Ajker Patrika

সকালের নাশতায় কলা খাবেন কি না, খেলেও কয়টি খাবে

ফিচার ডেস্ক
সকালের নাশতায় কলা খাবেন কি না, খেলেও কয়টি খাবে
অনেকেই সকালে শুধু একটি কলা খেয়ে কাজে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু কলায় থাকা প্রাকৃতিক চিনি আপনাকে তাৎক্ষণিক শক্তি দিলেও দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ছবি: পেক্সেলস

সকালের তাড়াহুড়োয় চটজলদি নাশতা হিসেবে কলার চেয়ে সহজ বিকল্প আর কী হতে পারে? পুষ্টিগুণ আর সহজে বহনযোগ্য হওয়ার কারণে সারা বিশ্বেই সকালের নাশতায় কলার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু একটি কলা খেয়ে দিন শুরু করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সব সময় ভালো নাও হতে পারে। কলা নিঃসন্দেহে একটি সুপার ফুড, কিন্তু এটি তখনই জাদুর মতো কাজ করবে, যখন আপনি একে একটি সুষম নাশতার অংশ হিসেবে খাবেন। তাই সকালে শুধু কলা না খেয়ে এর সঙ্গে কিছু বাদাম বা প্রোটিন যুক্ত করুন। মনে রাখবেন, বৈচিত্র্যময় খাবারই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

কলা কেন সেরা

একটি মাঝারি আকারের (প্রায় ১১৮ গ্রাম) কলায় থাকে মাত্র ১০৫ ক্যালরি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ভিটামিন, ভিটামিন ‘সি’ এবং ম্যাগনেশিয়াম। এ ছাড়া এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। কাঁচা বা আধা পাকা কলায় থাকে ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

শুধু কি একটি কলা?

অনেকেই সকালে শুধু একটি কলা খেয়ে কাজে বেরিয়ে পড়েন। আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বিপত্তি। কলার প্রায় ৯০ শতাংশ ক্যালরিই আসে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট থেকে। এতে প্রোটিন এবং ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ অত্যন্ত কম, ৮ শতাংশের নিচে। কলায় থাকা প্রাকৃতিক চিনি আপনাকে তাৎক্ষণিক শক্তি দিলেও দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘণ্টাখানেক পরই আপনি ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন। এর কারণে ক্ষুধার তীব্রতা বাড়তে পারে। যাঁরা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের জন্য খালি পেটে শুধু কলা খাওয়া রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

সঠিকভাবে কলা খাওয়ার কৌশল

কলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ নাশতায় রূপান্তর করতে এর সঙ্গে প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যুক্ত করা জরুরি। এতে রক্তে শর্করার শোষণ ধীর হয় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

-টক দইয়ের সঙ্গে কলার স্লাইস ও চিয়া সিড।

-ওটমিলের ওপর বাদাম ও কলার টুকরা।

-পিনাট বাটার বা বাদামের মাখনের সঙ্গে কলার স্লাইস।

-একটি সেদ্ধ ডিম এবং একটি কলা।

দিনে কয়টি কলা খাওয়া নিরাপদ

ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েটের অংশ হিসেবে একজন সুস্থ মানুষের জন্য দিনে **১ থেকে ২টি** কলা খাওয়াকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। এর বেশি খেলে কিছু সমস্যা হতে পারে:

পুষ্টির ঘাটতি: শুধু কলা বেশি খেলে প্রোটিন, ফ্যাট, ক্যালসিয়াম বা আয়রনসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার খাওয়ার জায়গা থাকে না।

ওজন বৃদ্ধি: অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণে ওজনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

কিডনি সমস্যা: যাঁদের কিডনি জটিলতা রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত পটাশিয়ামের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কলা খাওয়া উচিত।

সকালে শুধু কলা না খেয়ে এর সঙ্গে কিছু বাদাম বা প্রোটিন যুক্ত করুন। ছবি: পেক্সেলস
সকালে শুধু কলা না খেয়ে এর সঙ্গে কিছু বাদাম বা প্রোটিন যুক্ত করুন। ছবি: পেক্সেলস

ব্যায়ামের আগে ও পরে কলা এবং দুধ: পুষ্টিবিদেরা কী বলেন?

ব্যায়াম বা শরীরচর্চার আগে ও পরে কী খাচ্ছেন, তা আপনার পারফরম্যান্স এবং শরীরের পুনরুদ্ধারের (Recovery) ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য খাবার হিসেবে কলা এবং দুধের কম্বিনেশন নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহল আছে। আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর উপকারিতা ও সঠিক ব্যবহারের নিয়মগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

ব্যায়ামের আগে কলা খাবেন কি না

ব্যায়ামের আগে ‘প্রি-ওয়ার্কআউট স্ন্যাক্স’ হিসেবে কলা ভালো খাবার। কলায় থাকা সহজ শর্করা দ্রুত হজম হয়ে শরীরে শক্তি জোগায়। এতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার শোষণকে ধীর রাখে, ফলে দীর্ঘক্ষণ ধরে আপনি শক্তি পান। ব্যায়ামের সময় ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পটাশিয়াম বেরিয়ে যায়। পটাশিয়ামের অভাব হলে মাংসপেশিতে টান বা ক্র্যাম্প (Cramps) ধরতে পারে। একটি মাঝারি কলা আপনার দৈনিক পটাশিয়ামের চাহিদার ১০-১৪ শতাংশ পূরণ করে মাংসপেশির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে। এটি চর্বিমুক্ত এবং সহজপাচ্য হওয়ায় পেট ভার না করে বা অস্বস্তি না ঘটিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দেয়।

ব্যায়াম-পরবর্তী সময়ে কলা ও দুধ

ব্যায়াম শেষ করার পর পেশি মেরামত এবং ক্ষয়প্রাপ্ত শক্তি ফিরিয়ে আনা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কলা ও দুধের মিশ্রণ (যেমন: স্মুদি বা শেক) দারুণ কাজ করে। দুধে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন ক্ষতিগ্রস্ত পেশি টিস্যু মেরামতে এবং নতুন পেশি গঠনে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সময় পেশিতে সঞ্চিত যে জ্বালানি (গ্লাইকোজেন) খরচ হয়, কলার কার্বোহাইড্রেট তা দ্রুত পূরণ করতে সাহায্য করে। দুধের ক্যালসিয়াম, বি-ভিটামিন ও ফসফরাস এবং কলার ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি মিলে শরীরের সার্বিক পুষ্টি নিশ্চিত করে।

অনেকে মনে করেন, কলা ও দুধ একসঙ্গে খেলে হজমে সমস্যা বা ওজন বাড়তে পারে। কলা এবং দুধ উভয়ই পুষ্টিকর হলেও এতে মাঝারি পরিমাণে ক্যালরি থাকে। আপনার ডায়েটের অন্য খাবারের সঙ্গে সমন্বয় না করে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন বাড়তে পারে। পরিমিতিবোধ এখানে মূল চাবিকাঠি। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, কলা ও দুধকে একসঙ্গে খাওয়া ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলা হলেও, আধুনিক বিজ্ঞানে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা হজমে ব্যাঘাত ঘটায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সূত্র: হেলথ লাইন

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিয়ার নাম না বলায় বিএনপির স্বাধীনতার অনুষ্ঠান বর্জন, ইউএনও বদলি

ইসরায়েলের পরমাণু বোমার তথ্য ফাঁসকারী আরব ইহুদি ভানুনুর ভাগ্যে কী ঘটেছিল

খারগ দ্বীপের দখলে ভেঙে পড়বে আইআরজিসি, শেষ হবে যুদ্ধ: হোয়াইট হাউস

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ নিহত ৫

ইরানের প্রেসিডেন্টের পুত্র ইউসেফ পেজেশকিয়ানের ডায়েরিতে উঠে এল যুদ্ধের চিত্র

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত