
শীতকালীন অলিম্পিকের অন্যতম আকর্ষণীয় খেলা কার্লিং। বরফের ওপর ভারী পাথরের চাকতি বা স্টোনকে গড়িয়ে দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর এই খেলায় ব্যবহৃত প্রতিটি পাথরই এক অনন্য বিস্ময়। কোটি কোটি ডলারের বৈশ্বিক ক্রীড়া সরঞ্জামের বাজারে কার্লিংই সম্ভবত একমাত্র খেলা, যার প্রধান উপকরণ আসে স্কটল্যান্ডের একটি নির্জন দ্বীপ থেকে। আর এই ইতিহাস ১০০ নয়, ৬০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো! কার্লিং স্টোন শুধু একটি খেলার সরঞ্জাম নয়; এটি প্রকৃতির এক অনন্য দান এবং মানুষের নিপুণ কারুশৈলীর ফসল। আইলসা ক্রেইগের সেই প্রাচীন আগ্নেয় শিলা আজও বিশ্বমঞ্চে খেলোয়াড়দের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মাধ্যম হয়ে টিকে আছে।
পাথরের জন্মভূমি আইলসা ক্রেইগ

স্কটল্যান্ডের দক্ষিণ আয়ারশায়ার উপকূল থেকে ১০ মাইল দূরে অবস্থিত একটি জনশূন্য দ্বীপ আইলসা ক্রেইগ। ৬০ মিলিয়ন বছর আগে আগ্নেয়গিরির লাভা জমাট বেঁধে এই দ্বীপ তৈরি হয়েছিল। কার্লিং খেলার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ গ্রানাইট বা মাইক্রোগ্রানাইট পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না। ১৯২৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অলিম্পিকের প্রতিটি অফিশিয়াল ম্যাচে শুধু এই দ্বীপের পাথরই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্কটল্যান্ডের ফির্থ অব ক্লাইড থেকে নাটকীয়ভাবে জেগে ওঠা আইলসা ক্রেইগ দ্বীপটি দেখতে অনেকটা গথিক উপন্যাসের পটভূমির মতো। জনশূন্য এবং ঝোড়ো হাওয়ার এই দ্বীপই আধুনিক খেলাধুলার অন্যতম নিখুঁত সরঞ্জাম কার্লিং স্টোনের প্রধান উৎস। তবে অলিম্পিক পাথরের এই আভিজাত্য শুধু ঐতিহ্যের কারণে নয়, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে বিশুদ্ধ ভূতত্ত্ব।
কেন এই পাথরই সেরা
সাধারণ গ্রানাইটে বড় দানাদার কোয়ার্টজ থাকে, যা বরফের ওপর একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে সহজে ফেটে যায়। কিন্তু আইলসা ক্রেইগের পাথরের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। এখানকার মাইক্রোগ্রানাইট খুব দ্রুত শীতল হওয়ায় এর কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে লেগে থাকে। ফলে এটি প্রচণ্ড আঘাত সহ্য করতে পারে এবং বরফের ওপর মসৃণভাবে পিছলে যায়। এই পাথরে অ্যালুমিনিয়াম খুব কম থাকে এবং আরফভেডসনাইট ও এজিরিনের মতো বিরল খনিজ থাকে। এই খনিজগুলো পাথরকে একধরনের স্থিতিস্থাপকতা দেয়। ফলে পাথরগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে চমৎকারভাবে বাউন্স করে বা লাফিয়ে ওঠে। এই পাথরের পানি শোষণের ক্ষমতা নেই বললেই চলে, যা হিমাঙ্কের নিচে থাকা বরফের ওপর এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
পাথরের গঠন
একটি কার্লিং স্টোনের সব অংশ একধরনের পাথর দিয়ে তৈরি নয়। এতে সাধারণত দুই ধরনের গ্রানাইট ব্যবহার করা হয়।
কমন গ্রিন: এটি পাথরের মূল দেহ বা বডি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এর বিশেষ গুণের কারণে পাথরগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে চিপ বা ফাটল ধরে না।
ব্লু হোন: এটি স্টোনের নিচের অংশে ব্যবহার করা হয়, যা বরফের সংস্পর্শে থাকে। এটি অত্যন্ত মসৃণ ও টেকসই। কৃত্রিম সিরামিক দিয়ে এর বিকল্প তৈরির চেষ্টা করা হলেও তা আইলসা ক্রেইগের পাথরের মতো কার্যকারিতা দেখাতে পারেনি।
কারিগর যখন শিল্পী
স্কটল্যান্ডের কেইস স্কটল্যান্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১৭৫ বছর ধরে এই পাথরগুলো তৈরি করছে। বছরে তারা ২ থেকে ২ হাজার ৫০০টি পাথর তৈরি করে ৭৭টি দেশে সরবরাহ করে। অলিম্পিকে ব্যবহৃত প্রতিটি পাথর জন ব্রাউন নামের এক দক্ষ কারিগরের হাত দিয়ে পরীক্ষিত হয়ে আসে। তিনি ২০০৬ সাল থেকে প্রতিটি অলিম্পিক স্টোনের মান যাচাই করে চলেছেন। মজার ব্যাপার হলো, জন ব্রাউন নিজে এই খেলা খেলেন না! একটি ছোট্ট দ্বীপের আদিম পাথর কীভাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগেও অলিম্পিকের মতো মঞ্চে অপরিহার্য হয়ে আছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। প্রকৃতির দান আর মানুষের নিপুণ কারুশৈলীই কি এর কারণ? তার উত্তর মানুষের কাছে না থাকলেও এই দুইয়ের মিশেলে সচল থাকে অলিম্পিকের বরফশীতল কার্লিং ময়দান।
ঘর্ষণ ও কৌশলের খেলা
কার্লিংই একমাত্র খেলা, যেখানে প্রজেক্টাইল বা পাথরটি হাত থেকে ছাড়ার পর সেটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। খেলোয়াড়েরা ঝাড়ু বা ব্রুম দিয়ে বরফের ওপরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তুষারকণা ঘষে গলিয়ে দেন, যা ঘর্ষণ কমিয়ে পাথরটিকে আরও দূরে বা নির্দিষ্ট দিকে যেতে সাহায্য করে। একটি কার্লিং স্টোনের দাম প্রায় ৭০০ পাউন্ড বা ৯৬০ ডলার থেকে শুরু হয়। দামের এই তথ্যই এর দুষ্প্রাপ্যতা ও নির্মাণের জটিলতা ফুটিয়ে তোলে।
সূত্র: সিএনএন, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

বছরের এই সময়ে মৌসুমি বায়ুর পরিবর্তন হওয়ার কারণে শরীরে শুষ্কতা বেশি অনুভব করা যায়। তাই আমাদের ত্বক ও চুলের রুক্ষতা বেশি চোখে পড়ে। শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। তাই ইফতার ও সেহরিতে কী খাচ্ছেন, তার ওপর কিন্তু নির্ভর করে ত্বক এবং চুল কতটা ভালো থাকবে।
৩ ঘণ্টা আগে
রমজান মাসে রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি উপকরণ ছোলার ডাল। এটি দিয়ে ঘরেই তৈরি করা যায় বেসন। তবে এর ব্যবহার শুধু খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রূপচর্চায় ছোলার ডালের গুঁড়া বা বেসনের ব্যবহার বেশ প্রাচীন। প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই ডাল আপনার ত্বক সতেজ, দাগহীন ও উজ্জ্বল করতে...
৪ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘সুতোর গল্প’ উৎসব। ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে শুরু হয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় এটি। ‘নিজস্বতায় বোনা উৎসব’ স্লোগানে এই আয়োজনে অংশ নেয় দেশের প্রথিতযশা ও উদীয়মান ফ্যাশন উদ্যোক্তা...
৪ ঘণ্টা আগে
অফিসের বসকে দেখলে এমনভাবে কিবোর্ড টাইপ করুন যেন আপনিই কোম্পানির সিইও। আজ আপনার মনে হতে পারে অদৃশ্য কেউ আপনার পেছনে কাঠি দিচ্ছে। আসলে ওটা আপনার অবদমিত ভয়। প্রেমযোগ বেশ ভালো, তবে সাবধান—প্রিয়জন আজ আইফোন বা হিরা জহরত টাইপ কোনো দামি আবদার করতে পারে।
৪ ঘণ্টা আগে