো হয়। ভেজা চুলে এটি লাগানো হয়। এরপর একটি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে রেখে দেওয়া হয় ২০–৩০ মিনিট। এরপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা হয়।
শুষ্ক ও এলোমেলো চুলের জন্য, অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহারের পরিবর্তে আর্দ্রতা ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দেন জাপানিরা। চুল ধোয়ার পর ভেজা চুলে ক্যামেলিয়া তেল লাগান তাঁরা। চুলের সিল্কিভাব ধরে রাখতে সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুলের এলোমেলো ভাব কমে আসে।
সূত্র: স্মিটেন

বর্ষার আগমন আমাদের মনে যেমন প্রশান্তি আনে, তেমনি ঘরের সুরক্ষার জন্য নিয়ে আসে নতুন চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত আর্দ্রতা, অনবরত বৃষ্টি আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে ঘরে ছত্রাকের সংক্রমণ, দেয়ালের ক্ষতিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
৩ ঘণ্টা আগে
কলম্বিয়ান সুপারস্টার শাকিরা। ২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে তাঁর গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ থিম সং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এবারও তিনিই গেয়েছেন ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’। এই গান এখন সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস থেকে অনেকের মুখে মুখে।
৫ ঘণ্টা আগে
বর্ষার খাওয়া-দাওয়াটা একটু অন্য রকম। আকাশে মেঘ করেছে দেখলেই খিচুড়ি রান্নার জোগাড়যন্ত্র শুরু হয়ে যায়। তা ছাড়া এই ঋতুতে অনেকের হেঁশেল থেকে ভেসে আসে নানান মুখরোচক খাবারের সুগন্ধ। নানান স্বাদের খিচুড়ি তো বটেই; চপ, কাটলেট, জিবে জল আনা সাইড ডিশ—সবটাই রান্না হয় বড় আদরে। আপনাদের জন্য বর্ষায় উপভোগের মতো...
৭ ঘণ্টা আগে
প্রচণ্ড গরমের পর বর্ষার আগমন প্রকৃতিতে স্বস্তি ও শীতল পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। তারপরেও বর্ষার আগমন অনেকের কাছে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্ষায় অনেকের অতিরিক্ত চুল পড়া শুরু হয়। এই মৌসুমে চিরুনি চালালেই দেখা যায় গোছা গোছা চুল উঠে আসছে।
৮ ঘণ্টা আগে