Ajker Patrika

পোশাক দাগমুক্ত রাখার সহজ উপায় জেনে নিন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
পোশাক দাগমুক্ত রাখার সহজ উপায় জেনে নিন
কোরবানির ঈদে পোশাকে দাগ লেগে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু চিন্তার কোনো কারণ নেই, পোশাক দাগমুক্ত রাখার সহজ কিছু উপায় আছে। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস কাটা ও তা বণ্টন করা পর্যন্ত নানা কাজে এই ঈদের পুরো দিন কাটে ব্যস্ততায়। আর এসব কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত সাধের পোশাকে, কার্পেটে বা আসবাবপত্রে রক্তের দাগ লেগে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই এই ঈদে আপনার পোশাক দাগমুক্ত রাখার সহজ উপায় জেনে নিন।

পোশাক ও কাপড়ের দাগ দূর করতে

রক্তের দাগের বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি যত পুরোনো হয়, তত বেশি স্থায়ী হয়ে বসে। বিশেষ করে, গরম পানি বা তাপ লাগলে এই দাগ স্থায়ী রূপ নেয়। এমন হলে পরে সে দাগ তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোরবানির কাজ করার সময় কাপড়ে রক্ত লাগলে দেরি না করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিন। এ জন্য যা করতে পারেন—

তাজা দাগের ক্ষেত্রে

দাগ লাগা অংশটি সঙ্গে সঙ্গে কলের ঠান্ডা পানির নিচে ধরুন। মনে রাখবেন, গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না। এরপর সাধারণ ডিটারজেন্ট বা কাপড় ধোয়ার সাবান দিয়ে ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজন হলে একই কাজ কয়েকবার করুন।

পুরোনো দাগের ক্ষেত্রে

কাপড়টি অন্তত ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। দাগ না উঠলে হালকা গরম পানিতে এনজাইমযুক্ত প্রি-সোক ডিটারজেন্ট দিয়ে আরও আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ধুয়ে নিয়ে সামান্য ৩ শতাংশ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দাগের ওপর ১ থেকে ৩ মিনিট রাখুন এবং ভালোভাবে ধুয়ে ইস্ত্রি করে নিন। কাপড়ে কয়েক ফোঁটা অ্যামোনিয়া ব্যবহার করেও ধুয়ে নেওয়া যায়।

সতর্কতা: কাপড়ের গায়ে থাকা কেয়ার লেবেল বা ধোয়ার নির্দেশিকা অবশ্যই আগে দেখে নেবেন। সিল্ক বা রেশমি কাপড়ে অ্যামোনিয়া ব্যবহারের আগে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে পাতলা করে নিতে হবে। তা না হলে কাপড়ের ক্ষতি হতে পারে।

কার্পেট ও সোফার কভার থেকে দাগ দূর যেভাবে

কোরবানির দিন ঘরে মেহমান বা লোকজনের আনাগোনায় বসার ঘরের কার্পেট কিংবা সোফায় রক্ত লেগে যেতে পারে।

কার্পেট ও সিনথেটিক ফেব্রিকসের জন্য

এক চা-চামচ মৃদু (নন-অ্যালকালি) ডিটারজেন্ট আধা কাপ ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি দাগের ওপর অল্প করে দিয়ে স্পঞ্জ বা শুকনো কাপড় দিয়ে চেপে চেপে রক্ত শুষে নিন। ঘষাঘষি করবেন না; তাতে দাগ আরও ছড়িয়ে যাবে। দাগ না উঠলে এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ অ্যামোনিয়া মিশিয়ে একইভাবে স্পঞ্জ করুন।

সোফার কভার (সুতি বা লিনেন)

রক্তে ভেজা থাকলে ঠান্ডা পানি দিয়ে চেপে চেপে মুছে নিন। দাগ বসে গেলে এক কাপ ঠান্ডা পানিতে আধা চা-চামচ ডিশওয়াশিং লিকুইড এবং এক টেবিল চামচ অ্যামোনিয়া মিশিয়ে সাদা কাপড় দিয়ে চেপে পরিষ্কার করুন।

চামড়ার সোফা

ঠান্ডা পানিতে মৃদু সাবান গুলিয়ে প্রচুর ফেনা তৈরি করুন। কেবল সেই ফেনা স্পঞ্জে নিয়ে আলতো করে দাগের ওপর ঘষুন, যাতে দাগ ছড়িয়ে না পড়ে। এরপর নরম শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। পরে লেদার কন্ডিশনার বা স্যাডল সোপ ব্যবহার করতে পারেন।

জরুরি সাধারণ সতর্কতা

  • রক্তের দাগ পরিষ্কারের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। গরম পানি রক্তে থাকা প্রোটিনকে কাপড়ের সুতার সঙ্গে জমিয়ে দেয়, ফলে দাগ স্থায়ী হয়ে যায়।
  • যেকোনো রাসায়নিক বা ডিটারজেন্ট পুরো কাপড়ে বা মেঝেতে ব্যবহারের আগে এক কোনায় বা আড়ালে সামান্য একটু প্রয়োগ করে পরীক্ষা করে নিন। এতে রং চটে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।
  • ব্লিচ, অ্যামোনিয়া বা ওয়াশিং সোডার মতো রাসায়নিক দ্রব্যগুলো ব্যবহারের সময় শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখুন এবং কাজ শেষে সাবধানে সংরক্ষণ করুন। ৎ
  • ঈদের আনন্দ হোক নিরবচ্ছিন্ন। কাজের ফাঁকে এই ছোট ছোট কৌশল জানা থাকলে কোরবানির ব্যস্ততার মাঝেও আপনার শখের পোশাক আর পরিপাটি ঘর থাকবে একদম দাগহীন ও সুরক্ষিত।

সূত্র: ইউনিভার্সিটি অব জির্জিয়া, টেক্সটাইলস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত