Ajker Patrika

প্রতারক জীবনসঙ্গী কি সত্যিই কখনো বিশ্বস্ত হয়ে উঠতে পারেন? যেভাবে বুঝবেন

ফিচার ডেস্ক
প্রতারক জীবনসঙ্গী কি সত্যিই কখনো বিশ্বস্ত হয়ে উঠতে পারেন? যেভাবে বুঝবেন
সিরিয়াল চিটার বা প্রতারকদের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। থেরাপি দিলেও এদের আচরণগত পরিবর্তন আনা অত্যন্ত কঠিন। ছবি: পেক্সেলস

সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিরাপত্তাবোধ। যখন জীবনসঙ্গী প্রতারণা করেন, তখন শুধু একটি সম্পর্ক ভাঙে না, বরং অন্য মানুষটির ওপর থেকে সারা জীবনের মতো বিশ্বাস উঠে যায়। প্রতারণা ধরা পড়ার পর প্রতিটি মানুষের মনেই প্রথম যে প্রশ্নটি জাগে তা হলো, ‘তিনি কি আর কখনো লয়্যাল বা বিশ্বস্ত হতে পারবেন?’ মনোবিজ্ঞান ও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, অর্থাৎ মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর একক কোনো শব্দে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি নির্ভর করে মানুষের ব্যক্তিত্বের গঠন, প্রতারণার ধরন এবং অপরাধবোধের গভীরতার ওপর।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের আচরণ পরিবর্তনশীল, তবে তা রাতারাতি ঘটে না। চিকিৎসক, কাউন্সিলর ও সাইকোথেরাপি প্র‍্যাকটিশনার অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, ‘প্রতারণা মূলত একটি আচরণগত প্রকাশ। মানুষ তখনই বদলাতে পারে, যখন তিনি নিজের ভুলটি নিজের চোখ দিয়ে দেখতে পান। পাশাপাশি নিজের ভুল বা অপরাধের কারণে অপর মানুষটির কষ্টকে উপলব্ধি করতে পারেন। একে আমরা বলি সহমর্মিতা। যদি কোনো প্রতারক সঙ্গী তাঁর অপর সঙ্গীর মানসিক কষ্ট ও ট্রমা মন থেকে অনুধাবন করতে পারেন, তবে তাঁর ভবিষ্যতে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে প্রায় ৭০ শতাংশ। কিন্তু তিনি যদি কেবল সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য বা লোকলজ্জার ভয়ে দুঃখিত বলেন, তবে সেই পরিবর্তন স্থায়ী হয় না।’

কেউ যদি তাঁর সঙ্গীকে দ্বিতীয় সুযোগ দিতে চান, তবে শুধু মুখের কথায় বিশ্বাস না করে তাঁর আচরণ পর্যবেক্ষণ করা উচিত। ছবি: পেক্সেলস
কেউ যদি তাঁর সঙ্গীকে দ্বিতীয় সুযোগ দিতে চান, তবে শুধু মুখের কথায় বিশ্বাস না করে তাঁর আচরণ পর্যবেক্ষণ করা উচিত। ছবি: পেক্সেলস

সম্পর্কে তিনভাবে প্রতারণার ঘটনা ঘটে। অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, ‘সম্পর্কে প্রতারণার ঘটনা তিনটি উপায়ে ঘটতে পারে।’

পরিস্থিতিতে পড়ে প্রতারণা

এ ক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত সম্পর্কের কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষ, মানসিক দূরত্ব বা কোনো একটি দুর্বল মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। ডা. সানজিদা শাহরিয়ার মতে, এই ধরনের ব্যক্তিদের অনুতপ্ত হওয়ার এবং পরবর্তীকালে সম্পূর্ণ থাকার রেকর্ড অনেক বেশি। কারণ, তাঁরা নিজেদের নৈতিক স্খলনকে মেনে নিতে পারেন না এবং অনুশোচনায় ভোগেন।

স্বভাবগত বা সিরিয়াল প্রতারক

এ ধরনের ব্যক্তিরা বারবার প্রতারণা করেন এবং প্রতিবারই নতুন নতুন অজুহাত তৈরি করেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, সিরিয়াল চিটার বা প্রতারকদের অনেকের মধ্যেই নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার বা অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি টেন্ডেন্সি দেখা যায়। এরা অন্যের আবেগ নিয়ে অতটা ভাবেন না এবং এদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা থাকে না। এই ধরনের মানুষদের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। থেরাপি দিলেও এদের আচরণগত পরিবর্তন আনা অত্যন্ত কঠিন।

সম্পর্কে নতুন করে বিশ্বাসের জন্ম দিতে করণীয়

একটি সম্পর্ককে নতুন করে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে ডা. সানজিদা শাহরিয়া তিনটি প্রধান ধাপের কথা বলেন—

স্বীকৃতি

কোনো রকম ‘কিন্তু’ বা ‘তুমি এই সুযোগ দিয়েছ’–এমন অজুহাত না দেখিয়ে নিজের ভুল পুরোপুরি স্বীকার করা।

অনুশোচনা

সঙ্গীর যে মানসিক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁর ক্ষোভ বা কান্নাকে সহ্য করার মানসিকতা রাখা।

পুনর্গঠন

হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ জীবন যাপন করা। ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া বা দৈনন্দিন রুটিন নিয়ে কোনো লুকোছাপা না করা।

ডা. সানজিদা শাহরিয়ার মতে, প্রতারণার পর সম্পর্ক জোড়া লাগানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তবে কেউ যদি তাঁর সঙ্গীকে দ্বিতীয় সুযোগ দিতে চান, তবে শুধু মুখের কথায় বিশ্বাস না করে তাঁর আচরণ পর্যবেক্ষণ করা উচিত। পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।

তিনি আরও যোগ করেন, যদি কোনো সঙ্গী থেরাপি নিতে রাজি থাকেন, নিজের মানসিক ঘাটতিগুলো নিয়ে কাজ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সততার প্রমাণ দেন, তবে একটি মৃতপ্রায় সম্পর্কেও নতুন করে বিশ্বাসের বীজ বোনা সম্ভব। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ক্ষমা করার অর্থ এই নয় যে আপনাকে সেই সম্পর্কে আবারও প্রতারিত হলেও থেকে যেতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত