
শীত শুধু আমাদের জীবনযাপনেই প্রভাব ফেলে না, এর প্রভাব প্রকৃতির প্রতিটি স্তরে পৌঁছে যায়। গাছপালাও এর বাইরে নয়। তাপমাত্রা কমে গেলে টবের মাটি আর্দ্রতা হারাতে থাকে। কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে পাতায় জমে থাকা পানি রাতভর শুকায় না। ফলে পানি, আলো ও পুষ্টি এই তিন মূল উপাদানের সরবরাহে পরিবর্তন আসে। ঘরের ভেতর, বারান্দা বা ছাদের টবে থাকা গাছগুলোর তাই শীতে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। সঠিক সময় ও সঠিক পদ্ধতিতে যত্ন নিলে গাছ সুস্থ থাকবে এবং বসন্তের শুরুতেই নতুন কুঁড়ি ও পাতা নিয়ে আরও সতেজ হয়ে উঠবে।
পানি, মাটি ও সূর্যের আলোর সঠিক ভারসাম্য

শীতে গাছের যত্নে প্রথম যে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে তা হলো, গাছে পানি দেওয়া। অনেকেই ভাবেন ঠান্ডায় গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে, তাই বেশি পানি দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত পানি শীতকালে গাছের বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে পানি সহজে শুকায় না। ফলে টবের মাটি স্যাঁতসেঁতে হয়ে গাছের গোড়া পচে যেতে পারে। তাই পানি দেওয়ার আগে টবের মাটি আঙুল দিয়ে দেখে নিন। যদি ওপরের স্তরটি শুকনো হয়, তবেই পানি দিন। সূর্যের আলো শীতে তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। তাই গাছগুলোকে এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে সকালের রোদ পড়বে। কিছু সময় পরপর টব সরিয়ে গাছে আলো পড়ার সুযোগ দিন। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু আলো ও পানি নয়, গাছের বৃদ্ধির জন্য পুষ্টিকর মাটিও জরুরি। শীতের শুরুতে টবের মাটি একটু নরম করে দিন, প্রয়োজনে ওপরের ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার পুরোনো মাটি সরিয়ে নতুন সমৃদ্ধ মাটি দিন।
নতুন গাছ, টব ও পাতার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা
অনেকে নতুন গাছ কিনে এনে সঙ্গে সঙ্গে টবে রোপণ করেন। কিন্তু সদ্য কেনা গাছ পরিবেশ পরিবর্তনের জন্য খুব সংবেদনশীল থাকে। টবে চারা বসানোর সময় আগে অর্ধেক মাটি দিন, যাতে শিকড় বেশি নড়াচড়া না করে। গাছটিকে আগের মাটিসহ খুব আলতো করে সেই টবের মাঝখানে বসিয়ে দিন। নতুন আলো, আর্দ্রতা আর তাপমাত্রায় মানিয়ে নিতে গাছকে কয়েক দিন একই অবস্থায় রাখুন। কয়েক দিন পর চাইলে টবের মাটি বাড়িয়ে বা প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে নিতে পারেন। শীতে পাতায় ধুলাবালু জমে আলো পেতে বাধা সৃষ্টি করে। এটি গাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া কমিয়ে দেয়। তাই পানি দেওয়ার সময় পাতায় জমা ধুলাও ধুয়ে দিন। গাছ যদি বড় হয়, তাহলে ভেজা কাপড় দিয়ে পাতাগুলো আস্তে করে মুছে দিতে পারেন।
পর্যাপ্ত পুষ্টির জোগান নিশ্চিত করুন
গাছের শক্তি বাড়ানোর জন্য শীতে জৈব সার খুব উপকারী। মাটিতে ভার্মি কম্পোস্ট, খৈল, জৈব সার বা গোবর সার মিশিয়ে দিতে পারেন। এগুলো ধীরে ধীরে গাছে পুষ্টি সরবরাহ করে। যাঁরা ঘরোয়া পদ্ধতিতে সার তৈরি করতে চান, তাঁরা সহজেই বাড়ির রান্নাঘরের কিছু বর্জ্য দিয়ে সার বানাতে পারেন। যেমন কলার খোসা, ডিমের খোসা, পেঁয়াজ বা রসুনের খোসা, লেবুর খোসা এবং সবজির খোসা কয়েক দিন পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পচা পানি সরাসরি গাছের গোড়ায় দিতে পারেন।

পানি কম দিন এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
শীতের রাতে কুয়াশা টবের মাটি ভেজা রাখে। তাই অনেক গাছের ক্ষেত্রে দিনে একবার পানি দেওয়াই যথেষ্ট। গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকা বা দীর্ঘ সময় মাটি ভিজে থাকা গাছের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত আর্দ্রতায় শিকড় পচে যায় এবং ছত্রাক জন্মায়। তাই টবের নিচের ড্রেনেজ হোল যেন খোলা থাকে, সেটা প্রতিবার পানি দেওয়ার আগে দেখে নিন। শীতে রোদ কম পাওয়া গেলে গাছ যতটা সম্ভব রোদে রাখুন। সকালে রোদ উঠলেই টবগুলোকে বারান্দা বা ছাদের এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে কিছু সময় রোদ লাগবে। রোদ গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং পাতা উজ্জ্বল রাখে।
পোকামাকড় ও ছত্রাক দূর করতে
ঠান্ডা মৌসুমে গাছের পাতায় ছত্রাক, মিলিবাগ, মাকড়সা কিংবা ছোট ছোট পোকা বাসা বাঁধতে পারে। তাই নিয়মিত পাতার নিচের অংশ, ডাঁটা ও গোড়া পরীক্ষা করুন। পোকামাকড় দূর করতে প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করা নিরাপদ ও কার্যকর। যেমন রসুনের রস, হলুদের গুঁড়া, নিমের তেল, ভিনেগার, কমলা বা লেবুর খোসা ভেজানো পানি ইত্যাদি।
এই পানির সঙ্গে আরও কিছু পানি মিশিয়ে পাতলা করে স্প্রে করলে পোকামাকড় কমে যায় এবং ছত্রাক ছড়াতে পারে না। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বাগানবিষয়ক গ্রুপে এখন নিয়মিত টিপস, রোগবালাই শনাক্তকরণ এবং পরিচর্যার পরামর্শ পাওয়া যায়। প্রয়োজনে সেসব থেকেও সহায়তা নিতে পারেন।

আজ আপনার আকাশছোঁয়া সাহস, কিন্তু ফিউজ হওয়া বাল্ব। লটারি বা শেয়ার বাজারে ভাগ্য পরীক্ষা করতে যাবেন না; বরং সেই টাকায় একটা ডাব কিনে খেয়ে পেট ঠান্ডা রাখুন। আজ আপনার সাহস বাঘের মতো গর্জন করবে বটে, কিন্তু অফিস বা বাড়িতে বসের সামনে গেলেই সেটা ভয়ে বিড়ালের মতো মিউ মিউ শুরু করতে পারে।
১ ঘণ্টা আগে
সুস্থ থাকার জন্য দিনে ১০ হাজার কদম হাঁটার লক্ষ্য এখন অনেকের রুটিন। কিন্তু আপনি মোট কত কদম হাঁটছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কীভাবে হাঁটছেন।’ অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, সারা দিন অল্প অল্প করে না হেঁটে একনাগাড়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা...
২ ঘণ্টা আগে
আজ বিশ্ব পরিবার দিবস। দিবসটিকে ঘিরে এবারের প্রতিপাদ্য—‘ফ্যামিলিস, ইনইক্যুয়ালিটিস অ্যান্ড চাইল্ড ওয়েলবিং’ অর্থাৎ পরিবার, অসমতা ও শিশুর কল্যাণ। আমাদের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা, বিশ্বায়ন আর বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পরিবার দিবসটি এখন ভিন্ন এক তাৎপর্য বহন করছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
বিশ্ব অর্থনীতির ‘ব্যারোমিটার’ হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুর। দেশটি ২০২৬ সালে পর্যটন খাতের আয় কিছুটা কমার পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও দেশটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে পর্যটন ব্যয়ে কিছুটা মন্দাভাব দেখা যেতে পারে।
১৭ ঘণ্টা আগে