Ajker Patrika

বিশ্বমঞ্চে গ্রিন ইউনিভার্সিটির নতুন মাইলফলক: এআরসি ২০২৬-এ বিশ্বে ষষ্ঠ এবং এশিয়ায় শীর্ষস্থান অর্জন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৩২
বিশ্বমঞ্চে গ্রিন ইউনিভার্সিটির নতুন মাইলফলক: এআরসি ২০২৬-এ বিশ্বে ষষ্ঠ এবং এশিয়ায় শীর্ষস্থান অর্জন
তুরস্কে স্পেস রোবোটিকস প্রতিযোগিতায় গ্রিন ইউনিভার্সিটি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

আন্তর্জাতিক স্পেস রোবোটিকস প্রতিযোগিতা অ্যানাটোলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ (এআরসি) ২০২৬-এ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (জিইউবি) মার্স রোভার টিম। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দলটি ২০টি ফাইনালিস্ট দলের মধ্যে বিশ্বে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছে।

প্রতিযোগিতাজুড়ে অসাধারণ অধ্যবসায়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অদম্য মনোবল, সমস্যা সমাধানে দক্ষতা এবং অনন্য দলগত চেতনার স্বীকৃতিস্বরূপ গ্রিন ইউনিভার্সিটি মার্স রোভার টিম অর্জন করেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘মোস্ট রেজিলিয়েন্ট টিম (Most Resilient Team) ’ সম্মাননা।

গত ২৯ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শুরুতে ৪০ টিরও বেশি আন্তর্জাতিক দল প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে মাত্র ২০টি দল ফাইনালে উন্নীত হয়। সেই সেরা দলগুলোর কাতারে থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে গ্রিন ইউনিভার্সিটি মার্স রোভার টিম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রকৌশল শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে বাস্তবসম্মত মহাকাশ মিশনের আদলে বিভিন্ন জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। মার্স রোভারের নকশা, স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি এবং দলগত সমন্বয়ের ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্ভাবকেরা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।

গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন এ অর্জনে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আজকের এই অর্জন শুধু গ্রিন ইউনিভার্সিটির নয়, সমগ্র বাংলাদেশের। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্পেস রোবোটিকস প্রতিযোগিতায় বিশ্বে ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন, এশিয়ার সেরা দল হিসেবে স্বীকৃতি এবং ‘মোস্ট রেজিলিয়েন্ট টিম’ সম্মাননা লাভ আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও উদ্ভাবনী শক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আমাদের শিক্ষার্থীরা আবারও প্রমাণ করেছে, সঠিক দিকনির্দেশনা, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা এবং নিরলস পরিশ্রম থাকলে বাংলাদেশের তরুণেরাও বিশ্বসেরাদের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতা করতে পারে। আমি আমাদের মার্স রোভার টিমের প্রতিটি সদস্য, উপদেষ্টা, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি আন্তরিক সহযোগিতা ও নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, টার্কিশ এয়ারলাইনস, ওয়ালটন এবং আকিজ গ্রুপের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গবেষণায় আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। ”

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ শুরু থেকেই গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতেও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সমুন্নত রাখতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই অর্জন শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, প্রকৌশল শিক্ষা এবং তরুণ উদ্ভাবকদের সক্ষমতার একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। গবেষণা, রোবোটিকস, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকাশে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টারই গৌরবময় প্রতিফলন এই সাফল্য।’

বিশ্ববিদ্যালয়টি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, এই আন্তর্জাতিক অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করবে এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

উল্লেখ্য, অ্যানাটোলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ (এআরসি) বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্পেস রোবোটিকস প্রতিযোগিতা। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবিত মার্স রোভার নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করে। বাস্তবধর্মী মহাকাশ অভিযানের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রকৌশল দক্ষতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা, দলগত সমন্বয় এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তিবিদ ও রোবোটিকস গবেষকদের জন্য এই প্রতিযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত