Ajker Patrika

বয়স ৩৫! শরীর ও মনের যত্নে যা করবেন

ফিচার ডেস্ক
বয়স ৩৫! শরীর ও মনের যত্নে যা করবেন
৩৫ বছরে পা রাখার পর থেকে রোজ একবার আয়না দেখুন ভালোভাবে। ছবি: মঞ্জু আলম

বয়স কাঁটায় কাঁটায় ৩৫! ক্যারিয়ার, বিয়ে, সন্তান—সবকিছু ঘিরে এক ভরা জীবন। কিন্তু এর মধ্যে নিজের শরীর ও মনের সুস্থতার কথা ভুললে চলবে কেন? জানেন তো এই বয়সে নিজের কতটা যত্ন নিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করছে জীবনের বাকি অংশে আপনার ভালো বা মন্দ থাকা। এখন থেকে যদি সঠিক ওজন ধরে রাখা যায়, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের রুটিন মেনে চলা যায়, তাহলে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুন্দর থাকা সম্ভব। তাই ৩৫ বছরে পা রাখার পর যে কাজগুলো করবেন, তার তালিকায় চোখ বুলিয়ে নিন।

শরীরচর্চায় আর হেলা নয়

কাজের ব্যস্ততা থাকবেই। তবু শরীরচর্চার সময় বের করে নিন। যদি নিয়মিত স্ট্রেস ও অন্যান্য ব্যায়াম করার অভ্যাস করতে পারেন, তাহলে নিজেই ভালো বোধ করবেন। এতে শরীর ও মন ফুরফুরে হয়ে উঠবে। পাশাপাশি ঘুমও ভালো হবে। শুধু একটু ধৈর্য ধরে টানা দুই সপ্তাহ শরীরচর্চা করে দেখুন, এরপর তা হয়ে উঠবে দৈনন্দিন রুটিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ওজন থাকুক ঠিকঠাক

সাধারণত ৩৫-এর পর থেকে কমবেশি সবার ওজনের কাঠি উঠতে থাকে ওপরের দিকে। বলে রাখা ভালো, ৪০-এ পৌঁছানোর আগে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা শুরু করুন। আর তা হোক ৩০ থেকেই। কারণ, আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের ওজন যত সহজে বাড়ে, তত সহজে কমানো যায় না। তাই ৩৫-এ পা রাখার পর থেকে রোজ একবার আয়না দেখুন ভালোভাবে। শরীরের যেসব অংশে বাড়তি মেদ চোখে পড়বে, সেগুলো ঝরানোর জন্য ব্যায়ামের রুটিন সেট করে ফেলুন। পাশাপাশি খাদ্যতালিকা থেকে ছাঁটাই করুন চিনি।

এখন থেকে আর ঘুমের সঙ্গে কোনো আপস করবেন না। ছবি: মঞ্জু আলম
এখন থেকে আর ঘুমের সঙ্গে কোনো আপস করবেন না। ছবি: মঞ্জু আলম

পর্যাপ্ত ঘুমে আপস নয়

এখন থেকে আর ঘুমের সঙ্গে কোনো আপস করবেন না। প্রতিদিন রাতে চেষ্টা করুন একই সময় বিছানায় যেতে। বিছানায় যাওয়ামাত্রই যাতে ঘুমাতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনে কুসুম গরম পানিতে গোসল করে সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরে ঘুমাতে যান। সম্ভব হলে শুয়ে শুয়েই কিছুক্ষণ মেডিটেশন করুন। স্লিপ ডিসঅর্ডার বা ইনসমনিয়ায় ভুগলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং নিয়মমাফিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। জেনে রাখা ভালো, শরীরে ঘুমের চাহিদা পূর্ণ না হলে কাজকর্মে উদ্যম খুঁজে পাওয়া যায় না। পাশাপাশি মানসিক অবসাদও কাজ করে। তা ছাড়া বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

সব বাদ দিন, খুঁজে নিন প্রশান্তি

কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ, সংসার-সন্তান সবকিছু সামলে দিন শেষে নিজেকে নিজের খুঁজে পাওয়া চাই। এই বয়সে এসে আমার আমির খোঁজ করে মানুষ। তাই নিজেকে পর্যাপ্ত সময় দিন। দিনের কোনো এক ভাগে নিজের পছন্দের কাজটি করুন, যে কাজ আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়। পাশাপাশি শরীরের পক্ষে উপযোগী যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন করতে পারেন।

নিজেকে পর্যাপ্ত সময় দিন। ছবি: মঞ্জু আলম
নিজেকে পর্যাপ্ত সময় দিন। ছবি: মঞ্জু আলম

পাতে ফল ও শাকসবজির পরিমাণ বাড়ান

এখন থেকে ডায়েট চার্ট বদলে নিতে হবে। খাদ্যতালিকা থেকে লাল মাংস কমিয়ে প্রোটিন ও ভিটামিনের জোগান দিতে যোগ করুন পর্যাপ্ত মৌসুমি ফল ও শাকসবজি। ফল ও শাকসবজি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায় এবং শরীর তরতাজা রাখে। শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বয়স ধরে রাখতেও সহায়তা করে এগুলো।

প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান

গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোয় গাফিলতি করবেন না। কারণ, এই বয়সে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে। তাই সচেতন হতে হবে দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই। যদি বংশগতভাবে ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের ইতিহাস থেকে থাকে, তাহলে আগেভাগে পরীক্ষা করিয়ে জেনে নেওয়া ভালো।

সামাজিক সম্পর্কগুলোর যত্ন নিন

হঠাৎ একাকিত্ব বোধ বা অতি আবেগ কমবেশি সবাইকে পেয়ে বসে। ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তো রয়েছেই। আবার তারুণ্যের অবসান হয়ে যাচ্ছে, এ কথা ভেবেও চোখের কোণে জল নেমে আসে কখনো। এই মিশ্র অনুভূতি শুধু আপনার একার হচ্ছে, এ কথা ভাবার কোনো কারণ নেই। কাছের বন্ধুদেরও হচ্ছে। ব্যস্ততার কারণে এত দিন যেসব বন্ধুর খোঁজ নেওয়া হয়নি, তাঁদের ফোন করুন। কোথাও বসে একদিন জমিয়ে আড্ডা দিন। পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীর খোঁজখবর নিন। যত্নে রান্না করা খাবারের ভাগ তাঁদেরও দিন। সব সময় যুক্ত থাকুন আশপাশের মানুষের সঙ্গে। পৃথিবী বৈচিত্র্যময় মনে হবে।

বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রের ভারসাম্য বজায় রাখুন

ক্যারিয়ার গড়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আছেন আপনি। পাশাপাশি পরিবারেও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন। নিজের সংসার ও সন্তান হয়ে থাকলে আপনি পুরোদস্তুর অভিভাবক। এ বয়সে পেশা ও ব্যক্তিগত জীবন দুটোই সমানতালে এগিয়ে নিচ্ছেন। কোনোটার কারণে যাতে কোনোটা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি সামলানোর দায়িত্ব এখন আপনার। আর এ জন্য প্রয়োজন মানসিক শক্তি। কর্মক্ষেত্রের কাজ সেখানেই শেষ করে ফেলুন। বাড়িতে শুধু পরিবারের সদস্যদের সময় দিন।

সূত্র: ভেরি ওয়েল হেলথ ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত