ফিচার ডেস্ক, ঢাকা

চা–কফির শখ মানুষের থাকে। সে শখ পূরণ করার জন্য মানুষের পাগলামির বিভিন্ন গল্প শোনা যায়, সে পর্যন্ত মেনে নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কফিনে শুয়ে কফি পান! সেটাও এখন শুরু হয়েছে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গড়ে উঠেছে এই ভিন্ন ধরনের ক্যাফে। নাম কিড মাই ডেথ অ্যাওয়ারনেস ক্যাফে। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে মৃত্যু চিন্তার মাধ্যমে জীবন উপলব্ধি করানো। ক্যাফেটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ভীরানুত রোজানাপ্রাপা একজন ধর্মতত্ত্ব গবেষক। এই ক্যাফেতে রয়েছে একটি সাদা কফিন। সেখানে শুয়ে থাকলে মিলবে কফির দামের ওপর ছাড়। এ ছাড়া রয়েছে দর্শনের ক্লাস, নিজের শেষকৃত্য পরিকল্পনার ডেস্ক, এমনকি নিজের জন্য চিঠি লিখে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থাও।
প্রথমে বলে রাখা ভালো, ক্যাফেটিতে ঢুকেই কোনো ভূতের সিনেমার সেটের মতো ভয়ের কিছু পাবেন না। বরং সাজানো-গোছানো, উন্মুক্ত একটা জায়গা— আগে সেখানে ছিল একটি নিরামিষ ফুড কোর্ট। টেবিল-চেয়ার সবই সাধারণ সাদা রঙের। তবে কোণে একটি কফিন, একটি কঙ্কাল, আর তিনটি ডেস্ক আছে। সেই ডেস্ক গুলোতে বসে আপনি নিজের শেষকৃত্যের পরিকল্পনা লিখে ফেলতে পারবেন!

অধ্যাপক ভীরানুত মনে করেন, মৃত্যুচিন্তা মানুষের লোভ ও রাগ কমায়, ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে। তরুণেরা যেহেতু অধিকাংশ সময় ক্যাফেতে কাটায়, তাই তাদের কাছে পৌঁছাতে এই মাধ্যম বেছে নিয়েছেন তিনি। সেই ক্যাফের দেয়ালে ঝুলছে নানান ধরনের প্রশ্ন। তার একটি হলো, ‘আপনি কি সুখী?’, একটি ‘কার জন্য আপনি এত পরিশ্রম করেন?’। আরেকটি হলো ‘শেষ চিঠি আপনি কাকে লিখবেন?’
ক্যাফেটির এক কোণে আছে বিশাল পোস্টার। তাতে দেখা যায় এক বয়স্ক দম্পতি লাফাচ্ছেন আর নিচে লেখা ‘নিজের বয়সে খুশি থাকুন।’
এত কিছু দেখা শেষে আপনি চাইলে কফিনে শুয়ে কফি পান করতে পারেন। আর এটিই ক্যাফের প্রধান আকর্ষণ। কারণ কফিনে শুয়ে কফি খেলেই পাওয়া যাবে বিশেষ মূল্য ছাড়।
কফির ক্রেতা চাইলে কফিনে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকতে পারেন। স্টাফ এসে কফিনের ঢাকনা লাগিয়ে দেবেন। ভয় নেই, কফিনে বাতাস ঢোকার জন্য রয়েছে ছোট ছোট ছিদ্র। তবে সেগুলো দিয়ে বাতাস ঢুকলেও আলো ঢুকবে না।

মৃত্যু-সচেতনতা
‘কিড মাই’ শব্দটি থাই ভাষার। এর অর্থ ‘পুনর্বিবেচনা’। ব্যাংককের এই ব্যতিক্রমী ক্যাফেটির উদ্দেশ্যও তাই— মানুষ যেন জীবন, মৃত্যু ও ক্ষণস্থায়ী সময় নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখে। এখানে খাবার বা পানীয় মূল আকর্ষণ নয়। বরং মৃত্যুর বাস্তবতা ও জীবনের গভীরতা অনুধাবনের এক সুযোগ করে দেয় এই ক্যাফেটি। এর উদ্যোক্তা অধ্যাপক ভীরানুত রোজানাপ্রাপা চেয়েছেন মৃত্যু নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সচেতনতা তৈরি করতে।
অদ্ভুতরে মেন্যু
ক্যাফের মেন্যু দেখলে চোখ কপালে উঠবে। কফির নামগুলো যেন জীবন থেকে মৃত্যুর কাউন্টডাউন। নামগুলো হলো,
সব গরম কফির দাম ৫৫ থাই বাথ বা বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ১৭০ টাকা। তবে ঠান্ডা হলে দাম বাড়ে। হয়ে যায় ৬৫ বাথ বা প্রায় ২০০ টাকা।
খাবার চাইলে ধৈর্য ধরতে হবে
যারা দ্রুত কফি চান, তাঁদের জন্য এই ক্যাফে নয়। কিছু ক্রেতা জানিয়েছেন, অর্ডার দেওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরও তাঁরা কফি হাতে পাননি। কেউ কেউ কফি পান না করেই চলে গেছেন। অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, ‘অপেক্ষা কারও হয়তো এক শিক্ষা। প্রত্যাশা আর ক্ষণস্থায়ী জীবনের আসক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।’

মৃত্যু পরিকল্পনা ফরম
ক্যাফের এক কোণে রাখা আছে একটা ছোট ডেস্ক। ওপর থেকে দেখলে মনে হবে, কেউ বুঝি ফিডব্যাক ফরম লিখে রেখে গেছে। কিন্তু একটু ভালো করে তাকালেই চোখ কপালে উঠবে। এই ফরমগুলো হলো শেষকৃত্য পরিকল্পনা ফরম। মানে কি না আপনি মৃত্যুর আগে লিখে রাখতে পারেন, আপনার মৃত্যুর পর কীভাবে আপনার বিদায় জানানো হবে। আর এখানেই দেখা গেল মানুষের কল্পনার রাজ্যে মৃত্যু নিয়ে কত বিচিত্র ভাবনা!
এক নারী লিখেছেন, তিনি নিজের শেষযাত্রার জন্য বরাদ্দ রেখেছেন ৫০ মিলিয়ন থাই বাথ বা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা! এই ফরমগুলো পড়তে গেলে বোঝা যায়, মৃত্যু নিয়েও মানুষ কতটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও সৃজনশীল।
জীবনের যত ব্যস্ততা থাক, মৃত্যু একদিন আসবেই। এই সত্যকে যদি এক কাপ কফির সঙ্গে উপলব্ধি করা যায়, তবে হয়তো সেটিও হয়ে উঠতে পারে কারও জীবনে পান করা সুস্বাদু কফি।
সূত্র: সিএনএন এবং কোকোনাট ব্যাংকক

চা–কফির শখ মানুষের থাকে। সে শখ পূরণ করার জন্য মানুষের পাগলামির বিভিন্ন গল্প শোনা যায়, সে পর্যন্ত মেনে নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কফিনে শুয়ে কফি পান! সেটাও এখন শুরু হয়েছে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গড়ে উঠেছে এই ভিন্ন ধরনের ক্যাফে। নাম কিড মাই ডেথ অ্যাওয়ারনেস ক্যাফে। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে মৃত্যু চিন্তার মাধ্যমে জীবন উপলব্ধি করানো। ক্যাফেটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ভীরানুত রোজানাপ্রাপা একজন ধর্মতত্ত্ব গবেষক। এই ক্যাফেতে রয়েছে একটি সাদা কফিন। সেখানে শুয়ে থাকলে মিলবে কফির দামের ওপর ছাড়। এ ছাড়া রয়েছে দর্শনের ক্লাস, নিজের শেষকৃত্য পরিকল্পনার ডেস্ক, এমনকি নিজের জন্য চিঠি লিখে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থাও।
প্রথমে বলে রাখা ভালো, ক্যাফেটিতে ঢুকেই কোনো ভূতের সিনেমার সেটের মতো ভয়ের কিছু পাবেন না। বরং সাজানো-গোছানো, উন্মুক্ত একটা জায়গা— আগে সেখানে ছিল একটি নিরামিষ ফুড কোর্ট। টেবিল-চেয়ার সবই সাধারণ সাদা রঙের। তবে কোণে একটি কফিন, একটি কঙ্কাল, আর তিনটি ডেস্ক আছে। সেই ডেস্ক গুলোতে বসে আপনি নিজের শেষকৃত্যের পরিকল্পনা লিখে ফেলতে পারবেন!

অধ্যাপক ভীরানুত মনে করেন, মৃত্যুচিন্তা মানুষের লোভ ও রাগ কমায়, ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে। তরুণেরা যেহেতু অধিকাংশ সময় ক্যাফেতে কাটায়, তাই তাদের কাছে পৌঁছাতে এই মাধ্যম বেছে নিয়েছেন তিনি। সেই ক্যাফের দেয়ালে ঝুলছে নানান ধরনের প্রশ্ন। তার একটি হলো, ‘আপনি কি সুখী?’, একটি ‘কার জন্য আপনি এত পরিশ্রম করেন?’। আরেকটি হলো ‘শেষ চিঠি আপনি কাকে লিখবেন?’
ক্যাফেটির এক কোণে আছে বিশাল পোস্টার। তাতে দেখা যায় এক বয়স্ক দম্পতি লাফাচ্ছেন আর নিচে লেখা ‘নিজের বয়সে খুশি থাকুন।’
এত কিছু দেখা শেষে আপনি চাইলে কফিনে শুয়ে কফি পান করতে পারেন। আর এটিই ক্যাফের প্রধান আকর্ষণ। কারণ কফিনে শুয়ে কফি খেলেই পাওয়া যাবে বিশেষ মূল্য ছাড়।
কফির ক্রেতা চাইলে কফিনে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকতে পারেন। স্টাফ এসে কফিনের ঢাকনা লাগিয়ে দেবেন। ভয় নেই, কফিনে বাতাস ঢোকার জন্য রয়েছে ছোট ছোট ছিদ্র। তবে সেগুলো দিয়ে বাতাস ঢুকলেও আলো ঢুকবে না।

মৃত্যু-সচেতনতা
‘কিড মাই’ শব্দটি থাই ভাষার। এর অর্থ ‘পুনর্বিবেচনা’। ব্যাংককের এই ব্যতিক্রমী ক্যাফেটির উদ্দেশ্যও তাই— মানুষ যেন জীবন, মৃত্যু ও ক্ষণস্থায়ী সময় নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখে। এখানে খাবার বা পানীয় মূল আকর্ষণ নয়। বরং মৃত্যুর বাস্তবতা ও জীবনের গভীরতা অনুধাবনের এক সুযোগ করে দেয় এই ক্যাফেটি। এর উদ্যোক্তা অধ্যাপক ভীরানুত রোজানাপ্রাপা চেয়েছেন মৃত্যু নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সচেতনতা তৈরি করতে।
অদ্ভুতরে মেন্যু
ক্যাফের মেন্যু দেখলে চোখ কপালে উঠবে। কফির নামগুলো যেন জীবন থেকে মৃত্যুর কাউন্টডাউন। নামগুলো হলো,
সব গরম কফির দাম ৫৫ থাই বাথ বা বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ১৭০ টাকা। তবে ঠান্ডা হলে দাম বাড়ে। হয়ে যায় ৬৫ বাথ বা প্রায় ২০০ টাকা।
খাবার চাইলে ধৈর্য ধরতে হবে
যারা দ্রুত কফি চান, তাঁদের জন্য এই ক্যাফে নয়। কিছু ক্রেতা জানিয়েছেন, অর্ডার দেওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরও তাঁরা কফি হাতে পাননি। কেউ কেউ কফি পান না করেই চলে গেছেন। অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, ‘অপেক্ষা কারও হয়তো এক শিক্ষা। প্রত্যাশা আর ক্ষণস্থায়ী জীবনের আসক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।’

মৃত্যু পরিকল্পনা ফরম
ক্যাফের এক কোণে রাখা আছে একটা ছোট ডেস্ক। ওপর থেকে দেখলে মনে হবে, কেউ বুঝি ফিডব্যাক ফরম লিখে রেখে গেছে। কিন্তু একটু ভালো করে তাকালেই চোখ কপালে উঠবে। এই ফরমগুলো হলো শেষকৃত্য পরিকল্পনা ফরম। মানে কি না আপনি মৃত্যুর আগে লিখে রাখতে পারেন, আপনার মৃত্যুর পর কীভাবে আপনার বিদায় জানানো হবে। আর এখানেই দেখা গেল মানুষের কল্পনার রাজ্যে মৃত্যু নিয়ে কত বিচিত্র ভাবনা!
এক নারী লিখেছেন, তিনি নিজের শেষযাত্রার জন্য বরাদ্দ রেখেছেন ৫০ মিলিয়ন থাই বাথ বা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা! এই ফরমগুলো পড়তে গেলে বোঝা যায়, মৃত্যু নিয়েও মানুষ কতটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও সৃজনশীল।
জীবনের যত ব্যস্ততা থাক, মৃত্যু একদিন আসবেই। এই সত্যকে যদি এক কাপ কফির সঙ্গে উপলব্ধি করা যায়, তবে হয়তো সেটিও হয়ে উঠতে পারে কারও জীবনে পান করা সুস্বাদু কফি।
সূত্র: সিএনএন এবং কোকোনাট ব্যাংকক

সকালের নাশতায় ডিম অনেকের প্রথম পছন্দ। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর। ডিমের হরেক পদের মধ্যে স্ক্র্যাম্বলড এগ বা ডিমের ঝুরি এর স্বাদের জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। স্ক্র্যাম্বলড এগ তৈরি করা খুব কঠিন কিছু নয়। তবে ভালো টেক্সচার পেতে হলে কিছু সহজ ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
৮ মিনিট আগে
প্রতিদিনের নানামুখী চাপ শরীরের পাশাপাশি মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। এসব চাপ থেকে শরীর ও মনকে রেহাই দিতে আধা ঘণ্টা কুসুম গরম পানিতে গোসল করার পরামর্শ দেন অনেকে। এই গরম পানিতে আরামদায়ক গোসল সারা দিনের চাপ এবং উত্তেজনাকে একটু হলেও হালকা করে। চলতি ট্রেন্ডে কেবল কুসুম গরম পানিই নয়, সে পানিতে লবণ যোগ করার...
১০ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালের শেষে ‘ভোগ’ জানিয়েছিল, বয়ফ্রেন্ডরা আর ট্রেন্ডি নয়। তাহলে ২০২৬ সালে ট্রেন্ড কী? অতীতের দিকে তাকালে যেমন নির্দিষ্ট কিছু ফ্যাশন বা খাবার দেখে সেই সময়কালকে চেনা যেত। ২০২৬ সালও তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে এই বছরের মূলমন্ত্র হলো—সবকিছুকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলা। বড় ইভেন্ট বা উচ্চ...
১৬ ঘণ্টা আগে
১৯৯৮ সালে ইংল্যান্ডের ইস্ট ইয়র্কশায়ারের হাল শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন বুশবি। তখন বয়স ছিল ২৯। আজ বয়স ৫৬। প্রায় ২৭ বছর তিনি হেঁটে চলেছেন। পাড়ি দিয়েছেন ২৫টি দেশের প্রায় ৫৮ হাজার কিলোমিটার পথ। এই অভিযানের নাম তিনি দিয়েছিলেন গোলিয়াথ অভিযান। যেখানে একমাত্র শর্ত ছিল, কোনো মোটরচালিত যান ব্যবহার করা...
১৮ ঘণ্টা আগে