Ajker Patrika

যেসব খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করবেন না

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
যেসব খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করবেন না
কিছু খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করলে শুধু তার স্বাদ ও টেক্সচারই নষ্ট হয় না, বরং তা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা বিষক্রিয়া। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

ব্যস্ত জীবন। অনেক সময় প্রতিবেলা রান্না করার মতো সময় কিংবা শক্তি থাকে না। তাই আগে রেঁধে রাখা খাবারটি গরম করে খাওয়াটাই যেন একমাত্র সমাধান। বাসি খাবার দ্রুত গরম করার জন্য মাইক্রোওয়েভ ওভেন আমাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। অফিস বা ঘরের ব্যস্ততায় কয়েক মিনিটেই খাবার ধোঁয়া ওঠা গরম করে নেওয়ার সুবিধা অতুলনীয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, সব খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করার জন্য উপযুক্ত নয়? কিছু খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করলে শুধু তার স্বাদ ও টেক্সচারই নষ্ট হয় না, বরং তা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা বিষক্রিয়া।

যেসব খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করবেন না

শাকসবজি ও প্রাকৃতিক খাবার

পালংশাক, বাঁধাকপি বা বিটের মতো পাতাযুক্ত সবজিতে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রেট থাকে। মাইক্রোওয়েভের তীব্র তাপে এই নাইট্রেট ‘নাইট্রোসামাইন’-এ রূপান্তরিত হতে পারে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া আলু গরম করার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি; সেদ্ধ করা আলু বেশিক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে তাতে ব্যাকটেরিয়া গজায়, যা মাইক্রোওয়েভে গরম করলেও নষ্ট হয় না। তাই সবজি ও আলু ওভেনে কিংবা চুলায় মৃদু তাপে গরম করা নিরাপদ।

প্রোটিন, ডিম ও সামুদ্রিক খাবার

মাইক্রোওয়েভে সেদ্ধ ডিম গরম করতে গেলে ভেতরে বাষ্প জমে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আর স্ক্র্যাম্বল বা ভাজা ডিম হয়ে পড়ে রাবারের মতো শক্ত। আবার মুরগির মাংস, স্টেক বা মাছের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার মাইক্রোওয়েভে অতিরিক্ত শুকিয়ে শক্ত ও ড্রাই হয়ে যায়। যেকোনো সি-ফুড বা মাছ গরম করলে এর স্বাদ নষ্ট হয়। আবার ঘরজুড়ে ছড়ায় অপ্রীতিকর গন্ধ। এগুলো ফ্রাইং প্যানে সামান্য তেলে বা ওভেনে ধীরগতিতে গরম করা বুদ্ধিমানের কাজ।

ভাজাপোড়া ও মচমচে খাবার

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পিৎজা, শিঙাড়া, পাকোড়া কিংবা টেম্পুরার মতো ভাজাপোড়া খাবার মাইক্রোওয়েভে দিলে নরম, প্যাচপ্যাচে ও তেলতেলে হয়ে যায়। এগুলোর আসল মচমচে ভাব বা ‘ক্রিসপিনেস’ ধরে রাখতে এয়ার ফ্রায়ার বা সাধারণ ওভেন ব্যবহার করুন। ফ্রাইং প্যানে হালকা সঁতে করে নিলেও মচমচে ভাব ফিরে আসে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার ও সস

প্রসেসড মিট (যেমন সসেজ বা পেস্ট্রি) এবং ঘন টমেটো সস মাইক্রোওয়েভে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। টমেটো সসের ভেতর থেকে বাষ্প বের হতে না পেরে তা ওভেনের দেয়ালে ছিটে এসে বিচ্ছুরিত হয়, এমনকি এতে হাত পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর প্রক্রিয়াজাত মাংসের রাসায়নিকগুলো ওভেনের তাপে আরও ক্ষতিকর রূপ নেয়। সস বা কেচাপ-জাতীয় খাবার পাত্রে নিয়ে চুলায় গরম করা ভালো।

তরল ও বেক করা খাবার

মাইক্রোওয়েভে মগে করে পানি গরম করলে তা হঠাৎ বিস্ফোরিত হতে পারে। অন্যদিকে চা-কফি বা বুকের দুধ গরম করলে তার পুষ্টিগুণ ও স্বাদ নষ্ট হয়। এ ছাড়া পাউরুটি বা বেক করা পেস্ট্রি ওভেনে দিলে তা শুকিয়ে কড়া হয়ে যায়। রুটি বা বেকড খাবার সামান্য পানি ছিটিয়ে সাধারণ ওভেনে ৩-৫ মিনিট গরম করলে তা তুলতুলে ও তাজা থাকে।

জরুরি টিপস

যেকোনো খাবার একবারের বেশি বারবার গরম করা উচিত নয়। এতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। প্রতিটা খাবারের স্বাদ ও গুণগত মান বজায় রাখতে ওভেনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ার ফ্রায়ার, প্যান বা চুলার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

সূত্র: টেস্টিং টেবিল, সাউদার্ন লিভিং

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত