বিউটি কিংবা রূপচর্চার জগতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ট্রেন্ড আসে—কখনো ম্যাট লুক, কখনো বা গ্লিটারি মেকআপ। তবে এবারের ট্রেন্ডটি একটু ভিন্ন এবং বেশ আরামদায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটক অথবা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করলেই এখন চোখে পড়ছে থলথলে, কাচের মতো স্বচ্ছ আর জেলির মতো দেখতে কিছু প্রসাধনী। রূপচর্চার এই নতুন ধারাই এখন জেলি বিউটি নামে পরিচিত।
■ জেলি বিউটি আসলে কী
জেলি বিউটি কোনো নির্দিষ্ট একটি পণ্য নয়, বরং এটি রূপচর্চার একটি নতুন ধরন। ময়শ্চারাইজার, ওভারনাইট মাস্ক, ক্লিনজার থেকে শুরু করে আই-প্যাচ কিংবা মেকআপ—সবকিছুতেই এখন জেলির মতো নরম ও স্থিতিস্থাপক ফর্মুলা ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পণ্যগুলো দেখতে অনেকটা ডেজার্ট বা পুডিংয়ের মতো, যা ত্বকে ছোঁয়ালেই একনিমেষে মিলিয়ে যায় এবং প্রচণ্ড গরমে ঠান্ডা বরফের মতো আরাম দেয়।
■ কেন এত ট্রেন্ডি
বিউটি ইন্ডাস্ট্রি কয়েক বছর ধরে খুব বেশি কেমিক্যাল কিংবা রাসায়নিক-নির্ভর ছিল। কড়া অ্যাসিড বা ১২ ধাপের জটিল রুটিন মেনে চলতে গিয়ে অনেকের ত্বকই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। জেলি বিউটি সেই জটিলতা থেকে মুক্তির একটি পথ। এটি এত বেশি ট্রেন্ডি হওয়ার কিছু কারণ অবশ্য আছে—
■ মানসিক প্রশান্তি/
জেলির মতো এই ফর্মুলা ব্যবহার করা বেশ তৃপ্তিদায়ক। আঙুল দিয়ে টিপলে এটি যে বাউন্স করে বা দেবে যায়, তা একধরনের মানসিক প্রশান্তি দেয়। এ ছাড়া হালকা
ও রেশমি টেক্সচার ত্বকে মাখলে মুহূর্তেই সতেজ অনুভূতি হয়।
■ সজীব ও প্রাণবন্ত ত্বক
বর্তমানে ভারী মেকআপের চেয়ে ত্বকের স্বাভাবিক সজীবতাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। জেলি টেক্সচারের পণ্যগুলো মূলত ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে একটি সতেজ ও উজ্জ্বল লুক তৈরি করে। এই ফর্মুলাগুলো ত্বকে এমন এক প্রাকৃতিক গ্লো যোগ করে, যাতে সামনাসামনি এবং ক্যামেরার লেন্সেও ত্বক সুস্থ ও প্রাণবন্ত দেখায়।
■ বিজ্ঞানের ছোঁয়া
এই পণ্যগুলো শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এর পেছনে রয়েছে আধুনিক বিজ্ঞান। উচ্চমাত্রার পানিসমৃদ্ধ এই ফর্মুলায় প্রচুর হিউমেকট্যান্ট থাকে,
যা অনেকটা চুম্বকের মতো বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে নিয়ে ত্বকের ভেতরে আটকে রাখে। ফলে কোনো রকম চটচটে ভাব ছাড়াই ত্বক দীর্ঘক্ষণ কোমল ও প্রাণবন্ত থাকে এবং ত্বক ভারী না হয়েই নিশ্চিত হয় দীর্ঘস্থায়ী হাইড্রেশন।
■ ত্বকের যত্নে জেলি প্রসাধনীর উপকারিতা
জেলির মতো হালকা ও রেশমি এই ফর্মুলাগুলো খুব সহজে এবং কোনো রকম চটচটে ভাব ছাড়াই ত্বকের গভীরে মিশে যায়। বিশেষ করে সংবেদনশীল, লালচে অথবা ব্রণপ্রবণ ত্বকের
জন্য জেলি মাস্ক বা ক্লিনজার অত্যন্ত কার্যকর ও আরামদায়ক সমাধান। এটি ত্বকে কোনো বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করেই প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর কিংবা স্কিন ব্যারিয়ার মেরামত করতে সাহায্য করে।
■ কীভাবে ব্যবহার করবেন
মেকআপে: জেলি ব্লাশন বা হাইলাইটার আঙুলের ডগায় নিয়ে চিক বোন কিংবা টি জোনে ব্যবহার করুন। এতে ত্বকে আলাদা আস্তরণ তৈরি না হয়ে ভালোভাবে মিশে যাবে। যাঁরা খুব হালকা মেকআপ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি সেরা।
ত্বকের যত্নে: প্রথমে ত্বক পরিষ্কার করে নিন। এরপর জেলি সেরাম অথবা এসেন্স ব্যবহার করুন। সব শেষে একটি ময়শ্চারাইজার কিংবা স্লিপিং মাস্ক লাগিয়ে নিন। এটি ত্বকের পানিশূন্যতা দূর করার পাশাপাশি ত্বক দীর্ঘ সময় সতেজ রাখবে।
■ এটি কি সাময়িক ট্রেন্ড
অনেকে মনে করতে পারেন, এটি হয়তো সাময়িক কোনো ফ্যাশন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। প্যাকেজিং বা নাম পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু আরামদায়ক ও কার্যকর বিউটি প্রোডাক্টের চাহিদা কখনো কমবে না। ত্বকে কষ্ট দিয়ে সুন্দর করার চেয়ে ভালোবেসে আগলে রাখার যে সংস্কৃতি জেলি বিউটি শুরু করেছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ভোগ অ্যারাবিয়া ও অন্যান্য

বিশ শতকের শুরুর দিকে যখন কর্নফ্লেক্স আর গ্রানোলা বারকে ‘হেলথ ফুড’ হিসেবে মার্কেটিং করা শুরু হয়, তখন থেকে আমরা শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের মোহে পড়ে প্রোটিন অবহেলা করতে শুরু করেছি। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, আপনার শরীরের প্রতিটি কোষ থেকে শুরু করে হরমোনের ভারসাম্য—সবকিছুর চালিকা শক্তি হলো এই প্রোটিন...
৪ ঘণ্টা আগে
বিষয়টি এখন আর সেলেনা গোমেজ বা কিম কার্দাশিয়ানের মতো সেলিব্রিটিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন অনেকে সম্পর্কে বিচ্ছেদের মতো জীবনের একটি কঠিন ঘটনার পর পারলারে গিয়ে চুলে দিচ্ছেন ইচ্ছেমতো কাট। মনে হচ্ছে, বিচ্ছেদের পুরো দায়দায়িত্ব চুলের। আর কেটে ফেললেই পাওয়া যাবে শান্তি।
৫ ঘণ্টা আগে
আমাদের সারা দিনের খাদ্যতালিকার দিকে তাকালে দেখা যাবে, সকাল থেকে রাত, প্রতি বেলার খাবার শর্করায় ভরপুর। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, টানা ৩০ দিন যদি এই শর্করা খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেন তবে আপনার শরীরে কী কী পরিবর্তন দেখা দিতে পারে? এক মাস সময়টি আসলে খুব দীর্ঘ না হলেও শরীরের অভ্যন্তরীণ...
৭ ঘণ্টা আগে
ক্যালেন্ডারের পাতায় আজকের দিনটি এক অদ্ভুত নামে পরিচিত। তা হলো ‘ব্লা ব্লা ব্লা ডে’। শুনতে কিছুটা হাস্যকর মনে হলেও, এদিনটির গুরুত্ব কিন্তু আমাদের যাপিত জীবনের জন্য বেশ গভীর। মা-বাবা বলছেন, শরীরের যত্ন নিতে, বন্ধু বলছে, জমানো কাজগুলো শেষ করতে; কিন্তু আপনি সেগুলো কানেই তুলছেন না।
১০ ঘণ্টা আগে