Ajker Patrika

‘বস লেডি’র পোশাকে থাকুক আত্মবিশ্বাস ও আভিজাত্য

ফারিয়া রহমান খান 
‘বস লেডি’র পোশাকে থাকুক আত্মবিশ্বাস ও আভিজাত্য
মডেল: ড. জাকিয়া সুলতানা পোশাক: সীবনী মেকআপ: রেড। ছবি: হাসান রাজা

বর্তমান যুগে নারীরা ব্যবসা, রাজনীতি, বিনোদন কিংবা মহাকাশ গবেষণা—সব ক্ষেত্রে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছেন। একজন আত্মবিশ্বাসী নারীর ব্যক্তিত্ব যেমন তাঁর কাজে প্রকাশ পায়, তেমনি তা পোশাকেও ফুটে ওঠে। অনেকের ধারণা, ‘বস লেডি’ লুক শুধু তাঁদের জন্য, যাঁরা কোনো প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। বিষয়টি একদম তা নয়। ক্যারিয়ারের যে পর্যায়েই আপনি থাকুন না কেন, পোশাক এমন হওয়া উচিত, যা মার্জিত, বুদ্ধিদীপ্ত এবং আত্মবিশ্বাসী হিসেবে আপনাকে উপস্থাপন করবে। পুরো লুকটাই বলবে নেতৃত্বদানের ক্ষমতার কথা। তাহলে কেমন হবে পোশাক-আশাক, তা নিয়েই কি ভাবছেন? তাহলে জেনে নিন।

পাওয়ার স্যুট ও ক্ল্যাসিক ব্লেজার

ডিজাইনার এবং উদ্যোক্তা আবেদা খাতুন মিতুল।

তাঁর উদ্যোগের নাম সীবনী। তিনি বলেন, ‘একটি সুন্দর ফিটিং স্যুট আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করে। অফ হোয়াইট, কালো, নেভি ব্লু কিংবা চারকোল গ্রে রঙের স্যুটগুলো সব সময় আভিজাত্য ধরে রাখে।’ শুধু স্যুট নয়, একটি ভালো মানের ব্লেজারও আপনার পুরো লুক বদলে দিতে পারে। এটি ফরমাল প্যান্ট, ড্রেস, এমনকি ডেনিমের সঙ্গেও আপনি পরতে পারেন।

পেনসিল স্কার্ট ও র‍্যাপ ড্রেস

কিছু কিছু মানুষের কাছে পেনসিল স্কার্ট ক্ল্যাসিক পছন্দ। এটি শরীরের গঠনকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে এবং সেই সঙ্গে অফিসে একটি গম্ভীর ভাবও বজায় রাখে। সঙ্গে একটি হালকা রঙের টপস পরলে সুন্দর দেখাবে। অন্যদিকে, র‍্যাপ ড্রেস বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কর্মজীবী নারীদের পছন্দের শীর্ষে। এটি পরতে যেমন সহজ, তেমনি অফিসে দীর্ঘ সময়ের কাজের জন্য আরামদায়ক।

ডেনিমের সঙ্গে ব্লেজার

আর্টেমিসের ডিজাইনার ও স্বত্বাধিকারী ফায়জা আহমেদ রাফা বলেন, অফিসে ড্রেসকোড কিছুটা শিথিল থাকলে ডেনিমকেও আপনি ‘বস লুক’-এ রূপান্তর করতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে ডেনিমটি হতে হবে মার্জিত। কোনো রিপড কিংবা ছেঁড়া জিনস না পরে সলিড কালো বা গাঢ় নীল রঙের স্ট্রেচেবল জিনস বেছে নিন। এবার এর সঙ্গে একটি ফরমাল শার্ট কিংবা টি-শার্ট এবং ওপরে একটি ভালো ফিটের ব্লেজার পরুন। পায়ে সোয়েড হিল এবং হাতে একটি ক্ল্যাসি ঘড়ি আপনার লুককে সম্পূর্ণ করবে।

অফিসে পরার জন্য পোশাকের ফিটিং ঠিক হতে হবে। অতিরিক্ত ঢিলেঢালা কিংবা খুব বেশি টাইট পোশাক এড়ানো ভালো। পেশাদারি পরিবেশ বজায় রাখতে নিউট্রাল রং প্রাধান্য দিতে হবে। আত্মবিশ্বাস ফুটিয়ে তুলতে মাঝেমধ্যে গাঢ় রঙের স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন। পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্জিত হিল বা ফ্ল্যাট জুতা নির্বাচন করুন।
আবেদা খাতুন মিতুল, ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা, সীবনী

টার্টল নেক টপ ও ম্যাক্সি ড্রেস

টার্টল নেক টপ এখন আর শীতকালীন ফ্যাশন নয়। পাতলা ফ্যাব্রিকে তৈরি টার্টল নেক টপ এখন গরমেও ব্যবহার করছেন নারীরা। এ ধরনের পোশাকের ক্ষেত্রে টপটি নিউট্রাল রঙের হলে প্যান্টটি কিছুটা গাঢ় বা ভিন্ন রঙের হতে পারে। আবার যাঁরা কিছুটা ফ্যাশনেবল হতে পছন্দ করেন, তাঁরা ম্যাক্সি ড্রেস বেছে নিতে পারেন। এর ওপর একটি শর্ট জ্যাকেট লেয়ারিং করলে এটি নিখুঁত বিজনেস ক্যাজুয়াল লুকে পরিণত হয়।

মডেল: ড. জাকিয়া সুলতানা পোশাক: সীবনী মেকআপ: রেড। ছবি: হাসান রাজা
মডেল: ড. জাকিয়া সুলতানা পোশাক: সীবনী মেকআপ: রেড। ছবি: হাসান রাজা

পেপলাম ড্রেস

যাঁরা খুব বেশি আঁটসাঁট পোশাক পরতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন না, তাঁদের জন্য পেপলাম ড্রেস দারুণ বিকল্প। এটি কোমরের নিচের অংশকে একটু ঢিলেঢালা রাখে এবং আত্মবিশ্বাসী লুক দেয়।

শাড়িতে শক্তি

শাড়ি আমাদের দেশের নারীদের প্রথম পছন্দ। প্রতিদিন পরা হয় বলে ভাববেন না, শাড়ি পরলে আপনার ‘বস ইমেজ’ উবে যাবে। বরং কখনো কখনো এই পোশাক আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে সহায়তা করবে। একবার ভাবুন, আপনার পছন্দের রঙের শাড়ি, কনট্রাস্ট রঙের ব্লাউজ আর জুতসই স্যান্ডেল কিংবা জুতা পরে আপনি অফিস করছেন! দৃশ্যটাতে কোনো খামতি দেখা যায় কি?

অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তো শাড়ি পরেনই, মাঝে মাঝে এমনিতেও শাড়ি পরে যেতে পারেন। শাড়ির আলাদা আবেদন রয়েছে। জর্জেট, শিফন, সিল্ক, সাটিন, পাতলা সুতির শাড়ি পরে অফিসে যেতে পারেন। এগুলো সামলানো সহজ, সাবলীলও থাকা যায়। এখন শাড়ির সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কটি পরারও চল শুরু হয়েছে। এগুলো একটা ভিন্ন রকম স্মার্ট লুক এনে দেয়। শাড়ির বাইরে সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, সিঙ্গেল কামিজ, শার্ট ইত্যাদি পোশাক বেছে নিতে পারেন। এগুলোয় ফরমাল কাট রয়েছে। আবার অফিসের ছোটখাটো পার্টির জন্য উপযোগী। তবে ঘামে ভিজে গেলে যেন দ্রুত শুকিয়ে যায়, এমন পোশাক বাছাই করার ক্ষেত্রে কাপড়টিকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত