
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় বর্তমানে কমবেশি সবাই আমরা চিন্তিত। কিন্তু অনেকে হয়তো জানি না, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বহু পরিচিত উপকরণেই মাইক্রোপ্লাস্টিক লুকিয়ে রয়েছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু নিজেই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি তার অতি ক্ষুদ্র আকারের কারণে সিসা, ক্যাডমিয়ামসহ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকেও নিজের শরীরে আটকে রাখে। ফলে যখন এটি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে, তখন সেই বিষাক্ত উপাদানগুলোকেও বহন করে শরীরের ভেতরের কোষগুলোতে ছড়িয়ে দেয়।
ফেসওয়াশ ও রেডিমেড স্ক্র্যাবের মাইক্রোবিডসে প্লাস্টিক থাকে। রোজকার ব্যবহৃত টুথপেস্ট, লিপস্টিক, আইলাইনার, নেইলপলিশে এটি ব্যবহৃত হয়। শিশুদের পরিচ্ছন্নতায় ব্যবহৃত ওয়েট ওয়াইপসও প্লাস্টিক ফাইবারে তৈরি। এ ছাড়া পলিয়েস্টার ও নাইলনের পোশাক, ডিটারজেন্ট পাউডার, টি-ব্যাগ, নন-স্টিক প্যানের ওপরের স্তর, ওয়ানটাইম কাপ, সিগারেটের ফিল্টার, প্লাস্টিকের বোতলে রাখা পানি কিংবা লবণেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে। এমনকি যে চপিংবোর্ডের ওপর কাটাকুটি করা হয়, সেখান থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারে মিশে যেতে পারে।

খাবার, পানি, বাতাস ও প্রসাধনীর মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হয়ে নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গবেষণায় মানুষের রক্ত, ফুসফুস, অন্ত্র, মস্তিষ্ক এমনকি নবজাতকের প্লাসেন্টাতেও এই ক্ষতিকর কণার উপস্থিতি মিলেছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে প্রধানত যে ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে—
হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
রক্তনালিতে চর্বি জমার পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা যুক্ত হলে রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের রক্তনালিতে প্লাস্টিকের কণা থাকে, তাদের পরবর্তী সময়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
পরিপাকতন্ত্র ও অন্ত্রের ক্ষতি
অন্ত্রের দেয়ালে প্লাস্টিক কণা প্রতিনিয়ত ঘর্ষণ তৈরি করে, যা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি করে। এটি আমাদের অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বেড়ে ওঠার পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। ফলে হজমপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
ফুসফুসের সমস্যা বাড়ায়
বাতাসের মাধ্যমে শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করা প্লাস্টিক কণা ফুসফুসের কোষের ক্ষতি করে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং অ্যাজমার মতো জটিল রোগের প্রকোপ বাড়ে।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও প্রজনন সমস্যা
প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান; যেমন থ্যালেটস বা বিসফেনল শরীরে হরমোন উৎপাদন এবং এর কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে। গবেষণায় পুরুষ ও নারীর প্রজননতন্ত্রে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি মিলেছে, যা শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মান কমিয়ে দেয় এবং প্রজননক্ষমতা কমাতে পারে।
স্মৃতিভ্রম ও স্নায়ুর ক্ষতি
অবাক লাগলেও এটাই সত্য়ি, অতি ক্ষুদ্র ন্যানো প্লাস্টিক কণা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে। এটি মস্তিষ্কের কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে আলঝেইমার, ডিমেনশিয়া বা পারকিনসন্স রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ডিএনএর ক্ষতি
প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা কোষে দীর্ঘস্থায়ী বিষাক্ততা তৈরি করে কোষের ডিএনএর ক্ষতি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন ক্যানসার গবেষণা সংস্থার মতে, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর টক্সিন কোলন ক্যানসার এবং ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম কারণ হতে পারে।
দৈনন্দিন জীবন থেকে প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরোপুরি দূর করা কঠিন হলেও কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এর সংস্পর্শে আসার হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য যা করতে পারেন—
সূত্র: সায়েন্স ডিরেক্ট, স্ট্যানফোর্ড মেডিসিন ও অন্যান্য

নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রাণঘাতী বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের কারণে দেশটির বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এবং পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস...
৩ ঘণ্টা আগে
ঘুমের সময় ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা হলে অনেকেই বিছানা বা গদির দিকে নজর দেন। কিন্তু সমস্যার কারণ হতে পারে বালিশও। ঘুমের ধরন, কাঁধের প্রস্থ, গদির নরম-শক্তভাব—এসব বিবেচনা করেই নিজের জন্য উপযুক্ত বালিশ বেছে নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার স্কুল অব ফিজিওথেরাপির সহযোগী অধ্যাপক ও ফিজিওথেরাপিস্ট
৬ ঘণ্টা আগে
কথায় আছে, বিড়ালের নয় জীবন। কিন্তু ভূমধ্যসাগরের দুই খুদে দ্বীপে গেলে মনে হবে, নয় জীবন নয়; একেবারে রাজ্য গড়ে সেখানে রাজত্ব করছে হাজার হাজার বিড়াল। একটি হলো ভূমধ্যসাগরের পূর্ব কোণের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস। অন্যটি স্পেনের ছোট্ট দ্বীপ নুয়েভা তাবারকা। মানুষের চেয়ে বিড়ালের দাপট যেখানে বেশি...
৭ ঘণ্টা আগে
অনেক সময় দেখা যায়, ক্যানসার ধরা পড়ে চতুর্থ স্টেজে গিয়ে। তখন কারও কারও ক্ষেত্রে কিছুই করার থাকে না। অথচ জীবনের শুরু থেকে সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন মেনে চললে যেকোনো ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
১৩ ঘণ্টা আগে