
‘কোনো কিছুতে তোমার মনোযোগ নেই’—এমন কথা শোনে না, তেমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। প্রতিটি ভাষায় এর আলাদা সংস্করণ আছে। কিন্তু আসলে এই ‘মনোযোগ’ বিষয়টি কী?
মনোযোগ বা অ্যাটেনশন হলো একটি মানসিক প্রক্রিয়া। সহজ করে বলা যায়, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্য সবকিছু থেকে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়, বস্তু বা চিন্তার ওপর মানুষ তার পুরো চেতনাকে কেন্দ্রীভূত করে, সেই প্রক্রিয়াই মনোযোগ। এটি আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কাজের দক্ষতা এবং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর অভাব মানেই আপনি ব্যর্থ নন। মনোযোগের অভাব একটি সংকেত। এই সংকেত দেখা দিলেই বুঝতে হবে, আপনার শরীর ও মন কিছুটা বিশ্রাম বা বাড়তি যত্নের কথা বলছে। ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করে এবং প্রয়োজনে পেশাদার মনোবিদের সাহায্য নিয়ে পুনরায় মনোযোগ ফিরে পাওয়া যেতে পারে।
মনোযোগ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ
মনোযোগ দিতে না পারা সব সময় কোনো বড় বিপদ নয়। তবে এটি শরীরের কোনো গুপ্ত সমস্যার সংকেত। এর কারণ হতে পারে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং ওসিডি। আবার শারীরিক সমস্যার কারণেও মনোযোগ কমে যেতে পারে। যেমন ঘুমের অভাব বা স্লিপ অ্যাপনিয়া, দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি। এ ছাড়া এডিএইচডি, ডিসলেক্সিয়া বা মাথায় আঘাতের কারণেও মনোযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যেমন বিষণ্নতার ওষুধ, কেমোথেরাপি বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া।
মনোযোগ বাড়ানোর বৈজ্ঞানিক টিপস

বিভিন্ন গবেষণায় গবেষকেরা দেখেছেন, কিছু ছোট অভ্যাসের কারণে আমাদের মস্তিষ্ক আরও বেশি মনোযোগী হয়ে উঠতে পারে। এগুলোর মধ্যে আছে—
মস্তিষ্কের ট্রেনিং: দিনে অন্তত ১৫ মিনিট সুডোকু, ক্রসওয়ার্ড পাজল, দাবা বা মেমোরি গেম খেললে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে।
ঘুমের মান উন্নয়ন: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম প্রয়োজন। ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন বন্ধ রাখা উচিত।
প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো: প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় পার্কে বা সবুজের মাঝে হাঁটাহাঁটি করলে মানসিক প্রশান্তি আসে এবং মনোযোগ বাড়ে। ইনডোর প্ল্যান্ট বা ঘরের ভেতর গাছ রাখাও এ ক্ষেত্রে সহায়ক।
টাইম ব্লকিং ও পোমোডোরো টেকনিক: একটানা কাজ না করে ২৫ মিনিট কাজ এবং ৫ মিনিট বিরতি, এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। কাজ করার সময় মোবাইল ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
সুষম খাদ্য: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (মাছ), ডিম, বেরি ও পালংশাকের মতো খাবার তালিকায় রাখুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
সুরেলা রাখুন কাজের পরিবেশ
গান বা শব্দ আমাদের মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তবে তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। কাজ বা পড়ার সময় হালকা শব্দ বা প্রকৃতির শব্দ মানসিক চাপ কমিয়ে মন শান্ত রাখে। তবে হ্যাঁ, কঠিন কোনো বিষয় পড়ার সময় গান না শোনাই ভালো। যদি শুনতেই হয়, তবে গানের বদলে বাদ্যযন্ত্রের সুর বা ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক বেছে নিন। গানের ভলিউম খুব কম রাখুন, যেন তা ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকে। খুব পছন্দের বা অপছন্দের গান এড়িয়ে চলুন, না হলে মন গানেই আটকে যাবে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
আমরা যা খাই, তার সরাসরি প্রভাব আমাদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ওপর পড়ে। মনোযোগ বাড়াতে প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সামুদ্রিক মাছ, ডিম, বেরি জাতীয় ফল ও পালংশাক মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। শরীর সামান্য পানিশূন্য হলেও মনোযোগ ধরে রাখা বা তথ্য মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নিজেকে সব সময় হাইড্রেটেড রাখা জরুরি। ক্যাফেইন মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার গতি বাড়াতে সাহায্য করে। কফি বা চা ছাড়া ৭০ শতাংশ কোকো সমৃদ্ধ ডার্ক চকলেট প্রায় একই ধরনের উপকার করে। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জাপানি গ্রিন টি বা মাচা-তে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল মস্তিষ্কের ক্ষয় রোধ করে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ায়। অনেকে মনোযোগ বাড়াতে ব্রাহ্মী শাক, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা জিনসেংয়ের মতো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে সাপ্লিমেন্টে পুষ্টির পরিমাণ খুব বেশি থাকে, যা সবার শরীরের জন্য নিরাপদ না-ও হতে পারে। তাই যেকোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাকৃতিক খাবার বা ভেষজ চা থেকে এই পুষ্টি গ্রহণ করা অনেক বেশি নিরাপদ।
কখন চিকিৎসক দেখাবেন
সাধারণ মনোযোগের অভাব এবং গুরুতর সমস্যার মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
জরুরি অবস্থা
মনোযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে তা জরুরি অবস্থার পর্যায়ে চলে যায়। সেগুলো হলো—
রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা
চিকিৎসকেরা সাধারণত আপনার স্বাস্থ্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করে এবং প্রয়োজনে কিছু পরীক্ষা করে চিকিৎসা দেবেন।
পরীক্ষা
রক্ত পরীক্ষা: হরমোনের মাত্রা বা পুষ্টির অভাব বুঝতে।
সিটি স্ক্যান: মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তন দেখতে।
ইইজি: মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ মাপতে।
বিহেভিয়ার থেরাপি: এডিএইচডি বা ওসিডিপির ক্ষেত্রে ওষুধ এবং থেরাপির সমন্বয় কার্যকর করার জন্য।
সূত্র: হেলথ লাইন

যতই ন্য়ুড শেডের লিপস্টিক ব্যবহার করুন, বোঝা যাবেই যে ঠোঁটে লিপস্টিক ছুঁইয়েছেন। যাঁরা ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করতে চান না, তবে চেহারায় একটা তরতাজা ভাব আনতে চান, তাঁদের কাছে লিপ টিন্ট খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
১৬ মিনিট আগে
এডিএইচডি শব্দটা আমরা প্রায়ই শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে দেখি। কিন্তু অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার বা এডিএইচডি কেবল শিশুদের নয়, বড়দেরও হতে পারে। অনেক সময় অবহেলা বা না জানার কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের এডিএইচডি নজরের বাইরে থেকে যায়। এটি ব্যক্তির নিজের জন্য তো ক্ষতিকরই, বৈবাহিক বা প্রেমের
২ ঘণ্টা আগে
ব্যস্ত জীবনযাত্রায় ঝটপট রান্না সারতে গিয়ে ফ্রিজ খুলে সোজাসুজি কড়াই বা ওভেনে খাবার চাপিয়ে দেওয়া অনেকের নিত্যদিনের অভ্যাস। বিশেষ করে ডিপ ফ্রিজে রাখা খাবার আমাদের সময় যেমন বাঁচায়, তেমনি খাবারের অপচয়ও রোধ করে। কিন্তু সব খাবার ফ্রিজ থেকে বের করেই সরাসরি রান্না করা যায় না।
৪ ঘণ্টা আগে
ব্যস্ত জীবনযাত্রা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, বংশগত কারণ কিংবা বয়স বাড়ার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। যে কারণই হোক না কেন, চোখের নিচে কালো দাগ ও ফোলা ভাব আমাদের ক্লান্ত ও বয়স্ক দেখায়। চোখের চারপাশের ত্বক অত্যন্ত পাতলা ও সংবেদনশীল হওয়ায় এখানে দাগ বা বয়সের ছাপ খুব দ্রুত ফুটে ওঠে।
১৯ ঘণ্টা আগে