Ajker Patrika

খেজুর সংরক্ষণের সঠিক উপায়

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৩১
খেজুর সংরক্ষণের সঠিক উপায়
মরিয়ম খেজুর। ছবি: সংগৃহীত

রমজানে ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ খেজুর। এর মিষ্টি স্বাদ আর পুষ্টিগুণ অতুলনীয়। সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করলে এটি অনেক দিন ভালো থাকে। তবে খেজুরও নষ্ট হতে পারে। আর নষ্ট বা ছাতা পড়া খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এই অবস্থা শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যদি একটি খেজুরেও ছাতা বা ছত্রাক দেখেন, তবে ঝুঁকি না নিয়ে পুরো প্যাকেজটি ফেলে দেওয়াই ভালো। কারণ, অনেক সময় ছত্রাক খালি চোখে দেখা না গেলেও তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই রমজান মাসে খেজুর খান নিরাপদে। আর তার জন্য জেনে রাখুন খেজুর সংরক্ষণের উপায়।

বুঝে নিন ৩ লক্ষণ

অনেকে খেজুরের গায়ে সাদা আস্তরণ দেখে ভয় পান। আসলে এটি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ নয়, বরং এটি হলো শুকিয়ে যাওয়া চিনি। খেজুর নষ্ট হয়েছে কি না, তা বুঝতে তিনটি বিষয় খেয়াল করতে হবে—

অনেকে খেজুরের গায়ে সাদা আস্তরণ দেখে ভয় পান। আসলে এটি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ নয়, বরং এটি হলো শুকিয়ে যাওয়া চিনি। ছবি: পেক্সেলস
অনেকে খেজুরের গায়ে সাদা আস্তরণ দেখে ভয় পান। আসলে এটি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ নয়, বরং এটি হলো শুকিয়ে যাওয়া চিনি। ছবি: পেক্সেলস

রং পরিবর্তন বা ছাতা ধরা: যদি দেখেন, খেজুরের বাইরের বা ভেতরের রং অতিরিক্ত গাঢ় হয়ে গেছে অথবা গায়ে সাদা রঙের ছাতা পড়েছে, তবে তা দ্রুত ফেলে দিন। বিশেষ করে মেজুল জাতের খেজুরে আর্দ্রতার কারণে কালো ছত্রাক বা অ্যাসপারগিলাস নাইজার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

বাজে গন্ধ: খেজুরের নিজস্ব কোনো কড়া গন্ধ নেই; বরং একটি হালকা মিষ্টি সুবাস থাকে। যদি পচা বা টক ধরনের কোনো কড়া গন্ধ নাকে আসে, তবে বুঝবেন খেজুরটি খাওয়ার অনুপযোগী।

ভেতরে পোকামাকড়ের উপস্থিতি: খেজুর কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদিত হয়। তাই অনেক সময় এর ভেতরে পোকা, মাকড়সা বা কৃমি বাসা বাঁধতে পারে। খেজুরের ভেতরে কাঠের গুঁড়ার মতো ছোট বাদামি দানা দেখলে বুঝবেন, সেখানে পোকা রয়েছে। তাই কামড় দিয়ে খাওয়ার চেয়ে খেজুরের পেট চিরে পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

খেজুর সংরক্ষণের সঠিক উপায়

খেজুর সব সময় বায়ুরোধী পাত্রে ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় রাখা উচিত। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।
খেজুর সব সময় বায়ুরোধী পাত্রে ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় রাখা উচিত। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন: খেজুর সব সময় বায়ুরোধী পাত্রে ঢুকিয়ে ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় রাখা উচিত।

ভ্যাকুয়াম সিল করা ব্যাগে রাখুন: সম্ভব হলে ভ্যাকুয়াম সিল করা ব্যাগে রাখুন। এটি আর্দ্রতার পরিবর্তন থেকে খেজুরকে রক্ষা করবে এবং ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে দেবে না।

ফ্রিজে রাখুন: বেশি দিন তাজা রাখতে ফ্রিজ বা ডিপ ফ্রিজে খেজুর সংরক্ষণ করুন।

কোন প্রজাতির খেজুর কত দিন ভালো থাকে

খেজুরের প্রজাতিভেদে এর স্থায়িত্ব ভিন্ন হয়। এতে প্রচুর পুষ্টি ও আঁশ থাকলেও ক্যালরির পরিমাণ অনেক বেশি। তাই সুস্থ থাকতে পরিমিত খেজুর খাওয়া উচিত।

ডেগলেট নূর: এ ধরনের খেজুরগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় ১ বছর এবং ডিপ ফ্রিজে ২ থেকে ৩ বছর ভালো থাকে।

মেজুল: এ প্রজাতির খেজুরগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় ৬ মাস এবং ডিপ ফ্রিজে ১ বছরের বেশি ভালো থাকে।

ডিপ ফ্রিজে রাখার নিয়ম

খেজুর ডিপ ফ্রিজে রাখলে এর স্থায়িত্ব অনেক বাড়ে। তবে ডিফ্রস্ট বা বরফ গলানোর পর এটি কিছুটা নরম ও কাদাটে হয়ে যেতে পারে। যেভাবে রাখবেন,

  • পরিষ্কার কাপড় দিয়ে খেজুর মুছে নিয়ে ভেতরের বিচি ফেলে দিন।
  • একটি বেকিং শিটে একটির সঙ্গে অন্যটি যেন না লাগে, এভাবে সাজিয়ে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজারে রাখুন।
  • পুরোপুরি জমে গেলে জিপ-লক ব্যাগ বা বায়ুরোধী পাত্রে ভরে রাখুন।

খেজুরের ৭ স্বাস্থ্যগুণ

  • খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে। ১০০ গ্রাম মেজুল খেজুরে প্রায় ২৭৭ ক্যালরি থাকে, যার বেশির ভাগই আসে শর্করা থেকে। এ ছাড়া এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন এবং ভিটামিন বি৬ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ভিটামিন রয়েছে।
  • এটি ফাইবার বা আঁশ সমৃদ্ধ। ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ৭ গ্রাম আঁশ থাকে।
  • রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে এতে। খেজুরে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড প্রদাহ কমায়, ক্যারোটিনয়েড হৃৎপিণ্ড ও চোখের সুরক্ষা দেয় এবং ফেনোলিক অ্যাসিড ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
  • ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুর মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি আলঝেইমার রোগ সৃষ্টিকারী প্রোটিন বা অ্যামাইলয়েড বিটার প্রভাব কমিয়ে স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • সন্তানসম্ভবা নারীদের জন্য খেজুর ওষুধের মতো। গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত খেজুর খেলে জরায়ুর প্রসারণ সহজ হয় এবং প্রসববেদনা কমানোর পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে লেবার পেইন তোলার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়।
  • সাদা চিনির বদলে খেজুরের পেস্ট (খেজুর ও পানি ব্লেন্ড করে তৈরি) ১ অনুপাত ১ রেসিপিতে ব্যবহার করা যায়। ১ কাপ চিনির বদলে ১ কাপ খেজুরের পেস্ট ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো।
  • খেজুরে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

সূত্র: হেলথ লাইন, ভেরিওয়েল হেলথ, দ্য কিচেন

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত