সঙ্গীর মন ভালো করতে ডিনার ডেটের আয়োজন, যা মনে রাখা জরুরি

সকালে অফিস যাওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রীর মাঝেমধ্যে মনোমালিন্য হওয়া স্বাভাবিক ঘটনাগুলোর মধ্যেই পড়ে। কিন্তু তাই বলে প্রিয় মানুষটি সারা দিন একবারও ফোনকল করল না? খুব মন ভার হয়ে আছে নিশ্চয়ই! চট করে আজ রাতেই ডিনার ডেটের আয়োজন করে ফেলুন না! দাম্পত্য সম্পর্কে এমন হুটহাট ডেট করা কিন্তু স্বাস্থ্যকরই। হঠাৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে রেস্টুরেন্ট, পোশাক কিংবা মেন্যু নির্বাচন সবকিছুতেই একধরনের দোটানা কাজ করে। কিন্তু আগে থেকে যদি পরিকল্পনা করা যায়, তাহলে প্রথম ডেট স্মরণীয় ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
স্বস্তিকর রেস্টুরেন্ট নির্বাচন
ডিনার ডেটের জন্য এমন একটি রেস্টুরেন্ট নির্বাচন করতে হবে, যেখানে দুজনই স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করবেন। এমন রেস্টুরেন্ট বিবেচনায় নিতে হবে যাতে দুজনে আরাম করে কথা বলে সময়টা কাটানো যায়। খাবার অর্ডার করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্ল্যাটার না নিয়ে, আলাদা করে যাতে অর্ডার করার ব্যবস্থা থাকে সেদিকে খেয়াল রেখে রেস্টুরেন্ট নির্বাচন করতে হবে।
পরিপাটি হয়ে উপস্থিত হোন
মান ভাঙানোর ডেটে স্টাইলিশ লুকে হাজির হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এমন জামা-কাপড় পরতে হবে যাতে হাঁটা, খাওয়া, নিশ্বাস নেওয়া ও কথা বলার মতো বিষয়গুলো স্বস্তিদায়ক হয়। এ ক্ষেত্রে ক্যাজুয়াল জামা পরা যেতে পারে। ক্যাজুয়াল পোশাকে লুক থাকবে পরিপাটি, সঙ্গে মিলবে স্বস্তিও। সঙ্গী কখনো উপহার দিয়েছিলেন, কিন্তু পরা হয়ে ওঠেনি—এমন পোশাকও পরে ফেলার দারুণ সুযোগ কিন্তু এই ডিনার ডেট!
সময়মতো আসার চেষ্টা করুন
একে তো সঙ্গী রেগে আছেন, তার ওপর নিজেই যদি দেরি করে আসেন তাহলেই হয়েছে! ডেটে অবশ্যই দেরি করা চলবে না। যদি অপ্রত্যাশিত কোনো সমস্যার কারণে দেরি হয়েই যায়, সঙ্গে সঙ্গে ফোন অথবা টেক্সটের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে। ডেটে নির্ধারিত সময়ে আসার অর্থ হলো, আপনি আত্মবিশ্বাসী, উৎসাহী ও সুসংগঠিত।

স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকুন
ডিনার ডেটে হাতের স্মার্টফোনটি সাইলেন্ট মুডে রাখুন। যাতে কোনো কল বা টেক্সটের নোটিফিকেশনের শব্দ না আসে। বারবার ফোন চেক করা থেকে দূরে থাকুন। সব মনোযোগ পাশে থাকা ব্যক্তিটির দিকে রাখুন। এতে ডেট উপভোগ্য হয়ে উঠবে।
চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন
ডিনার টেবিলে নিস্তব্ধতা অস্বস্তিকর। তাই সাহস নিয়ে কথা বলা শুরু করতে হবে। প্রশ্ন করুন এবং চোখের দিকে তাকিয়ে মনোযোগ সহকারে প্রিয় মানুষটির কথাগুলো শোনার চেষ্টা করুন। এর অর্থ, আপনি তার প্রতি আগ্রহী। এ ছাড়া প্রিয় রেস্টুরেন্ট ও পছন্দের খাবার নিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে। শখ, পরিবার ও কর্মক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করুন। খোলা মনের পরিচয় দিন এবং সঙ্গীর মতামতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনুন।

সহজেই খাওয়া যায় এমন খাবার অর্ডার করুন
নিজেরা যে ধরনের খাবার পছন্দ করেন, সেগুলোরই অর্ডার দিন। অভ্যস্ত নন তেমন খাবারের অর্ডার না দেওয়াই ভালো। চামচ ও ছুরি দিয়ে খেতে অভ্যস্ত হলে সেগুলোও অর্ডার করতে পারেন।
ভদ্রতা বজায় রাখুন
নিজের সম্পর্কে ভালো ছাপ তৈরি করতে ডিনার টেবিলে ভদ্রতা ও শিষ্টাচার বজার রাখুন। এ জন্য কিছু বিষয় মেনে চলতে পারেন—মুখ খোলা রেখে খাবেন না; ছুরি চাটবেন না; টুথপিক ব্যবহার করবেন না; নখ কামড়ানো; বারবার চুল ও মুখে হাত দেওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে; মুখে খাবার লেগে থাকলে টিস্যু দিয়ে পরিষ্কার করুন; রেস্টুরেন্ট কর্মীদের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করুন; পুরুষদের ক্ষেত্রে, আপনার মেয়ে সঙ্গী টেবিল ছেড়ে ওঠার পর কিংবা টেবিলে ফিরে আসার পর দাঁড়িয়ে আবার বসুন।
ধীরে খাবার খান
ডেটের সময় ধীরে ধীরে খাবার খেতে হবে। খাওয়ার সময় কথা বলুন। খাওয়ার মাঝে সঙ্গীকে ডেজার্ট শেয়ার করুন।
বিল দেওয়া
সম্পূর্ণ বিল নিজ থেকেই দেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি আপনার সঙ্গী কিছু শেয়ার করার জন্য জোর করে, তাহলে দুজন মিলেই বিল দিন। সবচেয়ে ভালো হয়, পাশে থাকা ব্যক্তিটি দেখার আগেই বিল দিয়ে দেওয়া। তবে বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে ছেলেদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
সূত্র: গুডফুড গিফটকার্ড ও অন্যান্য










