Ajker Patrika

ভাইরাল ১০ ঘরোয়া পদ্ধতি, যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে

ফিচার ডেস্ক
ভাইরাল ১০ ঘরোয়া পদ্ধতি, যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে
ত্বক ভালো রাখতে একটি হালকা ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা কিউরোলজির মতো নির্ভরযোগ্য পরামর্শ অনুযায়ী রূপচর্চা করুন। ছবি: পেক্সেলস

নামি-দামি ব্র্যান্ডের পণ্য যখন কাজ করে না, তখন অনেকেই একদম প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো কিংবা ব্রণের সমস্যা দূর করার দিকে ঝুঁকে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে আজকাল স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে নানা রকম ঘরোয়া রূপচর্চা। যাকে বলা হয় ডিআইওয়াই স্কিনকেয়ার হ্যাকস। আপাতদৃষ্টিতে এসব প্রাকৃতিক উপাদানকে নিরাপদ মনে হলেও, ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে বিজ্ঞানহীন এসব ভাইরাল ট্রেন্ড ত্বকের সুরক্ষাস্তর ধ্বংস করতে পারে। এ ছাড়া অ্যালার্জি ছড়াতে পারে, এমনকি ত্বক পুড়িয়ে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

ত্বক উজ্জ্বল করতে লেবুর রস ও টমেটোর রস

লেবু ও টমেটোতে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও এগুলোর অম্লতা বা অ্যাসিডের মাত্রা অনেক বেশি। লেবুর রস ব্যবহারের ফলে ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। যার ফলে ত্বক পুড়ে যাওয়া, লালচে ভাব বা হাইপারপিগমেন্টেশনের সমস্যা দেখা দেয়। একইভাবে টমেটোর রস সরাসরি ত্বকে লাগালে ব্রণ কমার চেয়ে ত্বক আরও খসখসে ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এগুলো মুখে মাখার চেয়ে খাওয়া অনেক বেশি উপকারী।

টোনার হিসেবে আপেল সিডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগার বা বাজারের কড়া অ্যাস্ট্রিজেন্ট ব্যবহারের সময় ত্বকে যে জ্বালা বা সুই ফোটার মতো অনুভূতি হয়। অনেকে ভাবেন এটি ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হওয়ার লক্ষণ। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই জ্বলার অর্থ হলো ভিনেগারের অ্যাসিড সংবেদনশীল ত্বককে পুড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এটি ব্যবহারে সামান্য এক্সফোলিয়েশন হয়। তাই যদি ব্যবহার করতেই হয়, তবে ১ ভাগ ভিনেগারের সাথে ৪ ভাগ পানি মিশিয়ে অত্যন্ত পাতলা করে ব্যবহার করা উচিত।

ব্রণে টুথপেস্ট ও কাঁচা রসুন

ব্রণ দ্রুত শুকাতে টুথপেস্টের ব্যবহার একটি পুরনো ভুল ধারণা। টুথপেস্টে থাকা মেনথল, অ্যালকোহল ও হাইড্রোজেন পারক্সাইড ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক ও কালচে করে ব্রণ আরও বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, রসুনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকলেও কাঁচা রসুন সরাসরি ত্বকে লাগালে কেমিক্যাল বার্ন বা ত্বক পুড়ে যাওয়া, ফোসকা পড়া এবং তীব্র জ্বালাপোড়া হতে পারে।

ঘরে তৈরি বা ডিআইওয়াই সানস্ক্রিন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে বিপজ্জনক ট্রেন্ডগুলোর একটি হলো বিভিন্ন প্রাকৃতিক তেল মিশিয়ে ঘরেই সানস্ক্রিন তৈরি করা। বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরীক্ষিত ফর্মুলেশন ছাড়া ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকে সুরক্ষা পাওয়া অসম্ভব। ঘরে তৈরি সানস্ক্রিন কোনো সুরক্ষা দিতে পারে না। উল্টা এটি রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া, পিগমেন্টেশন এবং অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বেকিং সোডা ও স্ক্রাব দিয়ে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন

অনেকে বেকিং সোডাকে প্রাকৃতিক স্ক্রাব মনে করেন। কিন্তু বেকিং সোডার উচ্চ পিএইচ ত্বকের স্বাভাবিক অ্যাসিডিক পরিবেশ নষ্ট করে ত্বককে খসখসে ও শুষ্ক করে তোলে। এছাড়া কফি গুঁড়ো, চিনি বা সমুদ্রের লবণ দিয়ে তৈরি স্ক্রাব ত্বকে ঘষলে চামড়ায় সূক্ষ্ম ফাটল বা টিয়ার্স তৈরি হয়, যা থেকে পরবর্তীতে ইনফ্লামেশন ও সংবেদনশীলতা দেখা দেয়।

ব্ল্যাকহেডস দূর করতে আঠা বা গ্লু-এর সঙ্গে চারকোল মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করা সম্পূর্ণ অনিরাপদ। চারকোলের পরিষ্কার করার ক্ষমতার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ছবি: পেক্সেলস
ব্ল্যাকহেডস দূর করতে আঠা বা গ্লু-এর সঙ্গে চারকোল মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করা সম্পূর্ণ অনিরাপদ। চারকোলের পরিষ্কার করার ক্ষমতার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ছবি: পেক্সেলস

এলমার্স গ্লু ও চারকোল মাস্ক এবং কর্ন স্টার্চ

ব্ল্যাকহেডস দূর করতে আঠা বা গ্লু-এর সঙ্গে চারকোল মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করা সম্পূর্ণ অনিরাপদ। আঠার গায়ে ‘নন-টক্সিক’ লেখা থাকলেও তা ত্বকের জন্য নয়। এছাড়া চারকোলের পরিষ্কার করার ক্ষমতার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অন্যদিকে, কর্ন স্টার্চ ও পানির পেস্ট মুখে শুকালে টানটান ভাব হলেও তা ধুয়ে ফেলার পর ত্বক আগের মতোই ঝুলে যায়, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

নারকেল তেল ও কাঁচা ডিমের সাদা অংশ

নারকেল তেলের প্রদাহবিরোধী গুণ থাকলেও এটি ত্বকের লোমকূপ বা পোরস খুব সূক্ষ্মভাবে বন্ধ করে দেয়, যা ব্রণের অন্যতম কারণ। আবার বলিরেখা দূর করতে ডিমের সাদা অংশ ফেটিয়ে মুখে মাখার যে ট্রেন্ড রয়েছে, তার কার্যকারিতা ধুয়ে ফেলার কয়েক মিনিট পর আর থাকে না। উল্টো কাঁচা ডিমে থাকা ‘স্যালমনেলা’ ব্যাকটেরিয়া ত্বকে মারাত্মক ইনফেকশন তৈরি করতে পারে।

ভেষজ বেন্টোনাইট ক্লে মাস্ক ও এসেনশিয়াল অয়েল

ক্লে মাস্ক ত্বক থেকে পানি ও তেল শুষে নিয়ে সাময়িকভাবে পোরস ছোট দেখালেও, এটি আসলে ত্বককে ভেতর থেকে ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য করে ফেলে। এছাড়া চা গাছ বা ল্যাভেন্ডারের মতো এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি বা আলো ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসা নষ্ট তেল ত্বকে লাগালে ‘কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস’ বা তীব্র চুলকানি ও র‍্যাশ হতে পারে।

ব্রণের চিকিৎসায় মধু

হাজার বছর ধরে মধুর ঔষধি ব্যবহার থাকলেও বর্তমান দূষিত পরিবেশে ব্রণের তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় কাঁচা মধু ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে, যা ত্বকের ক্ষতি করে।

প্রাকৃতিক মানেই তা ত্বকের জন্য নিরাপদ, এই ধারণাটি ভুল। ত্বকের সুস্থতায় ভাইরাল ট্রেন্ড নয়, বরং বৈজ্ঞানিক যত্নের প্রয়োজন। ত্বক ভালো রাখতে একটি হালকা ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা কিউরোলজির মতো নির্ভরযোগ্য পরামর্শ অনুযায়ী রূপচর্চা করুন।

সূত্র: হেলথ শর্টস, মিডিয়াম

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত