
প্রতিবছরই বিউটি ট্রেন্ডে যোগ হয় নতুন কিছু। নতুন পণ্য বা নতুন কোনো ট্রিকস। কিন্তু চলতি বছরে পুরোনো রূপ রুটিনই যেন তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হতে শুরু করছে আবার। না, শুধু হারবাল পণ্যই নয়, তরুণদের রূপচর্চায় জায়গা করে নিচ্ছে ফিটকিরির মতো উপকরণও।
আমাদের দেশে চল্লিশের কোঠার পুরুষেরা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে ফিটকিরির ব্যবহারের কথা মনে করতে পারবেন এখনো। নাপিতের কাছে গেলে ফিটকিরি ব্যবহার ছিল অনিবার্য। ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের আফটার শেভ লোশন ও অ্যান্টিসেপটিক বাজারে আসার কারণে, পুরুষদের কাছে এর গুরুত্ব কমতে থাকে। কিন্তু বিভিন্ন পরিবারে এর ব্যবহার কিছুটা হলেও ছিল। অনেকেই মনে করতে পারবেন, ছোটবেলায় পিঠে ঘামাচি উঠলে অনেক মা গোসলের সময় ফিটকিরি ঘষে দিতেন। এতে ঘামাচি মরে যেত। আবার অনেকে গোসলের পানিতেও ব্যবহার করতেন ফিটকিরি।
দেখা যাচ্ছে, ফিটকিরি আবারও ট্রেন্ডে আসতে শুরু করেছে মূলত ডিওডোরেন্টের পরিপূরক হিসেবে। এটি সারা দিন শরীরের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্য়মে অনেক বিউটি ইনফ্লুয়েন্সারও ফিটকিরির গুণাগুণ নিয়ে বলতে শুরু করেছেন। মোটের ওপর অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ও ডিওডোরেন্টের পরিবর্তে ফিটকিরিও যে ব্যবহার করে উপকার পাওয়া সম্ভব, সে কথাই বারবার উঠে আসছে।
ফিটকিরি বা অ্যালাম মূলত একটি প্রাকৃতিক খনিজ লবণ। বছরের পর বছর ধরে এটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শুধু ব্যক্তিগত পরিচর্যাতেই নয়, পানি পরিশোধন, কাপড় রং করা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ও বাস্তুশাস্ত্রেও এর ব্যবহার রয়েছে। প্রাচীন মিসর, গ্রিস ও রোমানে এটি সহজলভ্য উপাদান ছিল। দক্ষিণ এশিয়াতেও বহু প্রজন্ম ধরে এটি ঘরোয়া চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যবহারের অংশ হিসেবে জায়গা পেয়েছে। একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ফিটকিরি রাখা হতো। শেভ করার পর ত্বকে লাগানো, ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়ার প্রাথমিক চিকিৎসায় এবং শরীরের দুর্গন্ধ কমানোর জন্য এটি ব্যবহৃত হতো।
চলতি বছর রূপচর্চায় যে বিষয় জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তা হলো ক্লিন বিউটি। এর ফলে অনেকেই দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্যে রাসায়নিক উপাদান কমানোর চেষ্টা করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ডিওডোরেন্টের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে পুরোনো নথিপত্র ঘেঁটে বা দাদি-নানির পরামর্শে অনেকের নজর পড়েছে ফিটকিরির দিকে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে অতিরিক্ত ঘাম এবং তা থেকে তৈরি দুর্গন্ধ দূর করতে অন্যান্য প্রাকৃতিক বিকল্পের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে ফিটকিরি। কোনো সুগন্ধি নেই, জটিল উপাদানের তালিকা নেই, আবার দামও তুলনামূলক কম। ফলে যে কারও পক্ষেই এটি কেনা সম্ভব।

ঘাম নিজে সাধারণত দুর্গন্ধযুক্ত নয়। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের সঙ্গে বিক্রিয়া করে যে যৌগ তৈরি করে, সেখান থেকেই দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটকিরির অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অর্থাৎ এটি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি অ্যান্টিপার্সপিরেন্টের মতো ঘাম বন্ধ করে না। বলা ভালো, ঘাম হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রেখেই দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে ফিটকিরি। গবেষকদের মতে, এটি ত্বকের ওপর একটি সূক্ষ্ম স্তর তৈরি করতে পারে, যা কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে। তবে ফিটকিরির কার্যকারিতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল না-ও দিতে পারে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ মানুষের জন্য ফিটকিরি নিরাপদ হলেও সংবেদনশীল ত্বকে কিছু ক্ষেত্রে জ্বালা বা শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে ব্যবহার করে এটি পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। তবে অতিরিক্ত গরমের দিন দুবেলা গোসল ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার রুটিন মেনে চলতে হবে। নয়তো শুধু ফিটকিরি সারা দিন তরতাজা রাখতে পারবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ ডেইলি, সল্ট অব দ্য আর্থ ও অন্যান্য

প্যাডেল ঘুরছে, তার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে যাচ্ছে ইতিহাসের চাকা। কখনো তা ভাঙছে সমাজের তৈরি লোহার শিকল, কখনো আবার বদলে দিচ্ছে বিশ্ব ফ্যাশনের খতিয়ান। আজ ‘বিশ্ব সাইকেল দিবস’। এই বিশেষ দিনে সাইকেল বিষয়টিকে কেবল দুটি চাকা আর একটি ফ্রেমের বাহন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। সাইকেল আসলে এক ‘মুক্তির যন্ত্র’।
৩ ঘণ্টা আগে
কোরবানির পর মাংস দিয়ে নানা ধরনের বিকেলের নাশতা তৈরি হয়। একদিন তৈরি করতে পারেন বিফ পাস্তা। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
৫ ঘণ্টা আগে
২০১২ সালে টিন্ডার নামের ‘ডেটিং’ অ্যাপটি আসার পরও মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল তার ওপর ‘মনের মতো মানুষ’ খুঁজে পাওয়ার জন্য। কিন্তু অবাস্তব সেই দুনিয়ায় মানুষকে পণ্যের মতো ব্যবহার, অবিশ্বাস, হতাশা, ডেটিং বার্ন আউট ইত্যাদি কারণে দেড় দশক না যেতেই এখন তাতে মানুষ ক্লান্ত। তারপরেও ডেটিং অ্যাপের ক্লান্তির চক্রে...
১ দিন আগে
এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে টিকটকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, দারুণ পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে হেঁটে চলেছেন এক নারী। ভিডিওটির মূলকথা ছিল, পাহাড়ে হাইকিংয়ে গিয়ে যখন দেখেন, আপনাকে মাঝপথে একা ফেলে সঙ্গীটি চলে যায়, তখন বোঝা যায়, সে আপনাকে কখনোই ভালোবাসেনি
১ দিন আগে