Ajker Patrika

ইফতারের পর কোন চা পান করবেন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
ইফতারের পর কোন চা পান করবেন
ইফতারে ভারী খাবারের পর হজমে সহায়তা এবং স্নায়ু শান্ত করতে ক্যাফেইনহীন ভেষজ চা বা হারবাল ইনফিউশন হতে পারে শরীরের উপযোগী চা। ছবি: ফ্রিপিক

রমজানের এই পবিত্র মাসে সুস্থ থাকতে সঠিক পানীয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মধ্যে অনেকে আছেন, যাঁরা সারা দিনে ঘন ঘন চা পান করেন। তাঁদের রমজান মাসজুড়ে অনেক বড় একটা সময় চা পান না করেই কাটাতে হয়। শুধু তাই নয়, অনেকে আছেন খুব বেশি চা পান না করলেও দিনে দুবার অন্তত তাঁদের আয়েশ করে দুই কাপ চা পান করতে হয়। তাঁদেরও আসলে চা পানের সূচি এলোমেলো হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, চা পান না করলে কী আর এমন ক্ষতি? না, যাঁরা চা পান করেন না, তাঁদের কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু যাঁদের চা পানের অভ্যাস আছে, ক্ষতি তাঁদের হয়-ই।

প্রথমত, চা পান তাঁদের জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্বিতীয়ত, অভ্যাস হয়ে যাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে চায়ের উপযোগিতা তৈরি হয়, চা পান না করলে তাতে ছেদ ঘটে। তৃতীয়ত, চা থেকে কিছু ভিটামিন তো শরীর পায়। তাই দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীর ও মন সতেজ রাখতে সঠিক চা নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। শুধু তৃষ্ণা মেটানোই নয়, বরং হজমে সহায়তা এবং সারা দিনের ক্লান্তি দূর করতে পারে এমন চা-ই বেছে নিতে হবে।

ইফতারের পর আরামদায়ক হারবাল ইনফিউশন

ইফতারে ভারী খাবারের পর হজমে সহায়তা এবং স্নায়ুকে শান্ত করতে ক্যাফেইনহীন ভেষজ চা বা হারবাল ইনফিউশন হতে পারে আপনার উপযোগী চা। ভেষজ চায়ে গোলাপের পাপড়ি, তাজা পুদিনাপাতা, দারুচিনির স্টিক কিংবা এক চিমটি জাফরান যোগ করতে পারেন। এতে এর স্বাদ ও ঘ্রাণে আসতে পারে রাজকীয় আভিজাত্য।

ক্যামোমাইল চা

ক্যামোমাইল চা মূলত তার স্নায়ু শিথিল করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। এর হালকা আপেলের মতো সুগন্ধ মন শান্ত করতে সাহায্য করে। এতে প্রদাহবিরোধী, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং লিভার সুরক্ষাকারী উপাদান রয়েছে। এ ছাড়া এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পিরিয়ড-পরবর্তী অস্বস্তি কমাতেও সাহায্য করতে পারে। দুশ্চিন্তা কমাতে বা রাতে শোয়ার আগে এক কাপ গরম ক্যামোমাইল চা আদর্শ।

পেপারমিন্ট চা

বদহজম, বমি ভাব এবং পেটে ব্যথা কমাতে পেপারমিন্ট অত্যন্ত কার্যকর। এতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান রয়েছে, যা সংক্রমণের হাত থেকে শরীর রক্ষা করতে পারে। যাঁদের গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমের সমস্যা আছে, তারা এটা পান করতে পারেন।

আদা চা

আদা চা রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি মূলত বমি ভাব দূর করার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। শুধু তাই নয়, এটি হজমের মহৌষধ। ক্যানসারের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার পরবর্তী বমি ভাব কমাতে আদা চা অত্যন্ত কার্যকর। এটি আলসার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং বদহজম দূর করে। এ ছাড়া মাসিকের ব্যথার তীব্রতা কমাতেও এটি সহায়ক। সারা দিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে ভাজাপোড়া খাওয়া হয়। তারপর এক কাপ আদা চা আপনাকে বদহজমের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

জবা চা

জবা ফুলের চা যেমন দেখতে সুন্দর, এর স্বাস্থ্যগুণও তেমনি অনন্য। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জবা চা পান করলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমতে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে যাঁরা মূত্রবর্ধক ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁরা এই চা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

চা তৈরির জরুরি টিপস

  • দুধ চায়ের লিকারের জন্য পানি ৯৫ থেকে ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফোটান। তবে গ্রিন টির জন্য ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আদর্শ। অতিরিক্ত তাপে গ্রিন টি তেতো হয়ে যেতে পারে।
  • চায়ের প্রকৃত স্বাদ ও সুগন্ধ পেতে চা পাতা গরম পানিতে ৩ থেকে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
  • চিনির পরিমাণ কমিয়ে দিন বা বিকল্প হিসেবে মধু ব্যবহার করুন।
  • ইফতারের পরপরই কড়া ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। এটি পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে। কড়া চা বা কফি রাতের শেষ ভাগের জন্য জমা রাখুন।

সূত্র: হেলথ লাইন

বিষয়:

জেনে নিন
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত