
এডিএইচডি শব্দটা আমরা প্রায়ই শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে দেখি। কিন্তু অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার বা এডিএইচডি কেবল শিশুদের নয়, বড়দেরও হতে পারে। অনেক সময় অবহেলা বা না জানার কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের এডিএইচডি নজরের বাইরে থেকে যায়। এটি ব্যক্তির নিজের জন্য তো ক্ষতিকরই, বৈবাহিক বা প্রেমের সম্পর্কে মারাত্মক ভুল-বোঝাবুঝি ও সমস্যা সৃষ্টি করে। সঙ্গীর এডিএইচডি থাকলে পরিবারের যেসব কাজ একসঙ্গে করার কথা, সেগুলো সম্পন্ন করতে প্রায়ই অপরজনকে হিমশিম খেতে দেখা যায়। এ ছাড়া প্রাত্যহিক জীবনে আরও নানান জটিলতা দেখা দিতে পারে। সম্পর্কের খাতিরেই সঙ্গীর এই মানসিক অবস্থাটি বোঝা এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সঙ্গীর এডিএইচডি রয়েছে কি না তা বোঝার জন্য তাঁর আচরণগত কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ খেয়াল করতে হবে। এতে করে সমস্যা সমাধান তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের এডিএইচডির লক্ষণগুলো শিশুদের মতো চঞ্চলতা না-ও হতে পারে, বরং তা দৈনন্দিন আচরণে প্রকাশ পেতে পারে।
মনোযোগের অভাব: কোনো কথা বলার সময় মনে হতে পারে সঙ্গী শুনছেন না বা তিনি অন্যমনস্ক হয়ে আছেন। কথার মাঝখানেই বেখেয়ালে উঠে চলেও যেতে পারেন।
বারবার ভুলে যাওয়ার প্রবণতা: রোজই প্রয়োজনীয় জিনিস হারানো, বিশেষ দিন বা পারিবারিক দায়িত্বের কথা বারবার ভুলে যাওয়ার প্রবণতা এদের অনেক বেশি থাকে।
কাজে অগোছালো ভাব: ঘরের কাজ বা অফিসের কাজ গুছিয়ে করতে না পারা এবং কাজ শেষ না করে ফেলে রাখায় এরা অভ্যস্থ।
সময়ানুবর্তিতার অভাব: যেকোনো জায়গায় পৌঁছাতে বা ডেডলাইন পূরণ করতে প্রায়ই দেরি হয়।
আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা: হুট করে রেগে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা অল্পতেই অধৈর্য হয়ে পড়া খুব স্বাভাবিক।
অতিরিক্ত কথা বলা বা বাধা দেওয়া: অন্যের কথা শেষ হওয়ার আগেই নিজের কথা শুরু করা বা মাঝপথে থামিয়ে দেওয়ার অভ্যাস।
সঙ্গীর এডিএইচডি থাকলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এবং তাকে সাহায্য করতে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন।
লক্ষণগুলোকে সঙ্গীর অলসতা, অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত আচরণ মনে করবেন না। এটি মস্তিষ্কের একটি নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সমস্যা। রোগটি সম্পর্কে পড়াশোনা করলে আপনার রাগ বা ক্ষোভ কমে আসবে।
অস্পষ্ট কথা না বলে আপনার চাহিদা বা কাজের কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলুন। যেমন—‘ঘরটা গোছাও’ না বলে বলুন, ‘কাপড়গুলো আলমারিতে রাখো।’ শান্তভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন।
সঙ্গীকে ক্যালেন্ডার অ্যাপ, অ্যালার্ম বা ‘টু-ডু লিস্ট’ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করুন। ঘরের দায়িত্বগুলো স্পষ্ট করে ভাগ করে নিন এবং তা লিখে রাখুন, যেন ভুলে যাওয়ার সুযোগ কম থাকে। তবে এই কাজে তাকে অভ্যস্থ করা কঠিন সেটাও মনে রাখতে হবে।
তাঁর ছোট ছোট প্রচেষ্টা বা সফলতার প্রশংসা করুন। দোষারোপ করার মানসিকতা পরিহার করুন। সে কোনো ভুল করলে চিৎকার না করে তাকে শুধরে দিন।
এডিএইচডি নিজে নিজে দূর করা সম্ভব নয়। একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ ভালো কাজ করতে পারে। এডিএইচডি কোনো সম্পর্কের শেষ নয়। সঠিক চিকিৎসা, সহমর্মিতা এবং ধৈর্যের মাধ্যমে এডিএইচডিতে আক্রান্ত সঙ্গীর সঙ্গেও একটি চমৎকার ও সুখী সম্পর্ক বা দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সিলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি

একটা সুন্দর সকালের ওপর নির্ভর করছে আপনার সারা দিনের কর্মক্ষমতা আর মেজাজ। তাই সকালটা শুরু হওয়া উচিত একেবারে ধীর গতিতে, কোনো তাড়াহুড়া না করে ঠান্ডা ভাবে। এ জন্য সকালে কিছু নির্দিষ্ট কাজ করা জরুরি। আর কিছু কাজ কোনো ভাবেই সকালে করা ঠিক নয়। এই পরিবর্তনগুলো শুরু করতে পারেন পূজার ছুটি থেকে। এতে বদলগুলো...
৯ ঘণ্টা আগে
গরদ শাড়ি হলো হাতে বোনা ঐতিহ্যবাহী ও খাঁটি সিল্ক বা রেশমের শাড়ি। ‘গরদ’ শব্দটির অর্থ হলো সাদা বা খাঁটি। এর জমিন সম্পূর্ণ সাদা বা অফ-হোয়াইট রঙের হয়ে থাকে এবং পাড় ও আঁচল তুলনামূলক সাধারণ হয়। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী হলেও গরদের শাড়ি এ দেশেও পরার চল আছে। উৎসব শেষে সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ করলে গরদের...
১২ ঘণ্টা আগে
পোশাকের সৌন্দর্য অনেকটা নির্ভর করে তার নকশার ওপর; বিশেষ করে গলার নকশা মুখ, ঘাড় ও কাঁধের সৌন্দর্যকে আলাদা করে ফুটিয়ে তোলে। তাই পছন্দের পোশাক পরলেই সাজ সম্পূর্ণ হয় না, তার সঙ্গে মানানসই গয়না বেছে নেওয়া বেশ জরুরি। একই হার এক পোশাকে যতটা আকর্ষণীয় দেখায়, অন্য পোশাকে সেটি হয়তো ততটা মানানসই না-ও হতে...
১৪ ঘণ্টা আগে
পর্যটকদের পকেট কাটা হচ্ছে ইতালিতে! শুনে অবাক না হয়ে পারা যায় না। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরাই বলছেন, বিষয়টি সত্য। খাবার সব সময় শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়। এটি মানুষের স্বাদস্মৃতির বাহন। এটি মনের গহিনে জমে থাকা এক চিরন্তন নস্টালজিয়া ও না-মেটা আক্ষেপ। মানুষের এই সর্বজনীন নস্টালজিয়া ও আবেগকে পুঁজি করে...
১৬ ঘণ্টা আগে