
ব্যর্থতা বা আলসেমিকে ঢাকার জন্য আমরা অজান্তেই অসংখ্য অজুহাত তৈরি করি। আপনি আপনার লক্ষ্য ছুঁতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করে অজুহাতগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, নাকি সেগুলোকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। অজুহাত চিনে নেওয়াটাই হলো সেগুলো কাটিয়ে ওঠার প্রথম ধাপ। আপনি অজুহাতগুলোকে মেনে নেবেন, নাকি সেগুলোকে পাশ কাটিয়ে আপনার ‘বিগ ভিশন’ বা বড় স্বপ্নের পথে হাঁটবেন, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আপনার।
১. ‘আমি খুব ব্যস্ত’: ব্যস্ততা সবারই আছে। এটি কোনো একচেটিয়া সমস্যা নয়। আসলে আমরা যা পছন্দ করি বা যা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আমরা তার জন্যই সময় বের করি। ব্যস্ততার দোহাই না দিয়ে সময় ব্যবস্থাপনায় নজর দিন।
২. ‘আমি খুব ক্লান্ত’: এটি ইচ্ছাশক্তির অভাব ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি ক্লান্তি সত্যিই বাধা হয়, তাহলে আপনার খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের মান উন্নত করুন। ক্লান্তি যেন আপনার স্বপ্নকে থামিয়ে না দেয়।
৩. ‘আমি অসুস্থতা বোধ করছি’: সত্যিই অসুস্থ হলে বিশ্রাম নিন। কিন্তু আলসেমি ঢাকতে এই অজুহাত ব্যবহার করবেন না। নিজের শারীরিক অবস্থার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই।
৪. ‘আইডিয়াটি ভালো কি না নিশ্চিত নই’: কোনো আইডিয়াই শতভাগ নিশ্চিত নয়। কাজ শুরু না করলে আপনি কখনোই জানবেন না, এটি কাজ করবে কি না। বাজারের তথ্য সংগ্রহ করুন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুরু করুন।

৫. ‘এটি সঠিক সময় নয়’: নিখুঁত সময়ের অপেক্ষা করতে করতে অনেক অসাধারণ আইডিয়া অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। এখনই শুরু করার পথ খুঁজুন, নিখুঁত সময় হয়তো কখনোই আসবে না।
৬. ‘আমি জানি না কীভাবে শুরু করব’: বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে সব তথ্যই হাতের নাগালে। শেখার মানসিকতা থাকলে ‘কীভাবে শুরু করব’ এটি কোনো অজুহাত হতে পারে না। প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।
৭. ‘আমি ভীত’: সফল মানুষও ভয় পান, কিন্তু তাঁরা ভয় নিয়েই কাজ শুরু করেন। ভয়কে জয় করার একমাত্র উপায় হলো কাজ শুরু করে দেওয়া।
৮. ‘এটি আমার অভ্যাসের বাইরে’: কমফোর্ট জোনের বাইরে যেতে আমরা সবাই ভয় পাই। কিন্তু অনিশ্চয়তাকে উপভোগ করতে শিখুন। দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে এলে প্রাপ্তির ঝুলি অনেক বড় হবে।
৯. ‘আমি খুব অল্প বয়সী বা খুব বৃদ্ধ’: ব্যবসার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। অল্প বয়সে থাকে প্রাণশক্তি, আর বয়সের সঙ্গে আসে প্রজ্ঞা। নিজের বয়সকে অজুহাত না বানিয়ে শক্তিতে রূপান্তর করুন।
১০. ‘এটি অসম্ভব’: সত্যিকারের উদ্যোক্তাদের অভিধানে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু নেই। কোনো কাজ যদি অন্য কেউ পেরে থাকে, তবে আপনিও পারবেন। আর কেউ না পেরে থাকলে আপনিই হবেন প্রথম।

অজুহাতের মুখোমুখি কেন হবেন
অজুহাত সাময়িক আরাম দিলেও তা আপনার উন্নতির পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। জীবনকে পূর্ণভাবে বাঁচার প্রথম শর্তই হলো নিজের দায়ভার নিজে নেওয়া। অতীত আপনার অভিজ্ঞতা হতে পারে, কিন্তু আপনার পরিচয় নয়। গতকাল আপনি কী ছিলেন, তা বড় কথা নয়, আজ আপনি কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেটাই নির্ধারণ করবে আপনার আগামীকাল কেমন হবে। আমরা নিজেদের অবচেতন মনে সারাক্ষণ কিছু নেতিবাচক ভাবনা ভাবি। যেমন ‘আমি পারব না’, ‘আমার ভাগ্য খারাপ’, ‘এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে’। এই গল্পগুলো বদলে ফেলুন। নিজেকে বিজয়ী হিসেবে কল্পনা করলে বাস্তবও বদলাতে শুরু করবে। স্বপ্ন দেখা শুধু শুরু, কিন্তু সেই স্বপ্নকে ছুঁতে প্রয়োজন অবিরাম এবং শক্তিশালী কর্মতৎপরতা। ছোট ছোট পদক্ষেপের বদলে বড় অর্জনের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যান্ত্রিকভাবে বেঁচে থাকা নয়, বরং প্রতিটি কাজে প্রাণশক্তি আর ভালোবাসা ঢেলে দিন। আপনার ভিশন বা স্বপ্ন যখন আপনার প্যাশন হয়ে উঠবে, তখন কোনো বাধাই আর আপনাকে থামাতে পারবে না।
নিজের দায়িত্ব নিন: আপনার ভাগ্য আপনার হাতেই। অতীত যেমনই হোক, বর্তমানকে নিয়ন্ত্রণ করে ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করা সম্ভব।
দৃষ্টিভঙ্গি বদলান: সমস্যাকে বাধা হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে দেখুন। আপনার জীবনের প্রতিটি ঘটনাই আপনাকে এই মুহূর্তে নিয়ে এসেছে। এখন আপনি হয় নিজেকে বদলে ফেলবেন, না হয় অজুহাত দেবেন।
সীমাবদ্ধ বিশ্বাসগুলো খুঁজুন: আমরা অবচেতন মনে নিজেদের সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক গল্প বলি (যেমন ‘আমি সফল হওয়ার যোগ্য নই’)। এই ভুল বিশ্বাসগুলোই অজুহাত তৈরি করে।
না বলা ছাড়ুন, চেষ্টা করুন: নিজেকে নেতিবাচক কথা বলা বন্ধ করুন। ‘আমি এটি করতে পারব না’; এর বদলে ‘আমি এটি শিখতে পারব’ বলা শুরু করুন
শিক্ষা নিন: যারা অজুহাত দেয়, তারা নিজেদের ভুল থেকে শেখে না, বরং অন্যকে দোষারোপ করে। সফল ব্যক্তিরা প্রতিটি ভুল বা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যান।
অতিরিক্ত চিন্তা বন্ধ করুন: খুব বেশি চিন্তা করলে ‘অ্যানালাইসিস প্যারালাইসিস’ তৈরি হয়, যা কাজ শুরু করতে বাধা দেয়। বড় কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে আজই অ্যাকশনে নামুন।
স্পষ্ট লক্ষ্য স্থির করুন: আপনার ভিশন বা লক্ষ্য যদি শক্তিশালী হয়, তবে অজুহাত দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ান।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার, হেডস্পেস

মানুষের আচরণ তাঁকে অন্যের সামনে তুলে ধরে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অতি সাধারণ কিছু আচরণগত পরিবর্তন কীভাবে অন্যের চোখে আমাদের গুরুত্ব এবং ব্যক্তিত্বকে আমূল বদলে দিতে পারে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। অনেকে এই বিষয়গুলোকে বাহ্যিক বা অগভীর মনে করতে পারেন। কিন্তু সত্য এটাই, আমাদের অবচেতন সংকেতগুলো যদি ভুল
২ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণের ইতিহাসে ট্রেন এক আলাদা আবেগের নাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্লেন, বাস কিংবা ক্রুজ জনপ্রিয় হলেও ট্রেন ভ্রমণের আবেদন কখনোই ফিকে হয়নি। বিশেষ করে প্রকৃতির মাঝ দিয়ে ধীরগতির যাত্রা, জানালার পাশে বসে দৃশ্য উপভোগ আর ট্রেনের ছন্দময় শব্দ অনেকের কাছে নিখাদ আনন্দ। পাহাড়, বন, হিমবাহ কিংবা ঐতিহাসিক শহরের ভেতর
৬ ঘণ্টা আগে
ছোটবেলা থেকে আমরা শিখেছি, হার না মানাই হলো বীরত্ব। লড়াই করে টিকে থাকাই হলো বুদ্ধিমত্তা। কিন্তু জীবন যখন বিশ বা ত্রিশের কোঠা পেরিয়ে আরও সামনে যায়, তখন সংজ্ঞাটুকু পাল্টে যায়। সত্যিকারের বুদ্ধিমান মানুষেরা একসময় বুঝতে পারেন, প্রতিটি যুদ্ধ জেতার জন্য নয়, কিছু জয় আসলে পরাজয়ের চেয়েও গ্লানিকর।
৮ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার উপার্জনের রাস্তা দশটা। তবে সাবধান, দশ দিকে হাত বাড়াতে গিয়ে যেন মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা না খেতে হয়! ভাগ্যের চাকা আজ বনবন করে ঘুরছে, কিন্তু আপনি যেন সেই চক্করে মাথা ঘুরে পড়ে না যান।
৮ ঘণ্টা আগে