
সামনেই আসছে বসন্ত। শীতের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় এত দিন যাঁরা চার দেয়ালের ভেতরে থাকতে স্বচ্ছন্দবোধ করেছেন, তাঁদের জন্য এখন সময় হয়েছে একটু বাইরে বের হওয়ার। বাড়ির ভেতরে থাকা আরামদায়ক মনে হলেও দীর্ঘ সময় প্রকৃতি বিচ্ছিন্ন থাকা ভালো নয়। এতে শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞান বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে।
আপনার সুস্থতার জন্য তাই ঘর থেকে বের হওয়া জরুরি। চার দেয়ালের বন্দিজীবন আমাদের একধরনের ‘কেবিন ফিভার’ বা ঘরবন্দী অস্থিরতায় ফেলে দেয়। তাই সুস্থ থাকতে শুধু ডায়েট নয়, দরকার বাইরের জগতের সঙ্গে সংযোগ। প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট রোদে বসুন বা পার্কের সবুজে একটু হাঁটুন। এই ছোট ছোট অভ্যাস আপনার আয়ু বাড়াতে এবং মন প্রফুল্ল রাখতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।

মেজাজ ও মানসিক স্বাস্থ্য
ঘরের ভেতরে দীর্ঘক্ষণ থাকলে সূর্যের আলো আমাদের চোখে পড়ে না। সূর্যের আলো মস্তিষ্কের সেরাটোনিন বা ভালো রাখার হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাবে মেজাজ খিটখিটে, বিরক্তি এবং অবসাদে ভুগতে পারেন। এমনকি সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার বা ‘স্যাড’ নামক একধরনের বিষণ্নতা আপনাকে গ্রাস করতে পারে। গবেষণা বলছে, মাত্র ১২ মিনিটের হাঁটা আপনার মানসিক চাপ এবং বিষণ্নতার লক্ষণগুলো অনেক কমিয়ে দিতে পারে।
ঘুম ও জৈবিক ঘড়ি
প্রাকৃতিক আলো আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণ করে। সকালে সূর্যের আলো শরীরে পড়লে মস্তিষ্ক ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন উৎপাদন বন্ধ করে দেয়, যা আমাদের সজাগ থাকতে সাহায্য করে। সারা দিন ঘরে থাকলে এই ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয় এবং রাতে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।
ভিটামিন ডি-এর অভাব ও হাড়ের সমস্যা
আমাদের শরীরের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভিটামিন ডি আসে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে। দীর্ঘ সময় ঘরে থাকলে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দেয়, যা হাড় নরম ও দুর্বল (অস্টিওপোরোসিস) করে ফেলে। এর ফলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও মাংসপেশির দুর্বলতা তৈরি হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভোগা ৯৩ শতাংশ মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা অত্যন্ত কম ছিল।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে
ভিটামিন ডি শুধু হাড় নয়, শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করে। যাঁরা খুব কম বাইরে বের হন, তাঁদের ঠান্ডা-জ্বর বা ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। অবাক করার মতো তথ্য হলো, সূর্যালোকের অভাবে অগ্ন্যাশয়, ফুসফুস এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগ
সূর্যের আলো আমাদের শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে, যা রক্তনালি শিথিল রাখে। এর অভাবে রক্তচাপ বাড়তে পারে, যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আমরা ভাবি, বাইরের বাতাস দূষিত। কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর মতে, ঘরের ভেতরের বাতাস বাইরের চেয়ে ৫ গুণ বেশি দূষিত হতে পারে। রান্নার ধোঁয়া, রঙের কণা বা গুমোট বাতাস ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। তাই জানালা খুলে দেওয়া বা বাইরে একটু বুকভরে শ্বাস নেওয়া আপনার ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
স্থূলতা ও অলস জীবনযাপন
ঘরে থাকার মানেই হলো শারীরিক নড়াচড়া কমে যাওয়া। দীর্ঘক্ষণ বসে টিভি দেখা বা কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে ওজন বাড়ে, যা পরে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদ্রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হার্ভার্ডের এক গবেষণা অনুযায়ী, মানুষ যত বেশি টিভি দেখে, তার স্থূল হওয়ার ঝুঁকি তত বাড়ে।
স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ
শিশুদের জন্য বাইরে খেলাধুলা করা জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু সপ্তাহে অন্তত ১৪ ঘণ্টা বাইরে সময় কাটায়, তাদের চশমা পরার বা ক্ষীণদৃষ্টির ঝুঁকি অনেক কমে যায়। প্রকৃতির মাঝে সময় কাটালে মস্তিষ্ক সজীব হয়। মিশিগান ইউনিভার্সিটির এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রকৃতির কাছাকাছি হাঁটলে মানুষের স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তি প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ে। এটি মস্তিষ্ককে শান্ত হতে এবং সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
মোটকথা, কেবিন ফোবিয়া বা ঘরবন্দী জীবন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। শীতের কারণে সেটা হতে পারে। কিন্তু এখন সময় এসেছে এই কেবিন ফোবিয়া কাটিয়ে ওঠার।
সূত্র: সিএনএন, হেলথ ডাইজেস্ট, ভেরিওয়েল হেলথ, মিডিয়াম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে রাঙামাটিয়া গ্রাম। এখানে ঢুকতেই চোখে পড়ে মাটির ঘরের সারি। তবে এসব ঘর আর দশটি গ্রামের মতো সাদামাটা নয়। কোনো দেয়ালে শিকারি জীবনের দৃশ্য, কোথাও সাঁওতাল তরুণ-তরুণীর নাচ-গান...
২ ঘণ্টা আগে
ঘুম পৃথিবীর সব মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু ঘুমানোর ধরন সব দেশে, সব সংস্কৃতিতে এক নয়। কোনো দেশে শিশুকে শীতের মধ্যেও বাইরে ঘুম পাড়ানো হয়, আবার কোথাও স্বামী-স্ত্রী একই বিছানায় ঘুমালেও ব্যবহার করেন আলাদা কম্বল। দেশ, আবহাওয়া, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের সঙ্গে বদলে যায় ঘুমের অভ্যাসও।...
২ ঘণ্টা আগে
সিলেট ভ্রমণের আনন্দ শুরু হয় ট্রেন বা বাসে ওঠার পর থেকে। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে বাস বা ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা দুই পাশের সবুজ চা-বাগান, সারি সারি গাছ, নদী-খাল আর দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ—সব মিলিয়ে এই যাত্রা হতে পারে স্মরণীয়।
৩ ঘণ্টা আগে
সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে শত ফুট উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে জলরাশি। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ। চারদিকে উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়, বুনো ঝোপ, নামহীন রঙিন বুনো ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মুহূর্তে নিয়ে যাবে কল্পনার রাজ্যে। বলছি খাগড়াছড়ির কথা।
৪ ঘণ্টা আগে