
একসময় পরিবারের চিত্রগুলো ছিল আলাদা। গ্রামীণ জীবনে বিকেল গড়ালেই চাঁদের বুড়ির সুতো কাটার গল্প শোনাতেন দাদি-নানিরা। কিংবা হাটের দিনে বায়না ধরে দাদা-নানার হাত ধরে বাজারে যাওয়া ছিল এক পরম পাওয়া। কিন্তু সময়ের স্রোতে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে আজ ছোট ছোট পরিবার হয়ে গেছে। এখন নাতি-নাতনিদের সঙ্গে বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখা মেলে কেবল উৎসব বা বড় কোনো ছুটিতে। যান্ত্রিক এই জীবনে আমরা ভাবি, বয়স্ক মানুষগুলো বোধ হয় একটু একা থাকলেই শান্তিতে থাকবেন। কোলাহল, হই হই হয়তো তাঁদের ভালো লাগবে না। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ঠিক উল্টো কথা। গবেষণা বলছে, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটানো কেবল শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক নয়; বরং এটি দাদি-নানি কিংবা দাদা-নানাদের মস্তিষ্ক সচল রাখতে এবং দীর্ঘায়ু পেতে জাদুকরী ওষুধের মতো কাজ করে।
মস্তিষ্কের সুরক্ষায় নাতি-নাতনিদের স্পর্শ
যাঁরা নিয়মিত নাতি-নাতনিদের সময় দেন, তাঁদের মৃত্যুর ঝুঁকি যাঁরা নিয়মিত সময় দেন না তাঁদের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমে যায়।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা করলে প্রবীণদের সাবলীলভাবে কথা বলা এবং ব্যক্তিগত স্মৃতি মনে রাখার ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এপিএ ডট ওআরজিতে প্রকাশিত ‘গ্র্যান্ড প্যারেন্টিং ইজ গুড ফর দ্য ব্রেইন’ শিরোনামের এক লেখা থেকে জানা যায়, হোমওয়ার্ক বুঝিয়ে দেওয়া, গল্প বলা কিংবা পার্কে নিয়ে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজগুলো প্রবীণদের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সক্রিয় রাখে। নেদারল্যান্ডসের টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফ্লাভিয়া চেরেকাস বলেন, ‘কতক্ষণ সময় দিচ্ছেন তার চেয়ে বড় কথা হলো, আপনি নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা করছেন। এ দায়িত্ববোধই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে বেশি ভূমিকা রাখে।’
জানা গেছে, নাতি-নাতনিদের সঙ্গ থেকে দাদারা যতটা উপকৃত হন, দাদিরা হন তার চেয়েও বেশি। এর কারণ হিসেবে গবেষকেরা বলছেন, দাদি বা নানিরা শিশুদের সঙ্গে আবেগীয় এবং শারীরিকভাবে বেশি সম্পৃক্ত হন। তাঁদের স্মৃতিশক্তি এবং কথা বলার দক্ষতা অন্য সমবয়সীদের তুলনায় অনেক ধীরগতিতে কমে। অন্যদিকে, দাদা বা নানারা মূলত খেলাধুলা কিংবা অবসরের সঙ্গী হিসেবে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। এটি তাঁদেরও মানসিকভাবে তরুণ রাখে।

এক ভিন্ন টনিক
এ ধারাটা এখনো প্রচলিত আছে যে, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানি যে কেউ শিশুদের স্কুল থেকে আনতে যান। কিংবা স্কুলে দিয়ে আসতে যান। যেসব দাদা-দাদি বা নানা-নানি নাতি-নাতনিদের স্কুল থেকে আনতে যান, তাঁদের কথা বলার সাবলীলতা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। বাইরের পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ এবং শিশুদের সঙ্গে ফেরার পথের আড্ডা তাঁদের স্নায়বিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করে। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের করা ‘বার্লিন এজিং স্টাডি’র ২০ বছরের একটি দীর্ঘ সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত নাতি-নাতনিদের সময় দেন, তাঁদের মৃত্যুর ঝুঁকি যাঁরা নিয়মিত সময় দেন না তাঁদের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমে যায়।
কেন এটি কাজ করে
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ডক্টর রোনান ফ্যাক্টরা মনে করেন, বার্ধক্যে সুস্থ থাকার তিনটি প্রধান শর্ত আছে। সেগুলো হলো শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, সামাজিক যোগাযোগ রাখা এবং মস্তিষ্ক উদ্দীপিত করা। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটালে এই তিনটি কাজই একসঙ্গে ঘটে। এটি কেবল প্রবীণদের নিঃসঙ্গতা দূর করে না; বরং তাঁদের জীবনের এক নতুন উদ্দেশ্য ও আনন্দ দেয়। আর এ বিষয়টিই তাঁদের স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমিয়ে হার্টকে সুস্থ রাখে।
ভারসাম্যই আসল কথা
তবে মনে রাখা জরুরি, এই যত্ন বা দেখাশোনা যেন প্রবীণদের ওপর ‘বোঝা’ হয়ে না দাঁড়ায়। যদি তাঁরা স্বেচ্ছায় এবং হাসিমুখে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, তবেই এর সুফল মিলবে। অতিনির্ভরশীলতা বা অতিরিক্ত চাপ হিতে বিপরীত হতে পারে।
আজকের ছোট হয়ে আসা পরিবারগুলোতে দাদি-নানিদের সে রূপকথার গল্পগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই মহামূল্যবান বন্ধনটি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের যেমন নৈতিক ভিত্তি গড়ে দেয়, তেমনি আমাদের প্রিয় প্রবীণদের দিয়ে যায় একটি ধারালো মস্তিষ্ক আর দীর্ঘ আয়ু। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও শিশুদের সঙ্গে তাঁদের এই আত্মিক সংযোগ স্থাপনের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।
সূত্র: দ্য বাম্প, দ্য ডেইলি ডাইজেস্ট

বিজ্ঞান বলছে, পাখির গান বা ‘ডন কোরাস’ কেবল শোনার জন্য মনোরম, তা নয়—এটি আমাদের মস্তিষ্কের জন্য এক অনন্য মহৌষধ। ভোরের পাখির মিষ্টি সুর আমাদের মন থেকে দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে। যখন মানুষ পাখির ডাক শোনে বা পাখি দেখে, তখন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি কয়েক...
৯ ঘণ্টা আগে
একসময় ছিল যখন পাড়ার মোড়ের আড্ডায় কিংবা চায়ের কাপে ঝড় তোলার মূল রসদ ছিল বই। কোনো এক নতুন রহস্য উপন্যাসের রোমাঞ্চ অথবা দস্তয়েভস্কি-রবীন্দ্রনাথের কোনো জটিল দর্শন নিয়ে আলোচনা চলে যেত তুঙ্গে। কে কোন বই পড়ল, কার কোন চরিত্রের প্রতি মায়া জন্মাল সেসব আলোচনা না থাকলে যেন আড্ডাটাই জমত না।
১০ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া ভ্রমণে গিয়ে অনেক পর্যটকই খুঁজছিল শান্ত, নিরিবিলি এক উষ্ণ ঝরনা। অনলাইনে পড়েছিল, বনঘেরা ওয়েল্ডবরো এলাকায় আছে ‘ওয়েল্ডবরো হট স্প্রিংস’, যা নাকি হাইকিংপ্রেমীদের প্রিয় জায়গা। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তারা জানল, এমন কোনো উষ্ণ ঝরনা আদৌ নেই।
১০ ঘণ্টা আগে
লেনি নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও মনোরম রামেলটন শহরের ফুটবল ক্লাব ‘সুইলি রোভার্স’ ১৯৬০-এর দশকে বড় দুটি শিরোপা জেতে। তখন বিজয় উদ্যাপনে ট্রফির ভেতর মদ ঢেলে সবাই মিলে পান করার রীতি ছিল। কিন্তু ম্যাকডেইড পরিবারের সদস্যরা চেয়েছিলেন খেলোয়াড়রা যেন মদ না খেয়েও উদ্যাপন করতে পারেন।
১০ ঘণ্টা আগে