Ajker Patrika

ঘরের কাজে শিশুদের যেভাবে সাহায্য করতে শেখাবেন

তুষ্টি মনোয়ার
ঘরের কাজে শিশুদের যেভাবে সাহায্য করতে শেখাবেন

শিশুদের আসলে কোন বয়সে লাইফ স্কিল শেখানো উচিত? মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একেবারে জীবনের শুরু থেকে। আমরা সাধারণত ভেবে থাকি, ঘরের সব কাজ বড়রাই করবে। শিশুরা শুধু পড়াশোনা আর খেলাধুলা করবে। কিন্তু মনোবিজ্ঞান ও শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের পরামর্শ হলো, আসলে শিশুদের ছোটবেলা থেকে ঘরের টুকিটাকি কাজে অভ্যস্ত করালে তার ব্যক্তিত্ব গঠন ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়।

শিশুকে কেন ঘরের বিভিন্ন কাজে যুক্ত করবেন

পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ করার সময় শিশুর মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা, আপস করার মানসিকতা এবং দলগতভাবে কাজ করার ক্ষমতা তৈরি হয়। যখন শিশু বুঝতে পারে, তার ছোট একটি কাজে পরিবারের সবার উপকার হচ্ছে, তখন তার মধ্যে দায়িত্ববোধ এবং আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। বাড়ির ছোট ছোট কাজ শিশুর সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়। আবার শিশু যখন ছোট ছোট কাজে সাহায্য করে, তখন বড়দের কাজ দ্রুত শেষ হয়। এতে হাতে বাড়তি সময় পাওয়া যায়।

বয়স অনুযায়ী কাজের তালিকা

ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, ‘শিশুকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার বয়স এবং সক্ষমতার দিকে খেয়াল রাখা খুব জরুরি। খুব কঠিন কাজ দিলে সে ভয় পেতে পারে, আবার খুব সহজ কাজ তাকে একঘেয়েমিতে ফেলে দিতে পারে।’ তিনি জানান, একেক বয়সের শিশুদের জন্য দিতে হবে একেক ধরনের কাজ।

  • ২ থেকে ৩ বছর (টডলার): খেলার পর খেলনাগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা, ময়লা কাপড় ঝুড়িতে রাখা কিংবা পোষা প্রাণীকে পানি খেতে সাহায্য করা।
  • ৪ থেকে ৫ বছর (প্রিস্কুলার): খাবার টেবিল গোছানো, বড়দের তত্ত্বাবধানে রান্নায় সাহায্য করা কিংবা ধোয়া কাপড়চোপড় আলাদা করে রেখে দেওয়া।
  • ৬ থেকে ১১ বছর (স্কুলগামী শিশু): গাছে পানি দেওয়া, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, নিজের বিছানা গোছানো বা ঘর মোছার কাজে সাহায্য করা।
  • ১২ থেকে ১৮ বছর (কিশোর-কিশোরী): তারা বড়দের মতো প্রায় সব কাজ করতে পারে। যেমন বাজার করা, নিজের ঘর পরিষ্কার রাখা, কাপড় ধোয়া বা সপ্তাহে এক দিন পরিবারের সবার জন্য সহজ কোনো খাবার রান্না করা।
যখন শিশু নিজের খেলনা গোছানো কিংবা খাবার টেবিল পরিষ্কারের মতো কাজগুলো করে, তখন তার মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। রান্নায় সাহায্য করা, বাগান করা অথবা কাপড় গোছানোর মতো কাজগুলো তাকে পরবর্তী জীবনে একজন দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র‍্যাকটিশনার

উৎসাহ দিন, জোর নয়

ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, শিশুকে কাজে আগ্রহী করতে প্রশংসা ও উৎসাহের বিকল্প নেই। সেই কাজ নিখুঁতভাবে করতে না পারলেও তার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান। কীভাবে জানাবেন? কোনো কাজের পর তাঁকে ‘ধন্যবাদ’ দিন, যাতে সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। মাঝেমধ্যে কাজের ধরন বদলে দিন, যাতে সে একঘেয়ে বোধ না করে। অনেকে কাজের বিনিময়ে শিশুকে হাতখরচ কিংবা পকেট মানি দেন। এটি শিশুকে উৎসাহিত করলেও তাকে বোঝাতে হবে, পরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার একটি নৈতিক কর্তব্য।

তবে মনে রাখা জরুরি, শিশুকে ঘরের কাজে যুক্ত করা মানে তাকে শুধু খাটানো নয়; বরং এটি তাকে একজন দায়িত্বশীল এবং আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রথম ধাপ। তাই আজ থেকে আপনার সোনামণিকে ছোট কোনো কাজে সঙ্গী করে নিন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত