বিভুরঞ্জন সরকার

‘মন ভালো নেই’—তিনটি শব্দ যেন এখনকার সময়ের মৌলিক মুদ্রাদোষ। রাস্তার ধারে চায়ের দোকানে, অফিসের টেবিলের পাশে, হাসপাতালের করিডরে কিংবা ফেসবুকের ইনবক্সে—সবখানে এই বাক্যের জয়জয়কার। কেউ বলছে, চোখের নিচে কালি জমেছে, কেউ মুখ ফিরিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। কারণ, তাদের মন ভালো নেই।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই মনটা আসলে কী? ভালো বা খারাপ হওয়ার পেছনে বিজ্ঞান কী বলে? আর মানুষের মন কি আসলেই এমন তরল ও টেম্পারেচার-নির্ভর জিনিস, যেটা কখনো আকাশে ভেসে ওঠে, কখনো নিঃশব্দে ডুবে যায়?
মন মানে মস্তিষ্কের কেমিক্যাল কনসার্ট
বিজ্ঞান বলে, আমাদের ‘মন’ বলে যেটাকে আমরা চিনি, সেটি মূলত মস্তিষ্কের রাসায়নিক, বিদ্যুৎ তরঙ্গ ও স্মৃতির এক জটিল মহাযন্ত্রণা। দুঃখজনক হলেও সত্য, মনের ভালো বা খারাপ থাকা অনেক সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
মন ভালো থাকার পেছনে যে চারজন মূল কারিগর কাজ করেন, তাদের নাম ডোপামিন, সেরোটোনিন, অক্সিটোসিন আর এন্ডোরফিন। এই চার রাসায়নিককে বলা হয় ‘হ্যাপিনেস ককটেল’।
এই চার রাসায়নিকের ভারসাম্য নষ্ট হলেই আমরা বলি, ‘কেন জানি মনটা ভালো লাগছে না।’
অর্থাৎ, প্রেমে প্রত্যাখ্যান হোক বা রিকশাওয়ালার সঙ্গে তর্ক— এগুলো মস্তিষ্কে হ্যাপিনেস ককটেলের রেশিও গুবলেট করে দেয়। ফলে আমাদের ভেতরে একধরনের ভারমুক্ত শূন্যতা তৈরি হয়। অনেকটা বাসি চায়ের মতো মনের অবস্থা—চিনি আছে, তৃপ্তি নেই।
মেজাজ মানে মাথার মেঘমালা
মানুষের মন আর আবহাওয়ার মধ্যে একটা গভীর মিল আছে। যেমন হঠাৎ করে ঝড় আসে, আবার হঠাৎই রোদ ওঠে। অনেক সময় আমরা জানিই না কেন মন খারাপ! গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সময় আমাদের মন খারাপ হয় এমন সব কারণে, যেগুলোর অস্তিত্বই আমরা টের পাই না।

ধরুন, আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠলেন, একরকম মনমরা ভাব। কারণ? হয়তো গত রাতে আপনার ঘুম ঠিকমতো হয়নি। হয়তো হরমোনের কোনো অস্থিরতা চলছে শরীরে। অথবা আপনি আপনার অজান্তে সামাজিক চাপে আছেন। সেটা হতে পারে কারও সঙ্গে তুলনা, কারও দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া কিংবা ফেলে আসা কোনো অনুচ্চারিত আক্ষেপ।
আমাদের মস্তিষ্কের সামনের অংশ দায়িত্বে থাকে চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার। এটাই নিয়ন্ত্রণ করে মেজাজ। কিন্তু যদি ঘুম ঠিকমতো না হয়, খাওয়া অনিয়মিত হয় বা শরীরে ব্যায়ামের অভাব থাকে, তাহলে ওই অংশ নিজের কাজ করতে পারে না। আর তখনই মন হয় অলস, ক্লান্ত, বিষণ্ন।
মন খারাপের সামাজিক ইনসেনটিভ
একটা মজার বিষয় হচ্ছে, মন খারাপ থাকা কখনো কখনো সামাজিক সুবিধা দেয়। হ্যাঁ, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্য।
মন খারাপ হলে আমরা সহানুভূতি পাই। কাজের চাপে ক্লান্ত হলে যদি বলি, ‘আজ মন ভালো নেই’, তখন কেউ আর আমাদের ওপর দায়িত্ব চাপায় না। অনেকটা একধরনের ‘ইমোশনাল পাস’, যেটা দিয়ে সমাজের চাপে একটু বিশ্রাম নেওয়া যায়।

এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ মন খারাপের কথা বারবার বললে, একসময় নিজেও সেটায় বিশ্বাস করতে শুরু করে। এটা হয় মস্তিষ্কের সেলফ ফুলফিলিং প্রফেসি নামক এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। মানে, আপনি যত ভাববেন আপনি দুঃখী; মস্তিষ্ক ততই সে অনুভূতি তৈরি করে ফেলবে।
তবে একে একেবারে খারাপও বলা যায় না। কারণ, মন খারাপ থাকাও একধরনের অভিজ্ঞতা, যা আমাদের জ্ঞান, আত্মবিশ্লেষণ ও সম্পর্ক গভীর করে।
মনের অবস্থা বদলানোর ছোট্ট বটিকা
মন ভালো না থাকলে কি আমরা কিছু করতে পারি? বিজ্ঞান বলে, হ্যাঁ, পারি। যদিও আমরা মনের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি না, তবে কিছু শরীরঘেঁষা কৌশলে মনের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।

আরও চমৎকার কৌশল হলো, নিজেকে জোর করে ভালো কিছুর মধ্যে ঠেলে দেওয়া। যেমন পছন্দের বই পড়া, পুরোনো ছবি দেখা, ছোট প্রাণীদের ভিডিও দেখা বা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো। এগুলো স্বাভাবিকভাবে আমাদের মনকে ‘রিসেট’ করে।
মন খারাপ, কিন্তু সব সময় নয়
‘মন খারাপ’ একটি মানবিক অভিজ্ঞতা। এটাকে ভয় না পেয়ে বরং বোঝা উচিত। মনে রাখা দরকার, মন ভালো থাকা যেমন সম্ভব, তেমনি মন খারাপ থাকাও স্বাভাবিক। এটা মানেই আপনি ব্যর্থ বা নিঃস্ব নন। বরং ভেবে নিন, আপনার অনুভব করার শক্তি অক্ষত আছে।
আমাদের সমাজে ‘ভালো থাকো’ বলতে বলা হয়। কিন্তু ‘দুঃখ পোষণ করো’ এই উপদেশ কেউ দেয় না। অথচ মাঝে মাঝে দুঃখ করা, নিজের ভেতরের আবেগের দিকে তাকানো, মেঘ জমা অনুভূতিগুলোর পাশে বসে থাকা—এসবও জীবনচর্চার অংশ।
তাই মন খারাপ হলে একটুখানি জায়গা দিন নিজেকে। এক কাপ চা হাতে নিয়ে চুপ করে বসুন, নিজের কাঁধে হাত রাখুন, আয়নায় তাকিয়ে বলুন, ‘সব সময় ভালো না লাগলেও সব সময় খারাপ থাকি না।’

‘মন ভালো নেই’—তিনটি শব্দ যেন এখনকার সময়ের মৌলিক মুদ্রাদোষ। রাস্তার ধারে চায়ের দোকানে, অফিসের টেবিলের পাশে, হাসপাতালের করিডরে কিংবা ফেসবুকের ইনবক্সে—সবখানে এই বাক্যের জয়জয়কার। কেউ বলছে, চোখের নিচে কালি জমেছে, কেউ মুখ ফিরিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। কারণ, তাদের মন ভালো নেই।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই মনটা আসলে কী? ভালো বা খারাপ হওয়ার পেছনে বিজ্ঞান কী বলে? আর মানুষের মন কি আসলেই এমন তরল ও টেম্পারেচার-নির্ভর জিনিস, যেটা কখনো আকাশে ভেসে ওঠে, কখনো নিঃশব্দে ডুবে যায়?
মন মানে মস্তিষ্কের কেমিক্যাল কনসার্ট
বিজ্ঞান বলে, আমাদের ‘মন’ বলে যেটাকে আমরা চিনি, সেটি মূলত মস্তিষ্কের রাসায়নিক, বিদ্যুৎ তরঙ্গ ও স্মৃতির এক জটিল মহাযন্ত্রণা। দুঃখজনক হলেও সত্য, মনের ভালো বা খারাপ থাকা অনেক সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
মন ভালো থাকার পেছনে যে চারজন মূল কারিগর কাজ করেন, তাদের নাম ডোপামিন, সেরোটোনিন, অক্সিটোসিন আর এন্ডোরফিন। এই চার রাসায়নিককে বলা হয় ‘হ্যাপিনেস ককটেল’।
এই চার রাসায়নিকের ভারসাম্য নষ্ট হলেই আমরা বলি, ‘কেন জানি মনটা ভালো লাগছে না।’
অর্থাৎ, প্রেমে প্রত্যাখ্যান হোক বা রিকশাওয়ালার সঙ্গে তর্ক— এগুলো মস্তিষ্কে হ্যাপিনেস ককটেলের রেশিও গুবলেট করে দেয়। ফলে আমাদের ভেতরে একধরনের ভারমুক্ত শূন্যতা তৈরি হয়। অনেকটা বাসি চায়ের মতো মনের অবস্থা—চিনি আছে, তৃপ্তি নেই।
মেজাজ মানে মাথার মেঘমালা
মানুষের মন আর আবহাওয়ার মধ্যে একটা গভীর মিল আছে। যেমন হঠাৎ করে ঝড় আসে, আবার হঠাৎই রোদ ওঠে। অনেক সময় আমরা জানিই না কেন মন খারাপ! গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সময় আমাদের মন খারাপ হয় এমন সব কারণে, যেগুলোর অস্তিত্বই আমরা টের পাই না।

ধরুন, আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠলেন, একরকম মনমরা ভাব। কারণ? হয়তো গত রাতে আপনার ঘুম ঠিকমতো হয়নি। হয়তো হরমোনের কোনো অস্থিরতা চলছে শরীরে। অথবা আপনি আপনার অজান্তে সামাজিক চাপে আছেন। সেটা হতে পারে কারও সঙ্গে তুলনা, কারও দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া কিংবা ফেলে আসা কোনো অনুচ্চারিত আক্ষেপ।
আমাদের মস্তিষ্কের সামনের অংশ দায়িত্বে থাকে চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার। এটাই নিয়ন্ত্রণ করে মেজাজ। কিন্তু যদি ঘুম ঠিকমতো না হয়, খাওয়া অনিয়মিত হয় বা শরীরে ব্যায়ামের অভাব থাকে, তাহলে ওই অংশ নিজের কাজ করতে পারে না। আর তখনই মন হয় অলস, ক্লান্ত, বিষণ্ন।
মন খারাপের সামাজিক ইনসেনটিভ
একটা মজার বিষয় হচ্ছে, মন খারাপ থাকা কখনো কখনো সামাজিক সুবিধা দেয়। হ্যাঁ, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্য।
মন খারাপ হলে আমরা সহানুভূতি পাই। কাজের চাপে ক্লান্ত হলে যদি বলি, ‘আজ মন ভালো নেই’, তখন কেউ আর আমাদের ওপর দায়িত্ব চাপায় না। অনেকটা একধরনের ‘ইমোশনাল পাস’, যেটা দিয়ে সমাজের চাপে একটু বিশ্রাম নেওয়া যায়।

এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ মন খারাপের কথা বারবার বললে, একসময় নিজেও সেটায় বিশ্বাস করতে শুরু করে। এটা হয় মস্তিষ্কের সেলফ ফুলফিলিং প্রফেসি নামক এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। মানে, আপনি যত ভাববেন আপনি দুঃখী; মস্তিষ্ক ততই সে অনুভূতি তৈরি করে ফেলবে।
তবে একে একেবারে খারাপও বলা যায় না। কারণ, মন খারাপ থাকাও একধরনের অভিজ্ঞতা, যা আমাদের জ্ঞান, আত্মবিশ্লেষণ ও সম্পর্ক গভীর করে।
মনের অবস্থা বদলানোর ছোট্ট বটিকা
মন ভালো না থাকলে কি আমরা কিছু করতে পারি? বিজ্ঞান বলে, হ্যাঁ, পারি। যদিও আমরা মনের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি না, তবে কিছু শরীরঘেঁষা কৌশলে মনের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।

আরও চমৎকার কৌশল হলো, নিজেকে জোর করে ভালো কিছুর মধ্যে ঠেলে দেওয়া। যেমন পছন্দের বই পড়া, পুরোনো ছবি দেখা, ছোট প্রাণীদের ভিডিও দেখা বা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো। এগুলো স্বাভাবিকভাবে আমাদের মনকে ‘রিসেট’ করে।
মন খারাপ, কিন্তু সব সময় নয়
‘মন খারাপ’ একটি মানবিক অভিজ্ঞতা। এটাকে ভয় না পেয়ে বরং বোঝা উচিত। মনে রাখা দরকার, মন ভালো থাকা যেমন সম্ভব, তেমনি মন খারাপ থাকাও স্বাভাবিক। এটা মানেই আপনি ব্যর্থ বা নিঃস্ব নন। বরং ভেবে নিন, আপনার অনুভব করার শক্তি অক্ষত আছে।
আমাদের সমাজে ‘ভালো থাকো’ বলতে বলা হয়। কিন্তু ‘দুঃখ পোষণ করো’ এই উপদেশ কেউ দেয় না। অথচ মাঝে মাঝে দুঃখ করা, নিজের ভেতরের আবেগের দিকে তাকানো, মেঘ জমা অনুভূতিগুলোর পাশে বসে থাকা—এসবও জীবনচর্চার অংশ।
তাই মন খারাপ হলে একটুখানি জায়গা দিন নিজেকে। এক কাপ চা হাতে নিয়ে চুপ করে বসুন, নিজের কাঁধে হাত রাখুন, আয়নায় তাকিয়ে বলুন, ‘সব সময় ভালো না লাগলেও সব সময় খারাপ থাকি না।’

কর্মস্থলে জেনারেশন জেড (জেন জি)-দের নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায় বিস্তর। দীর্ঘদিন ধরে যে নিয়মে কর্মস্থলের কর্মীরা চলে আসছেন সেসব যেন সহজে মেনে নিতে পারেন না জেন-জি কর্মীরা। অনেকে জেন-জি প্রজন্মকে ‘চাকরির অযোগ্য’ বলেও অভিহিত করেন। এদিকে নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, জেন-জিরা চাকরিকে ‘দীর্ঘমেয়াদি
৪ ঘণ্টা আগে
কলা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় খুবই পরিচিত একটি ফল। কিন্তু সমস্যা একটাই—কলা খুব দ্রুত পেকে যায়, খোসা কালচে হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। তবে একটু সচেতন হলে এবং কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে কলা প্রায় এক মাস পর্যন্ত টাটকা রাখা সম্ভব। এর মধ্যে কার্যকর ও সহজ উপায় হলো লবণপানিতে কলা ধুয়ে...
৬ ঘণ্টা আগে
বাজার চলতি কড়া রাসায়নিক উপাদানযুক্ত ডিশওয়াশিং লিকুইড দিয়ে বাসন মাজতে গিয়ে হাত আরও শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। অনেকের তো হাতের চামড়া উঠে যাওয়া বা অ্যালার্জির মতো সমস্যাও দেখা দিতে শুরু করে। এসব সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে ডিশওয়াশিং লিকুইডের কিছু প্রাকৃতিক বিকল্প রয়েছে। সেগুলো হাত শুকিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন...
৮ ঘণ্টা আগে
যেসব বলিউড অভিনেত্রীকে আমরা আইকন মানি, তাঁদের রূপ রুটিনে চোখ রাখলে দেখা যায়, ঘরোয়া টোটকাই সেখানে রাজত্ব করছে। কৃতি শ্যাননের কথাই ধরুন। তাঁর মাখন কোমল ত্বকের রহস্য় লুকিয়ে আছে সাধারণ গ্লিসারিনের বোতলে। একটি সাক্ষাৎকারে কৃতি শ্যানন জানান, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে গ্লিসারিন। তা ছাড়া এটি...
১০ ঘণ্টা আগে