
আজকের দুনিয়ায় এসে তথ্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। কোটি কোটি তথ্য ছড়িয়ে রয়েছে আমাদের চারপাশে। এই তথ্যের ভিড়ে সঠিক তথ্য বেছে নেওয়াটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। একবার যদি ভুল তথ্যকে আশ্রয় করে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, তবেই জীবনে অন্ধকার নেমে আসবে। পড়তে পারেন মারাত্মক বিপদে। সফল ক্যারিয়ার এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বা বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাধারা এখন এক অপরিহার্য দক্ষতা। এটি কেবল নেতিবাচক হওয়া নয়; বরং বস্তুনিষ্ঠভাবে যেকোনো বিষয়কে বিচার করা। ডিজিটাল দুনিয়ার এই উত্তাল তরঙ্গে ডুবে না গিয়ে তার ওপর রাজত্ব করতে হলে ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের বিকল্প নেই। এটি আপনাকে কেবল সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেই সাহায্য করবে না; বরং আপনাকে একজন স্বাধীন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
ক্রিটিক্যাল থিংকিং মানে কেবল সমালোচনা করা নয়। এটি হলো প্রমাণের ভিত্তিতে সত্যের সন্ধান করা। এই পাঁচটি স্তম্ভ অনুসরণ করলে আপনি তথ্যের গোলকধাঁধায় হারিয়ে না গিয়ে বরং আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
তথ্যের সত্যতা ও উৎসের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই
যেকোনো তথ্য গ্রহণের প্রথম শর্ত হলো, তার উৎসকে ব্যবচ্ছেদ করা। এটি আপনাকে অন্ধবিশ্বাস থেকে রক্ষা করে। সতর্ক দৃষ্টি ও উৎস অনুসন্ধান: কোনো তথ্য পেলেই তা ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। সেটি শেয়ার করার পেছনে দাতার কোনো গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে কি না যেমন: পণ্য বিক্রি বা রাজনৈতিক কী ফায়দা আছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। নির্ভরযোগ্য উৎস নির্বাচন সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সোশ্যাল মিডিয়ার ‘বাবল’ বা বেনামি সোর্সের ওপর ভিত্তি না করে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষামূলক সাইটগুলো ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি তথ্যটি কত আগের তা-ও যাচাই করতে হবে, কারণ সময়ের বিবর্তনে অনেক পুরোনো তথ্য ভুল প্রমাণিত হতে পারে।
পক্ষপাতিত্ব ও ‘ফেক নিউজ’ শনাক্তকরণ
অনেক সময় তথ্যটি সরাসরি মিথ্যা না হলেও সেটি আংশিক বা পক্ষপাতমূলক হতে পারে। এই ধূর্ত কৌশলগুলো চিনতে শেখা জরুরি। আবেগীয় ভাষার জালে জড়িয়ে পড়বেন না। যদি দেখেন কোনো খবর তথ্যের চেয়ে আপনার আবেগকে বেশি উসকে দিচ্ছে, তবে সেখানে ফেক নিউজের সম্ভাবনা বেশি। বৈধ সংবাদে সব সময় তথ্য ও পরিসংখ্যানের উৎস স্পষ্ট থাকে। আর এ ক্ষেত্রে প্রথমই গড়পড়তা ধারণা বর্জন করার চেষ্টা করবেন। অনেক সময় আমরা কেবল আমাদের পছন্দসই তথ্যই গ্রহণ করি। কিন্তু ক্রিটিক্যাল থিংকাররা তথ্যের সীমাবদ্ধতা খুঁজে বের করেন এবং দেখেন সেই নির্দিষ্ট টপিকে উপস্থাপিত তথ্যের বাইরে আর কী কী দিক থাকতে পারে।
কৌতূহল এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান
প্রশ্ন করার মাধ্যমেই সত্য উন্মোচিত হয়। বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের প্রাণ। ‘কে বলেছে?’ ‘কী বলেছে?’ ‘কেন বলেছে?’ এ ধরনের প্রশ্ন করার অভ্যাস তৈরি করুন। একটি রিপোর্ট পড়ার সময় বক্তার যুক্তির দুর্বলতা বা তথ্যের গ্যাপগুলো খুঁজে বের করতে প্রচুর প্রশ্ন করা প্রয়োজন। উপস্থাপিত তথ্যে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেই অনুসন্ধান চালিয়ে সেই গ্যাপ পূরণ করুন। এতে বিষয়ের ওপর আপনার সামগ্রিক বোঝাপড়া গভীর হয়।

সহানুভূতিশীল শ্রবণ এবং বহুভৌগিক দৃষ্টিভঙ্গি
একটি ঘটনার অনেক দিক থাকে। কেবল এক দিক থেকে দেখলে বিচার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যের কথা কেবল উত্তরের জন্য না শুনে বোঝার জন্য শুনুন। সহানুভূতি বা এম্প্যাথি প্রয়োগ করে অন্যের জুতায় পা দিয়ে পরিস্থিতি বিচার করলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মোটিভ পরিষ্কার হয়। একাধিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করুন। অত্যন্ত বুদ্ধিমান মানুষের যুক্তিতেও ব্যক্তিগত সংস্কার বা বায়াস থাকতে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঘটনার সব কটি পক্ষ বা মতবাদকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা উচিত।
আত্মবিশ্লেষণ এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গঠন
সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো নিজের মনের ভেতরের পক্ষপাতিত্বকে চেনা এবং তা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে ভাবা। আমাদের সবারই নিজস্ব বিশ্বাস ও পছন্দ আছে, যা অনেক সময় যুক্তিকে আচ্ছন্ন করে। বস্তুনিষ্ঠ হতে হলে নিজের পছন্দ-অপছন্দ কীভাবে আপনার চিন্তাকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। তথ্যের সব ধরনের ব্যবচ্ছেদ শেষে কারও দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে নিজের যৌক্তিক উপসংহারে পৌঁছান। এ ছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে জ্ঞানীয় পক্ষপাতের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করে এই দক্ষতাকে প্রতিনিয়ত শাণিত করা উচিত।
সূত্র: ফোর্বস, স্টার্স ইনসাইডার

‘আমার হিয়া আমায় খ্যাপিয়ে বেড়ায় যে’, রবীন্দ্রনাথের এই গানের কলি অনেক সময় আমাদের জীবনের রূঢ় সত্য হয়ে দাঁড়ায়। তবে এখানে হৃদয় নিজে খ্যাপে না; বরং সুকৌশলে তাকে ‘খ্যাপানো’ হয়। যাপিত জীবনে আমাদের মন অনেক সময় আপনজনদের হাতেই ‘খ্যাপা’ বা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
৩ ঘণ্টা আগে
মাথার ত্বকে একবার খুশকি হলে তা আর সহজে যেতে চায় না। বিশেষ করে শীতকালে যখন বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে, তখন এ সমস্যা আরও প্রবল হয়ে দাঁড়ায়। খুশকির কারণে অনেককেই চুলকানি, সাদা ফ্লেক্স বা চামড়া ওঠা এবং শেষমেশ চুল ওঠার মতো সমস্যায় পড়তে হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
প্রতিদিন পুরো বিশ্বে এক লাখের বেশি বিমান আকাশপথে উড়ে যায়। এ কারণে এয়ারপোর্টগুলো সব সময় ব্যস্ত থাকে। ছোট দেশ যেমন সান মারিনো বা মাল্টার কাছে মাত্র একটি এয়ারপোর্ট থাকলেও বড় দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার কাছে হাজার হাজার এয়ারপোর্ট রয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
অফিসে কাজের চাপ বাড়বে, কিন্তু আপনার মনে হবে আপনি একাই দুনিয়া উদ্ধার করছেন। সহকর্মীরা পেছনে খিকখিক করে হাসতে পারে, কিন্তু আপনি ওসবে পাত্তা দেবেন না। আপনার এনার্জি লেভেল আজ এভারেস্টের চূড়ায় থাকবে। বসকে ফালতু বুদ্ধি দিতে যাবেন না, হিতে বিপরীত হয়ে ওটা আপনার ঘাড়েই ফিরতে পারে।
৯ ঘণ্টা আগে