Ajker Patrika

সমালোচনা সামলানোর ৫ কৌশল জেনে রাখুন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
সমালোচনা সামলানোর ৫ কৌশল জেনে রাখুন
কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে উন্নতির জন্য গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকা জরুরি। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো নিজের প্রশংসা শুনতে পছন্দ করা। কিন্তু সত্য হলো, আপনার সীমাবদ্ধতাগুলো নিজের চেয়ে অন্যরা ভালো দেখতে পায়। তাই কখনো কখনো সমালোচনা হয় আপনাকে নিয়ে। এটি সহ্য করা বা অন্যের নেতিবাচক মন্তব্য গ্রহণ করা আমাদের অনেকের জন্যই কঠিন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে উন্নতির জন্য গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কর্মক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা বাড়াতে সমালোচনাকে ভয় না পেয়ে বরং তাকে শেখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।

গঠনমূলক বনাম ধ্বংসাত্মক সমালোচনা

সমালোচনা দুই ধরনের হতে পারে। ডেল কার্নেগির মতে, যেকোনো নির্বোধ ব্যক্তি সমালোচনা বা অভিযোগ করতে পারে। কিন্তু ধৈর্য ও আত্মসংযম দেখানোর জন্য উন্নত চরিত্রের প্রয়োজন। গঠনমূলক সমালোচনা সেটাই, যা আপনার ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়, যাতে আপনি উন্নতি করতে পারেন। এটি পেশাদারি এবং সম্মানের সঙ্গে জানানো হয়। অন্যদিকে নেতিবাচক সমালোচনা শুধু আঘাত করার বা নিচু করার জন্য করা হয়। তবে পরিস্থিতি যা-ই হোক, নিজের মনকে উন্মুক্ত রাখলে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া থেকে শিক্ষা নেওয়া সম্ভব।

সমালোচনা সামলানোর ৫ কৌশল

কর্মক্ষেত্রে সমালোচনার মুখে পড়লে যে পাঁচ টিপস মেনে চলতে পারেন—

শোনার ধৈর্য: বক্তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ‘অ্যাকটিভ লিসেনিং’-এর তিনটি সূত্র মনোভাব, মনোযোগ ও সমন্বয় মেনে চলুন। প্রশ্ন করে বিষয়টি পরিষ্কার করে বুঝে নিন।

নিজের প্রতি সদয় থাকা: মানুষমাত্রই ভুল হয়। ভুলের জন্য নিজেকে খুব বেশি দোষারোপ না করে বরং তা থেকে কী শেখা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিন।

একটি পরিকল্পনা তৈরি করা: যে ভুলটি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে এড়াতে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করুন।

নোট নেওয়া: একই ভুলের জন্য বারবার সমালোচনা শোনা বিরক্তিকর। তাই প্রধান পয়েন্টগুলো লিখে রাখুন।

ধন্যবাদ জানানো: সমালোচনা হজম করা কঠিন হলেও আপনার উন্নতির জন্য অন্য পক্ষ যে সময় দিয়েছে, তার জন্য বিনম্রভাবে ধন্যবাদ জানান। এটি আপনার ব্যক্তিত্বের গভীরতা প্রকাশ করে।

তরুণ প্রজন্মের জন্য সংঘাতই উন্নতির পথ

আজকাল অনেক তরুণ অতিরিক্ত আদরের কারণে সামান্য সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। এতে তাঁদের ইগো বাড়ে, কিন্তু দক্ষতা বাড়ে না। মনে রাখবেন, কাজে ভুল করলে বা কাজে ধীরগতি হলেই শুধু আপনার বস বা ক্লায়েন্ট বিরক্ত হন। ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়স হলো নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার সময়। ডেডলাইন বা চাপের মুখে ভেঙে পড়লে চলবে না। অনেক সফল মানুষই ক্যারিয়ারের শুরুতে মিটিং টেবিলের চাপে পড়ে কান্নাকাটি করেছেন বা নারী হওয়ার কারণে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা হাল ছাড়েননি; বরং পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের প্রমাণ করেছেন।

জীবনের নিয়মে ক্যারিয়ারের বিকাশ

গাছ যেমন শুরুতে সঠিক পুষ্টি না পেলে পরে সার দিলেও লাভ হয় না, ক্যারিয়ারের বিষয়টিও ঠিক তেমন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যদি কঠোর পরিশ্রম ও সমালোচনা সহ্য করতে না শেখেন, তবে কয়েক বছর পর আপনার চেয়ে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীরা আপনাকে ছাড়িয়ে যাবে। তারুণ্যে আরামদায়ক জীবনের পেছনে ছুটবেন না। এখনকার সংগ্রাম আপনার ভবিষ্যৎ জীবনকে শান্তিময় করবে। নিজের আত্মসম্মান বা প্রাইড বিসর্জন দিয়ে হলেও শুরুতে কাজ শিখে নিতে হয়। যখন আপনি দক্ষ হয়ে উঠবেন, তখন আপনিই নির্ধারণ করবেন, আপনি কার সঙ্গে কাজ করবেন, আর কার সঙ্গে করবেন না।

সূত্র: মিডিয়াম, ভিএন এক্সপ্রেস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত