
‘ঠিক আছি’ আর ‘ঠিক আছি, সঙ্গে একটি হাসিমুখ ইমোজি’—এই দুটি বার্তার অনুভূতি এক নয়। একটি ছোট্ট হাসিমুখ মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে কথার উষ্ণতা। প্রযুক্তির এই যুগে, ইমোজি যেন অনুভূতি প্রকাশের জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর ১৭ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব ইমোজি দিবস। এই দিনকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে মজার গল্প।
একসময় শুধু অ্যাপলের ক্যালেন্ডার ইমোজিতে ১৭ জুলাই তারিখটি দেখা যেত। কারণ, ২০০২ সালের এই দিনে অ্যাপল তাদের ক্যালেন্ডার অ্যাপ আইক্যাল চালু করেছিল। পরে ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ‘ইমোজিপিডিয়া’-এর প্রতিষ্ঠাতা জেরেমি বার্জ এই তারিখকে বিশ্ব ইমোজি দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে ইমোজিপ্রেমীদের উৎসবের দিনে পরিণত হয়েছে।
অনেকে হয়তো জানেন না, ইমোজির উৎপত্তি জাপানে। জাপানি ‘ই’ এবং ‘মোজি’ এই দুই শব্দ যুক্ত হয়ে হয়েছে ইমোজি। ই অর্থ ছবি বা চিত্র আর মোজি অর্থ অক্ষর। ১৯৯৯ সালে জাপানি মোবাইল ফোন অপারেটর এনটিটি ডোকোমোর আই-মোড মোবাইল ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রথম ইমোজি সেট তৈরি করা হয়েছিল। এই সেট ডিজাইন করেছিলেন জাপানি ইন্টারফেস ডিজাইনার শিগেতাকা কুরিতা। মূলত টেক্সট মেসেজের ছোট স্ক্রিনে সহজে আবেগ প্রকাশ করার জন্য তিনি ১২×১২ পিক্সেলের ১৭৬টি রঙিন আইকনের সেটটি তৈরি করেন।
আবার অনেকের ধারণা অনুয়ায়ী, ১৯৯৭ সালে প্রথম ইমোজি তৈরি হয়। তবে ২০০৭ সালে অ্যাপল আইফোনে ইমোজি যুক্ত করার পর এটি জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ইমোজি আমাদের ভার্চুয়াল জীবনে এতটাই জড়িয়ে পড়েছে, এগুলো ছাড়া কথোপকথন এখন অসম্পূর্ণ মনে হয়। একটি ছোট্ট ইমোজি আমাদের হাসি, কান্না, রাগ সব রকম অনুভূতিই প্রকাশ করে দিতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ৩ হাজার ৭৯০টির বেশি ইমোজি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত বার্তায় ইমোজি ব্যবহার করেন, তাঁদের বার্তাকে অন্যরা বেশি আন্তরিক বলে মনে করেন। ফলে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা, পারস্পরিক পছন্দ এবং সন্তুষ্টিও তুলনামূলক বেশি হয়। অর্থাৎ একটি ছোট্ট ইমোজি অনেক সময় সম্পর্কের আন্তরিকতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সময়ের সঙ্গে ইমোজির অর্থও বদলাচ্ছে। যেমন আগে যে কান্না করা ইমোজি কান্না বোঝাতে ব্যবহার করা হতো, এখন সেটির মাধ্যমে অনেকেই বোঝান এমন কোনো মজার বিষয়, যেটি শোনা, বলা বা দেখা অথবা লেখার পর হাসতে হাসতে চোখে পানি চলে এসেছে।
বিশ্ব ইমোজি দিবসে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন ইমোজির ঘোষণা দেয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ প্রচারণা চালায় এবং নানা ধরনের অনলাইন গেম বা ক্যাম্পেইন আয়োজন করে। অনেকে নিজের প্রিয় ইমোজি পোস্ট করেন, বন্ধুদের শুধু ইমোজি দিয়ে বার্তা পাঠান, আবার কেউ ফোনের ওয়ালপেপার বা থিমেও ইমোজির ছোঁয়া যোগ করেন। আপনি যেভাবে দিবসটি পালন করতে পারেন—
অনেক ইমোজি আছে, যেগুলো হয়তো আমরা ভুল অর্থে ব্যবহার করে থাকি। যেমন প্রার্থনার ইমোজিটিকে অনেকে হাইফাইভ ভাবেন। এই দিনটিতে এগুলোর আসল অর্থ জেনে নিতে পারেন।

আপনার টাইমলাইনে বা স্টোরিতে ‘গেস দা মুভি বাই ইমোজি’ পোস্ট করে বন্ধুদের সঙ্গে কুইজ খেলতে পারেন।
বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করার সময় কোনো লেখা বা শব্দ ব্যবহার না করে শুধু ইমোজি ব্যবহার করে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন।
ঘরে বানাতে পারেন ইমোজি থিমের খাবার। যেমন হলুদ কাপ কেক, কুকিজ ইত্যাদি। কিংবা কাগজ বা কার্ডবোর্ড দিয়ে বিভিন্ন ইমোজির মুখ বানিয়ে ঘরে সাজাতে পারেন।
যদি আপনি সাজতে ভালোবাসেন, তবে হলুদ রঙের থিমে আপনার ফেস পেইন্টিং করতে পারেন কিংবা কোনো ফানি ইমোজির মতো মুখভঙ্গি করে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারেন।
ছোট একেকটি ইমোজি কত কিছু বলে দিতে পারে! ইমোজি আমাদের যোগাযোগ আরও সহজ ও মজার করে তুলেছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে হয়তো ইমোজির ব্যবহার আরও ব্যাপক হবে। তার মাধ্যমে আমরা আমাদের অনুভূতিগুলো ভাষায় না প্রকাশ করেও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারব।
সূত্র: বেওন্ড বর্ডার, থ্রিমা ও অন্যান্য

রাতে মাত্র একটি তরকারিই রান্না করা কথা ভাবছেন? যা দিয়ে অনায়াসে এক প্লেট ভাত খেয়ে নেওয়া যাবে! আপনাদের জন্য এমনই একটি রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
২১ ঘণ্টা আগে
ইতিহাস, স্থাপত্য আর আধুনিক গ্রাফিকসের অনন্য মিশেলে এবারের বিশ্বকাপের জার্সিগুলোতে ঘটেছে টাইপোগ্রাফি বিপ্লব। জার্সির নম্বর ও নামের ফন্টগুলোতে এবারও নিখুঁত ইতিহাস আর জ্যামিতিক কারুকার্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ফিফার কঠিন সব নিয়ম মেনেও জার্সির নম্বরের মাধ্যমে একেকটি দেশের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে...
১ দিন আগে
ভ্রমণের সময় কানেকটিং ফ্লাইট মিস হওয়া অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং উদ্বেগজনক। আবহাওয়া বা বিমানবন্দরজটের মতো কিছু বিষয় যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও কিছু পূর্বপ্রস্তুতি এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। একজন অবসরপ্রাপ্ত ইউনাইটেড ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট কানেকটিং ফ্লাইট মিস হওয়ার প্রধান পাঁচটি ভুল...
১ দিন আগে
ভ্রমণের কথা মাথায় এলে আমরা অনেকেই এমনভাবে পরিকল্পনা করি, যাতে পকেটও বাঁচবে, মনও ভরবে। এ ক্ষেত্রে ভ্রমণের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বেছে নিতে পারেন। সে দেশগুলোতে ভ্রমণের রোমাঞ্চ পাবেন অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে একেবারে আলাদা। তবে এই ভ্রমণ নিখুঁত ও নিরাপদ করতে ৯টি বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি।
১ দিন আগে