বিশ্বখ্যাত ওয়ার্ল্ড ফুড ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা এরিক উলফ। তাঁর মতে, মহামারি পরবর্তী সময়ে মানুষ এখন অনেক বেশি জেনুইন বা খাঁটি অভিজ্ঞতা খুঁজছে। তারা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশতে চায়। এ ক্ষেত্রে খাবারই হলো সেই মেলবন্ধনের প্রধান মাধ্যম। খাবার এখন আর কেবল পেট ভরানোর মাধ্যম নয়। বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে এটি অন্যতম সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় শো ‘কালিনারি ক্লাস ওয়ার্স’-এর দ্বিতীয় সিজন প্রচারের পর দক্ষিণ কোরিয়ার রেস্তোরাঁশিল্পে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শেফদের রেস্তোরাঁগুলোতে রিজার্ভেশন এবং ওয়েটলিস্টের সংখ্যা গড়ে ৩০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
একটি অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভালোভাবে ফুটে ওঠে সেই অঞ্চলের রান্নায়। তাই ভোজন-পর্যটন বা কালিনারি ট্যুরিজমের এই প্রভাব কেবল কোরিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। সিঙ্গাপুর এবং জাপানেও এটি এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠছে।
নেটফ্লক্সের এই শোটির বিশেষত্ব হলো এর প্রতিযোগীদের শ্রেণিবিন্যাস। এখানে ‘ব্ল্যাক স্পুন’ ভার্সেস ‘হোয়াইট স্পুন’ লড়াই হয়ে থাকে। ব্ল্যাক স্পুন হলো লুকোনো প্রতিভাধর শেফ। তাঁদের সঙ্গে হোয়াইট স্পুন বা অভিজাত শেফদের লড়াই দেখানো হয়। আমরা জানি, স্ট্রিট ফুড ও মিশেলিয়ান স্টারের মধ্যে পার্থক্য আছে। একটা সময় ছিল যখন শুধু মিশেলিন স্টার শেফদের খাবার নিয়ে আলোচনা হতো বেশি। তবে বর্তমানে স্ট্রিট ফুডও আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। কারণ, ভ্রমণের জন্য কোনো পর্যটক কোনো এলাকায় গেলে তাঁরা অল্প বাজেটে সেই এলাকার ভালো খাবার খেতে চান। ফলে জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলো তাঁরা খুঁজে থাকেন। অর্থাৎ খাবারের জায়গাটিও বদলে গেছে অনেকটাই। এর ফলে একই সঙ্গে আভিজাত্য এবং শেকড়ের টান উভয়ই উপভোগ করা যায়। আর কালিনারি ক্লাস ওয়ার্স অনুষ্ঠানটি এই ব্ল্যাক স্পুন ভার্সেস হোয়াইট স্পুন লড়াই মূলত স্ট্রিট ফুড এবং মিশেলিন-স্টার মানের খাবারের মধ্যকার পার্থক্যকেই প্রতিফলিত করে। মিলেনিয়াল এবং জেন-জি প্রজন্মের পর্যটকেরা নিজেদের সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে নতুন কিছু অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে বেশি আগ্রহী। তাঁরা রাস্তার ধারের সস্তা খাবার থেকে শুরু করে দামি রেস্তোরাঁ উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য খুঁজছেন। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া এ বছরের পর্যটন নীতিতে ‘ফুড ট্যুরিজম’ অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ভোজনরসিকদের আকর্ষণে সিঙ্গাপুর ও জাপান বর্তমানে শীর্ষস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে পর্যটকদের মোট খরচের একটি বড় অংশ ছিল খাবারের পেছনে। দর্শনার্থী মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়লেও খাবার ও পানীয় খাতে আয় বেড়েছে ১৫ শতাংশ। আর ২০১৫ সালে জাপানে ৭০ শতাংশ পর্যটক সে দেশে যেত জাপানি খাবারের স্বাদ নিতে। ২০২৪ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ শতাংশে। পর্যটকেরা এখন সিজনাল ফল, যেমন—হোয়াইট স্ট্রবেরি বা পিচ এবং খাঁটি আঞ্চলিক খাবারের সন্ধানে ছোট শহরগুলোতেও পাড়ি জমাচ্ছেন।
বর্তমান সময়ে পর্যটকেরা কেবল বিলাসিতা খোঁজেন, এমন নয়। তাঁরা অর্থবহ অভিজ্ঞতা খুঁজছেন। তাই এখনকার ট্যুরগুলোতে বেশ কিছু নতুন ধারণা যুক্ত হয়েছে। যেমন—
ফার্ম টু টেবিল: সরাসরি স্থানীয় খামার থেকে সংগৃহীত টাটকা ও মৌসুমি উপকরণের স্বাদ।
সি টু টেবিল: উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে ধরা মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়া।
কিলোমিটার জিরো: ইতালিতে এই ধারণাটি বেশ জনপ্রিয়। এর মানে হলো উপকরণগুলো আশপাশের এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়, যা সতেজতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
হিলটনের ২০২৫ সালের ট্রেন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ লাক্সারি পর্যটক এখন সেই হোটেলগুলোকেই প্রাধান্য দেন, যেখানে খাবারের ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। এখনকার হোটেলগুলো কেবল আর থাকার জায়গা নয়, বরং স্বতন্ত্র একটি ভোজনশালা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। দক্ষিণ কোরিয়াতে পর্যটকেরা এখন মিশেলিন স্টারের পাশাপাশি রাস্তার ধারের ‘জি ফোর’ বা সস্তা খাবারেও আগ্রহী। সিঙ্গাপুরের আমরা হোল্ডিংসের মতো, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পর্যটকদের স্থানীয় হকার সেন্টার বা কাঁচাবাজারে গাইডেড ট্যুর দিচ্ছে। হোটেল ক্যাপেলা সিঙ্গাপুরের শেফরা নিজেরাই গাইড হয়ে পর্যটকদের বাজারে নিয়ে যান। উপকরণ কেনা শেখান এবং পরে কিচেনে এসে সেই উপকরণ দিয়ে ডিশ তৈরি করে দেখান। অর্থাৎ তাঁরা পর্যটকদের শুধু থাকার জন্য স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছেন—এমন নয়। তাঁদের খাবারের বিষয়ে জানাচ্ছেন, নিজেদের খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে একটা প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন। কালিনারি সংস্কৃতি রক্ষায় এবং কৃষিবীজ সংরক্ষণে নারীদের ঐতিহাসিক অবদানকে এতে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: সিএনবিসি, ইনসাইট ভ্যাকেশনস

বিমানযাত্রা সবার জন্য আনন্দঘন হয় না। অনেকে বিমানযাত্রার কথা ভেবেই ভয় পেয়ে যান। ফলে ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও ভয় কাটিয়ে ঘুরতে যাওয়া আর হয়ে ওঠে না। আপনি কি বিমানযাত্রায় ভয় পান? অসুস্থতার জন্য যেমন ডাক্তারের পরামর্শ নেন। তেমনই বিমানযাত্রায় ভয় ঠেকাতে অভিজ্ঞ বৈমানিক আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন।
৪ ঘণ্টা আগে
১২ মে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলিউড তারকা আলিয়া ভাট উপস্থিত হয়েছিলেন। জমকালো এই আয়োজনের লালগালিচায় যেন উড়ে বেড়াচ্ছিল গোলাপি এক পালক। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি কানে অংশ নেন। এত মিনিমাল সাজে এতটা আভা ছড়ানো যায়, তা তাঁর এই রূপ দেখেই ভক্তকুল বুঝে নিয়েছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
ছুটির দিনে সাধারণত মাংস রান্না হয়। যদি মাংস খেতে মন না চায়, তাহলে মাছের কোনো ভিন্ন স্বাদের পদ রান্না করতে পারেন। আপনাদের জন্য লেবু পাঙাশের রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
৮ ঘণ্টা আগে
আপনি কি দিনের শেষে তুচ্ছ কোনো কারণে মেজাজ হারান? ধরুন, ট্রাফিক জ্যামে বসে আছেন। হঠাৎ পাশের জনের কোনো একটা কথায় কি রেগে যান? অথবা কারও ছোট একটা কথায় কি একদম ভেঙে পড়েন? আপনার অস্থিরতার গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল আবেগটি চিনুন। জানুন এটা কেন হচ্ছে।
১ দিন আগে