
আমাদের দেশে একটি ধারণা আছে, বড়দিনে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা কেক খেয়ে থাকে এবং সেদিন সেটাই তাদের প্রধান খাবার। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বিভিন্ন উপকরণে তৈরি কেক খাওয়া হয় অবশ্যই। তবে তা প্রধান বা একমাত্র নয়।
খাবারের সঙ্গে ধর্ম ও সংস্কৃতির যোগ অত্যন্ত নিবিড়। প্রতিটি সংস্কৃতিতে আলাদা খাবারের ধরন ও উপলক্ষ রয়েছে। রয়েছে ধর্মবিশেষে বিভিন্ন সংস্কার ও প্রথা। বিভিন্ন দেশের খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা বড়দিনের নিয়মনীতি ও সংস্কার মেনে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকে। পোল্যান্ডে উইগিলিয়া নামের ক্রিসমাস ইভের ভোজ তেমনই একটি প্রথা। ২৪ ডিসেম্বর এই ভোজ হয়। সেই ভোজে ১২টি খাবার পরিবেশন করা হয়। এই ১২টি খাবারের রয়েছে বিশেষ ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় প্রতীক।
১২টি খাবারের তালিকা

১. বার্শট: এটি লাল বিটের স্যুপ। এতে প্রায়ই উশকা নামের ছোট মাশরুমের স্টাফ ডাম্পলিংসহ পরিবেশন করা হয়।
২. কার্প মাছ: ভাজা, জেলি আচ্ছাদিত বা অ্যাগার জেলাটিনে রাখা কার্প মাছ। ক্রিসমাসের সবচেয়ে প্রতীকী মাছ এটি।
৩. হারিং মাছ: স্থানীয়ভাবে একে স্লাজিয়া বলা হয়। তেলে, ক্রিম বা মাশরুম সসে নানাভাবে রান্না করা হারিং মাছ।
৪. পিয়েরোগি: কাপুস্তা (বাঁধাকপি ও মাশরুম) বা সির (পনির) ভর্তি ডাম্পলিং।
৫. কুতিয়া: গম, পপি বীজ, মধু, বাদাম ও শুকনো ফল দিয়ে তৈরি মিষ্টি পুডিং। এটি প্রাচীন স্লাভিক খাবার।

৬. মাশরুম স্যুপ: স্থানীয়ভাবে একে বলা হয় জুপাকজি বভা। শুকনো বন-মাশরুমের স্যুপ। এটি প্রায়ই নুডলসসহ খাওয়া হয়।
৭. নুডলসসহ পপি বীজ: স্থানীয়ভাবে একে মাকোভিয়েৎস বলা হয়। পপি বীজ দিয়ে তৈরি রোল বা নুডলস। এটি সমৃদ্ধির প্রতীক।
৮. বাঁধাকপি রোল: স্থানীয়ভাবে একে বলা হয় গোলমবকি। টমেটো সসে সেদ্ধ করা মাংস ও ভাত ভর্তি বাঁধাকপির রোল।
৯. শাকসবজি সালাদ: স্থানীয় নাম সালাটকা ইয়াজিনোভা। আলু, গাজর, মটরশুঁটি, আপেল ও মেয়োনিজ দিয়ে তৈরি সালাদ।
১০. শুকনো ফলে তৈরি পানীয় কম্পোট: স্থানীয় নাম কমপোতস সুসু। শুকনো আপেল, নাশপাতি, প্লাম ও চেরির তৈরি ঠান্ডা পানীয়।
১১. প্লাম সসে নুডলস: স্থানীয় নাম ক্লুসটিস জামাকিয়াম। পপি সিড, প্লাম সসসহ নুডলস।
১২. পপি সিড রোল কেক: স্থানীয় নাম স্ত্রোসলাস জামাকিয়াম। এটি মাকোভিয়েক নামেও পরিচিত। পপি বীজ ভর্তি মিষ্টি রোল কেক।
এই ১২টি খাবারের আছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কারণ
১২ জন প্রেরিত পুরুষের প্রতীক: এই ১২টি খাবার যিশুখ্রিষ্টের ১২ জন প্রেরিত শিষ্যর প্রতীক। যিশুর এই ১২ জন শিষ্য হলেন শিমোন পিতর, আন্দ্রিয়, যাকোব, যোহন, ফিলিপ, বর্থলময়, মথি, থোমা, যাকোব, থদ্দেয়, শিমোন এবং যিহূদা ইস্করিয়োত। বড়দিনে এই ১২ জন প্রধানতম শিষ্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। কারণ, এই ১২ শিষ্যই যিশুর শেষ নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন।

নিরামিষ ভোজের ঐতিহ্য: ঐতিহ্যগতভাবে, ক্রিসমাস ইভে কোনো লাল মাংস অর্থাৎ গরু বা শূকরের মাংস খাওয়া হতো না। কারণ, এটি উপবাসের দিন হিসেবে গণ্য হতো। যদিও এখন অনেকে এই নিয়মকে শিথিলভাবে গ্রহণ করেছেন। সেই প্রথা মেনে মাছ, বিশেষত কার্প ও হেরিং মাছ খাওয়া হয়।
প্রাচীন স্লাভিক ও কৃষি প্রতীক
পপি বীজ: এটি প্রাচীন স্লাভিক সংস্কৃতিতে ঘুম, মৃত্যু ও পুনরুজ্জীবন, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক।
মধু: মিষ্টি জীবন ও প্রাচুর্যের প্রতীক।
গম বা শস্য: অমরত্ব ও প্রফুল্লতার প্রতীক।
মাশরুম: বন থেকে পাওয়া উপহার এবং পুরোনো বিশ্বাস অনুসারে জাদুকরি শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ভাগ্য ও সুস্বাস্থ্যের রীতিনীতি
ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষের সঙ্গে সংযোগ
খাবারের একটি অংশ বা প্লেট বা কিছু খড় টেবিলের নিচে রাখা হয় মৃত পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং তাঁদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।
প্রথম তারার উদয় পর্যন্ত উপবাস রাখা হয় যিশুর জন্মের প্রতীকী প্রতীক্ষা বোঝাতে।
আধুনিক প্রেক্ষাপট
পোল্যান্ডে বড়দিনে ১২টি খাবারই খাওয়া হয় এখনো। তবে অনেক পরিবার ১২টি খাবারের ঐতিহ্য বজায় রেখে স্থান ও পারিবারিক রীতিভেদে মেনু ভিন্ন করে নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কিছু অঞ্চলে খাবারে শনি বা পাইক মাছ অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানা যায়। তবে বার্শট, কার্প, পিয়েরোগি, কুতিয়া ও মাকোভিয়েৎস প্রায় সর্বজনীন খাবার।
পোল্যান্ডে বড়দিনের এই ভোজ শুধু উদ্যাপনের জন্য খাওয়া হয় না; বরং এই খাবারগুলো পরিবার, বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং নতুন বছরের জন্য আশার একটি গভীর সম্মিলন।
সূত্র: ‘দ্য পোলিশ ক্রিসমাস ইভ ফেস্ট’, কালচার ডট পিএল এবং ‘ক্রিসমাস ইন পোল্যান্ড’, পোলিশ টুরিজম অরগানাইজেশন

বসন্ত বিদায় নেওয়ার পথে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাস মানেই ঋতু পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ সময় একদিকে প্রকৃতিতে ধুলাবালুর প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়, অন্যদিকে গুমোট গরমে খুব দ্রুত জীবাণুর বিস্তার ঘটে। তাই ঘরবাড়ি শুধু ওপর থেকে পরিষ্কার করলে চলে না, দরকার হয় ডিপ ক্লিনিংয়ের। আজকের...
৯ ঘণ্টা আগে
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। তবে এটি যেকোনো বয়সেই হতে পারে। বর্তমানে হামে শিশুমৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক। হামের ভাইরাস শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১৪ দিন পর উপসর্গগুলো...
১৬ ঘণ্টা আগে
ব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমাদের ঘরদোর প্রায়ই অগোছালো হয়ে পড়ে। কাজের চাপ, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যে ঘরের যত্ন নেওয়া অনেক সময়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। ড্রয়িংরুমে জমে থাকা পার্সেলের স্তূপ, ড্রেসিং টেবিলে এলোমেলো প্রসাধনী কিংবা ঘরের বিভিন্ন চেয়ারে জমানো লন্ড্রির কাপড়—সব মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি...
১৮ ঘণ্টা আগে
ত্বকে সাধারণ প্যাক ব্যবহার বলুন বা বিশেষ কোনো ফেসিয়াল; যেকোনো স্কিনকেয়ারই শুরু হয় ত্বক পরিষ্কারের মাধ্যমে। সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে এর সুস্থতা কামনা করাই বৃথা। কারণ অপরিচ্ছন্ন ত্বকের ওপর টোনার, ময়শ্চারাইজার বা প্যাক যা-ই ব্যবহার করা হোক...
২০ ঘণ্টা আগে