পাহাড়ে গিয়ে ডিভোর্স! চমকে ওঠার মতোই তথ্য বটে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে টিকটকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, দারুণ পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে হেঁটে চলেছেন এক নারী। ভিডিওটির মূলকথা ছিল, পাহাড়ে হাইকিংয়ে গিয়ে যখন দেখেন, আপনাকে মাঝপথে একা ফেলে সঙ্গীটি চলে যায়, তখন বোঝা যায়, সে আপনাকে কখনোই ভালোবাসেনি।
ইনস্টাগ্রামের এই ভিডিও শুধু একটি ঘটনাকে আমাদের সামনে আনেনি; বরং সম্পর্কের এক নির্মম বাস্তবতাকে সামনে এনেছিল।
‘অ্যালপাইন ডিভোর্স’ শব্দটির উৎপত্তি বেশ চমকপ্রদ। ১৮৯৩ সালে স্কটিশ-কানাডীয় ঔপন্যাসিক রবার্ট বার ‘অ্যান অ্যালপাইন ডিভোর্স’ নামের একটি ডার্ক-কমেডি ছোটগল্প লেখেন। সেই গল্পে এক স্বামী তার স্ত্রীকে আল্পস পর্বতের চূড়া থেকে ফেলে দেওয়ার ছক কষে। এর দীর্ঘ সময় পর, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই শব্দ নতুন করে ভাইরাল হয়। অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ গ্রসগ্লকনারের এক বিপজ্জনক ট্রেইলে প্রেমিকাকে একা ফেলে চলে যান এক ট্রেকার, যেখানে মেয়েটি পরে ঠান্ডায় জমে মারা যায়! এই নির্মম ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে নারীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের জীবনের গল্প শেয়ার করতে শুরু করেন।
ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা এবং এর আশপাশের অঞ্চল প্রধানত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। ফলে ‘অ্যালপাইন ডিভোর্স’ একটি প্রতীকী শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনোবিদেরা বলছেন, এই বিচ্ছেদ বা পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনাটি সব সময় যে পাহাড়ের চূড়াতেই ঘটে, তা নয়। সুন্দর সাজানো চেনা ড্রয়িংরুম, প্রতিদিনের চেনা সংসার কিংবা তীব্র সংকটের মুহূর্তে সঙ্গীর উদাসীন আচরণের মধ্য দিয়েও এটি ঘটতে পারে।
আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানসিক একাকিত্ব চিহ্নিত করা কঠিন। কারণ, এখানে সম্পর্কের স্থায়িত্ব প্রায়শই সামাজিক অবস্থান ও আর্থিক সচ্ছলতার মাপকাঠিতে মাপা হয়। উপরন্তু, মেয়েদের ছোটবেলা থেকে ‘মানিয়ে নেওয়া’ বা আপস করার পাঠ পড়ানো হয়। এর ফলে সঙ্গীর পাশে থেকেও দিনের পর দিন চরম নিঃসঙ্গতায় ভোগার এই মানসিক কষ্টটুকু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমাজের চোখে অদৃশ্য থেকে যায়।

ভালোবাসার মানুষকে চরম বিপদে ফেলে চলে যাওয়ার পেছনে মনোবিদেরা দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন—
সহানুভূতিশীল মানুষ অনুভব করতে পারে, তার ওপর নির্ভরশীল মানুষকে বা মানুষদের একা ফেলে গেলে সে বা তারা বিপদে পড়বে, যা তাকে মানসিকভাবে ভালো থাকতে দেবে না। কিন্তু যাদের মধ্যে সহানুভূতির অভাব রয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের স্বার্থ ও আত্মকেন্দ্রিক আবেগকেই প্রাধান্য দেয় এবং সঙ্গীকে বা নির্ভরশীল মানুষদের অনায়াসে একা ফেলে চলে যায়।
কিছু মানুষের নিজের রাগের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তারা ক্ষোভ বা অবহেলার মতো নেতিবাচক আবেগের বশবর্তী হয়ে তাৎক্ষণিক ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এরা পরবর্তী সময়ে শান্ত হলে নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা জানিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
লক্ষণগুলো চেনা: আপনার সঙ্গী আপনার মন খারাপ বুঝতে পারে কি না, আপনার তীব্র উদ্বেগের সময় পাশে বসে কি না, নাকি সব সময় নিজের আবেগ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতাকে প্রাধান্য দেয়, তা সম্পর্কের শুরুতেই খেয়াল করুন।
স্পষ্ট যোগাযোগ: কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি না করে নিজের মানসিক চাহিদার কথা সঙ্গীকে স্পষ্টভাবে জানান। মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন।
নিজের যত্ন ও পেশাদার সাহায্য নেওয়া: যদি সঙ্গী আপনার মানসিক যন্ত্রণাকে বারবার অবহেলা বা খাটো করে দেখে, তবে নিজের মানসিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিন। প্রয়োজনে একজন কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।
একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক মানুষকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে, অসহায় বা নিঃসঙ্গ করে না। চারদেয়ালের ভেতরে সঙ্গী থাকার পরেও যদি আপনি প্রতিনিয়ত একাকিত্ব অনুভব করেন, তবে বুঝতে হবে, সম্পর্কটি শুধু নামেই টিকে আছে, বেঁচে নেই।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে ও অন্যান্য

দৈনন্দিন জীবনে কেনাকাটা করতে গিয়ে কিংবা রেস্তোরাঁয় খেতে বসে আমরা কত খাবারই না অপচয় করি। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই খাদ্য অপচয় রোধে আইন করে পৃথিবীতে এক অবিশ্বাস্য বিপ্লব ঘটিয়েছে ফ্রান্স? বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা সুপারমার্কেটগুলোর ভালো খাবার ফেলে দেওয়া বা নষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
৫ ঘণ্টা আগে
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো বললে অনেকে না-ও চিনতে পারেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারকে। কিন্তু যদি বলা হয় ‘কুটি রোমেরো’ তাহলে বেশির ভাগ ফুটবলপ্রেমী চিনবেন তাঁকে। হ্যাঁ, আপনাদের প্রিয় কুটি রোমেরোর পুরো নাম ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। তবে আর্জেন্টিনার সাবেক গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলবেন না
৭ ঘণ্টা আগে
২০৪০ সালের মধ্যে ১৮টি ভিন্ন খাতে ১ কোটি এআই-চালিত রোবট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। এই ঐতিহাসিক রোবোটিকস অভিযানের জন্য দেশটির সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার তহবিল বরাদ্দ করেছে।
৯ ঘণ্টা আগে
লিওনেল মেসির স্ত্রী! আন্তোনেলা রোকুজ্জো এই পরিচয়ে পরিচিত হলেও তিনি নিজেই আসলে মডেল হিসেবে বিখ্যাত ও সফল। রোকুজ্জো টিফানি অ্যান্ড কোং ও অ্যাডিডাসের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং পল ম্যাককার্টনির ফ্যাশন ডিজাইনার কন্যা স্টেলা ম্যাককার্টনির সঙ্গেও জুটি বেঁধে কাজ করেছেন।
১১ ঘণ্টা আগে